শেয়ার বাজারে আসছে Anthropic! স্পেসএক্সকে টেক্কা দিতে আইপিও আনতে চলেছে এআই চ্যাটবট ক্লডের সংস্থা
গত জুন মাসেই অ্যানথ্রোপিক অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আইপিও-র প্রাথমিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি বিকাশের বিপুল খরচ মেটাতে এবং ওপেনএআই (OpenAI)-এর মতো প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতেই পাবলিক মার্কেট বা শেয়ার বাজার থেকে বিপুল মূলধন তোলার এই কৌশল নিয়েছে তারা।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence)-এর জোয়ারের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ (Anthropic)। জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ (Claude)-এর উদ্ভাবক এই সংস্থাটি এবার প্রথমবার মার্কিন শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে বা আইপিও (IPO) আনতে প্রাথমিক আবেদন পেশ করেছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে এলন মাস্কের 'স্পেস-এক্স' (SpaceX)-এর রেকর্ড সৃষ্টিকারী আইপিও-কেও ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে মার্কিন এআই জায়ান্টটি।
মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC)-এর কাছে জমা দেওয়া খসড়া বা ‘S-1’ নথি অনুযায়ী, সংস্থাটি ‘Nasdaq Global Select Market’-এ 'ANT' নামাঙ্কিত টিকারে (Ticker Symbol) তাদের ক্লাস-এ সাধারণ শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। গত জুন মাসেই অ্যানথ্রোপিক অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আইপিও-র প্রাথমিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি বিকাশের বিপুল খরচ মেটাতে এবং ওপেনএআই (OpenAI)-এর মতো প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতেই পাবলিক মার্কেট বা শেয়ার বাজার থেকে বিপুল মূলধন তোলার এই কৌশল নিয়েছে তারা।
আন্তর্জাতিক আর্থিক দুনিয়ার দুই হেভিওয়েট সংস্থা ‘গোল্ডম্যান স্যাস গ্রুপ’ (Goldman Sachs Group Inc.) এবং ‘মর্গ্যান স্ট্যানলি’ (Morgan Stanley) এই আইপিও প্রক্রিয়ার প্রধান ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছে। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে কতগুলি শেয়ার বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তা জানানো হবে। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইপিও-র মার্কেটিং শুরু হতে পারে।
আবেদনপত্রে সংস্থাটি নিজেদের আর্থিক অবস্থার এক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে:
আয় ও ক্ষতি: ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সংস্থার রাজস্ব আয় (Revenue) পৌঁছেছে রেকর্ড ১৬.৩ বিলিয়ন ডলারে। যদিও এআই চালিত সার্ভার ও গবেষণায় ব্যাপক খরচের কারণে একই সময়ে নেট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০.৭ বিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের প্রথম ছয় মাসের ১.২ বিলিয়ন ডলার আয় এবং ১৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির তুলনায় বহুগুণ বেশি।
গ্রাহক ধরে রাখার ক্ষমতা: অ্যানথ্রোপিক মূলত বড় কর্পোরেট ও এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে পছন্দ করে। নথিতে দেখা গেছে, তাদের ‘নেট রেভিনিউ রিটেনশন রেট’ ৯০০ শতাংশ, যা বিদ্যমান গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদী আস্থা এবং ক্রমাগত অর্থ খরচের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
শেয়ার বাজারে আসার মুখে কী কী বড় চ্যালেঞ্জ?
শেয়ার বাজারে এই ঐতিহাসিক অভিষেকের আগে কয়েকটি বড় ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের কথা নিজেরাই খসড়া নথিতে উল্লেখ করেছে অ্যানথ্রোপিক।
প্রথমত, ট্রাম্প প্রশাসনের (Trump Administration) সঙ্গে একাধিক নীতিগত বিষয়ে তাদের তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক টানাপড়েন ও আইনি জটিলতা। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রণহীন বা স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্টদের (Rogue AI agents) হ্যাকিং সংক্রান্ত একাধিক বিতর্কিত ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে এআই সুরক্ষা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রতিযোগী ওপেনএআই-এর মতো অ্যানথ্রোপিককেও সাধারণ মানুষের এই তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ইতিহাস গড়া এই আইপিও মারফত এআই বিপ্লব প্রযুক্তি দুনিয়া থেকে উঠে এসে কীভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদী মুনাফায় রূপান্তর করতে পারে - এখন সেটাই দেখার বিষয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0