কেন হঠাৎ উধাও হয়েছিলেন? অস্ত্রোপচারের পর মুখ খুললেন সুমনা চক্রবর্তী
গত কয়েক মাস ধরে বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সুমনা চক্রবর্তীকে যেন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। না কোনও নতুন কাজের ঘোষণা, না সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও আপডেট।
গত কয়েক মাস ধরে বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সুমনা চক্রবর্তীকে যেন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। না কোনও নতুন কাজের ঘোষণা, না সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও আপডেট। তাঁর এই হঠাৎ অন্তর্ধান ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে কম জল্পনা তৈরি হয়নি। অবশেষে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলেন অভিনেত্রী নিজেই। জানালেন, ক্যামেরার আড়ালে চলছিল এক কঠিন শারীরিক ও মানসিক লড়াই। সেই লড়াইয়ের শেষ অধ্যায় ছিল একটি জটিল অস্ত্রোপচার।
ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টে সুমনা জানিয়েছেন, গত ৪ মে তাঁর এন্ডোমেট্রিওসিসের অস্ত্রোপচার হয়েছে। বহু বছর ধরেই এই রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। ওষুধ এবং নানা ধরনের চিকিৎসার সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমস্যা এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না। অভিনেত্রীর কথায়, পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে বিকল্প কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগই আর ছিল না।
অস্ত্রোপচারের পরের দু'মাস তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে জনসমক্ষে থেকে সরিয়ে রেখেছিলেন। ইচ্ছাকৃতভাবেই দূরে ছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও। সেই সময়টা কেটেছে শুধুই সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াইয়ে। শুধু শরীর নয়, মনকেও নতুন করে সামলে তুলতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর উপলব্ধি, শরীর যখন বারবার সতর্কবার্তা দেয়, তখন তাকে অবহেলা করলে তার মূল্য একসময় চোকাতেই হয়। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জীবনকে নতুন করে দেখতে শিখিয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
এই কঠিন সময়ের পাশে থাকার জন্য নিজের চিকিৎসক এবং গোটা মেডিক্যাল টিমের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমনা। তাঁর কথায়, তাঁরা শুধু চিকিৎসাই করেননি, একজন রোগীর মানসিক অবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পাশে থেকেছেন। সেই আন্তরিক যত্ন এবং সাহসই তাঁকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার শক্তি দিয়েছে।
এই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনদর্শনও বদলে দিয়েছে। একসময় এতটাই ক্লান্ত এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ সরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম মুছে ফেলার ইচ্ছাও হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন, প্রযুক্তিকে এড়িয়ে নয়, বরং বাস্তব জীবনের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে ব্যবহার করাই বেশি জরুরি। কারণ এখনও তাঁর কাজ রয়েছে, পরিবার রয়েছে, বন্ধু রয়েছে, আর রয়েছে বেঁচে থাকার অসংখ্য কারণ।
তাই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেরার সিদ্ধান্তও একেবারে নতুন ভাবনায়। জনপ্রিয়তার হিসাব, লাইক, কমেন্ট কিংবা ফলোয়ারের সংখ্যাকে আর গুরুত্ব দিতে চান না তিনি। বরং এমন একটি ইতিবাচক পরিসর তৈরি করতে চান, যেখানে সমমনস্ক মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারবেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য এমন একটি নিরাপদ কমিউনিটি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি, যেখানে এন্ডোমেট্রিওসিস, পেরিমেনোপজ, মানসিক স্বাস্থ্য, স্বাধীন জীবনযাপন, ভ্রমণ, বই, পোষ্য প্রাণী, খাদ্যাভ্যাস কিংবা সন্তান ছাড়া দাম্পত্য জীবন (DINK) নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা যাবে। তাঁর বিশ্বাস, নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলে অনেকেই সাহস পাবেন এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যাকে লুকিয়ে না রেখে সময়মতো চিকিৎসার পথে এগিয়ে যাবেন।
তবে নিজের এই পোস্টের উদ্দেশ্য নিয়ে শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সহানুভূতি কুড়োনো বা প্রচারের আলোয় আসার জন্য এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেননি। বরং তাঁর একটাই ইচ্ছে, এই গল্প যদি একজন মানুষকেও নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিতে শেখায়, তাহলেই এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি সার্থক হবে।
উল্লেখ্য, টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান Comedy Nights with Kapil-এ মঞ্জু শর্মার চরিত্রে অভিনয় করে গোটা দেশের দর্শকের কাছে পরিচিতি পান সুমনা চক্রবর্তী। পরে তাঁকে Khatron Ke Khiladi 14-এর মতো রিয়্যালিটি শোতেও দেখা গিয়েছে। এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি। নতুন উদ্যমে আবারও কাজের জগতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেত্রী। তবে তাঁর এই ব্যক্তিগত লড়াই কি শুধু একজন তারকার গল্প হয়েই থেকে যাবে, নাকি আরও বহু নারীকে নিজেদের শরীরের নীরব সংকেত শুনতে এবং সময়মতো চিকিৎসার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে? উত্তরটা হয়তো লুকিয়ে রয়েছে সুমনার এই সাহসী স্বীকারোক্তির মধ্যেই।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)