মেঘের দেশে আংটি বদল! নিউ ইয়র্কের প্রেমের গল্প কেন মনে করিয়ে দিল ভারতের ‘মাউন্টেন ম্যান’কে?
একদিকে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় প্রেম নিবেদন, অন্যদিকে ২২ বছর ধরে পাহাড় কেটে তৈরি করা রাস্তা! নিউ ইয়র্কের প্রেমের গল্প কেন মনে করিয়ে দিল ভারতের ‘মাউন্টেন ম্যান’ দশরথ মাঝিকে?
প্রেম মানেই এক অদ্ভুত উন্মাদনা, এক আকাশছোঁয়া আবেগ। কখনও সেই আবেগ মানুষকে নিয়ে যায় পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ইমারতের চূড়ায়, আবার কখনও সেই একই অনুভূতি একজন মানুষকে দিয়ে একা হাতে কেটে ফেলিয়ে দেয় আস্ত একটা পাহাড়। যুগের পরিবর্তন ঘটলেও ভালবাসার গভীরতা আর তার প্রকাশের ব্যাকুলতা কিন্তু এতটুকুও কমেনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নিউ ইয়র্কের এক রোমাঞ্চকর প্রেমের গল্প যেন নতুন করে সেই চিরন্তন আবেগকে উস্কে দিয়েছে।
আমেরিকার নিউ ইয়র্কের আকাশছোঁয়া বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং। ১,৪৫৪ ফুট উঁচু এই ঐতিহাসিক টাওয়ারের চূড়ায় উঠে এক যুগলের প্রেম নিবেদনের ভিডিও এখন নেটপাড়ায় ঘুরছে সর্বত্র। জনপ্রিয় সিনেমা ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটল’-এর স্মৃতিবিজড়িত এই ভবনের একেবারে মাথায় চড়ে, কোনও রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ভালবাসার বার্তা লেখা একটি ব্যানার ওড়াচ্ছিলেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ওই অত উঁচুতে দাঁড়িয়েই যুবক তাঁর প্রেমিকার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তাঁর হাতে আংটি পরিয়ে দিচ্ছেন, এমন এক অভূতপূর্ব ছবিও দেখা গিয়েছে ভাইরাল ওই ভিডিওতে।
তবে সিনেমার মতো দেখতে এই মুহূর্তটি যতটা রোমাঞ্চকর ছিল, ঠিক ততটাই ছিল বিপজ্জনক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গগনচুম্বী টাওয়ারে চড়ার জন্য কোনও অনুমতিই নেননি ওই যুগল। আর এই মারাত্মক ও বেআইনি ঝুঁকি নেওয়ার জেরে শেষমেশ পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। ভালবাসার এমন সুন্দর এক উদযাপনের শেষ পরিণতি কেন গ্রেফতারিতে হল— এই নিয়েই এখন তুমুল চর্চা নেটদুনিয়ায়।

প্রেম মানেই এক অদ্ভুত উন্মাদনা, এক আকাশছোঁয়া আবেগ। কখনও সেই আবেগ মানুষকে নিয়ে যায় পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ইমারতের চূড়ায়, আবার কখনও সেই একই অনুভূতি একজন মানুষকে দিয়ে একা হাতে কেটে ফেলিয়ে দেয় আস্ত একটা পাহাড়। যুগের পরিবর্তন ঘটলেও ভালবাসার গভীরতা আর তার প্রকাশের ব্যাকুলতা কিন্তু এতটুকুও কমেনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নিউ ইয়র্কের এক রোমাঞ্চকর প্রেমের গল্প যেন নতুন করে সেই চিরন্তন আবেগকে উস্কে দিয়েছে।
আমেরিকার নিউ ইয়র্কের আকাশছোঁয়া বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং। ১,৪৫৪ ফুট উঁচু এই ঐতিহাসিক টাওয়ারের চূড়ায় উঠে এক যুগলের প্রেম নিবেদনের ভিডিও এখন নেটপাড়ায় ঘুরছে সর্বত্র। জনপ্রিয় সিনেমা ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটল’-এর স্মৃতিবিজড়িত এই ভবনের একেবারে মাথায় চড়ে, কোনও রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ভালবাসার বার্তা লেখা একটি ব্যানার ওড়াচ্ছিলেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ওই অত উঁচুতে দাঁড়িয়েই যুবক তাঁর প্রেমিকার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তাঁর হাতে আংটি পরিয়ে দিচ্ছেন, এমন এক অভূতপূর্ব ছবিও দেখা গিয়েছে ভাইরাল ওই ভিডিওতে।
তবে সিনেমার মতো দেখতে এই মুহূর্তটি যতটা রোমাঞ্চকর ছিল, ঠিক ততটাই ছিল বিপজ্জনক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গগনচুম্বী টাওয়ারে চড়ার জন্য কোনও অনুমতিই নেননি ওই যুগল। আর এই মারাত্মক ও বেআইনি ঝুঁকি নেওয়ার জেরে শেষমেশ পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। ভালবাসার এমন সুন্দর এক উদযাপনের শেষ পরিণতি কেন গ্রেফতারিতে হল— এই নিয়েই এখন তুমুল চর্চা নেটদুনিয়ায়।

আর এই ঘটনার সূত্র ধরেই নেটনাগরিকদের একাংশের মনে পড়ে গিয়েছে ভারতের 'মাউন্টেন ম্যান' দশরথ মাঝির কথা। যাঁর ভালবাসায় আজকের যুগের মতো কোনও ক্যামেরা ছিল না, ছিল না আলো বা রাতারাতি ভাইরাল হওয়ার চটকদার আকাঙ্ক্ষা। পাহাড়ের ওপারে থাকা হাসপাতালে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় চোখের সামনে স্ত্রী ফাগুনিয়ার মৃত্যু হতে দেখেছিলেন দশরথ। সেই বুকফাটা কষ্ট থেকেই একাই হাতুড়ি আর ছেনি নিয়ে টানা ২২ বছর ধরে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর সেই কঠিন পথ শুধু স্ত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাই ছিল না, বরং হাজার হাজার মানুষের জীবনকেও সহজ করে দিয়েছিল।

একদিকে আকাশছোঁয়া অট্টালিকার মাথায় দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিটের রোমাঞ্চ ও চমক, অন্য দিকে বছরের পর বছর ধরে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা এক নিঃস্বার্থ জীবনের পথ। এই বৈপরীত্য দেখেই আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখছেন, ‘ভালবাসা প্রমাণ করতে সব সময় আকাশে উঠতে হয় না, কখনও কখনও ভালবাসায় মানুষ আস্ত পাহাড়ও সরিয়ে দেয়।’

অবশ্য অনেকেই আবার এই দুই ভিন্ন সময়ের গল্পকে কোনও প্রতিযোগিতার চোখে দেখতে চান না। তাঁদের মতে, দু'টি প্রেমই আসলে এক, তবে যুগের নিরিখে তাদের প্রকাশের ভাষাটা আলাদা। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে প্রেম নিবেদন যেন আজকের প্রজন্মের সাহস, রোমাঞ্চ এবং একটি স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করার আধুনিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। অন্য দিকে, দশরথ মাঝির পাহাড় কাটার গল্পটি হল নিঃস্বার্থ ত্যাগ, গভীর দায়িত্ব এবং দীর্ঘদিনের অবিচল অধ্যবসায়ের এক অনন্য নিদর্শন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)