কলকাতায় ভোট পাঁচ বছরের মাথাতেই, বড় দিনের আগেই বোর্ড তৈরি হবে ছোট লালবাড়িতে
পাঁচ বছরের মাথায় কলকাতা পুরসভায় ভোট করানোর প্রস্তুতি। নভেম্বর না ডিসেম্বরে নির্বাচন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বড়দিনের আগেই নতুন পুরবোর্ড গঠন ঘিরে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।
পাঁচ বছরের মাথাতেই কলকাতার পুরসভা নির্বাচন (Kolkata Municipal Elections) হবে। তবে তা নভেম্বরেই হবে, নাকি গড়াবে ডিসেম্বরে তার নির্ঘণ্ট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দিনক্ষণ চূড়ান্ত না-হলেও পাঁচ বছরের মাথাতেই কলকাতা পুরসভার ভোট হবে।
২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর কলকাতার পুরসভা ভোট হয়েছিল। ফল ঘোষণা হয়েছিল ২১ ডিসেম্বর। এই সময়সীমার মধ্যেই কলকাতায় এবারও ভোট ও বোর্ডগঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। আশপাশের সময়ে ভোট হবে হাওড়া পুরসভাতেও। যদিও বালি পুরসভায় এখনই ভোটগ্রহণ হবে, না কি বাকি পুরসভাগুলির সঙ্গে নির্বাচন হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করার এক মাসের মাথাতেই কলকাতার পুরবোর্ড ভেঙে যায়। গত জুন মাসে তৃণমূলের পুরবোর্ডের অবলুপ্তি হলে প্রশাশক নিয়োগ করে নবান্ন। অতীতে নিয়ম ছিল, কোথাও প্রশাসক নিয়োগ হলে, তার ছ'মাসের মধ্যে সেখানে নির্বাচন করতে হয়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় সেই নিয়মেরই বদল ঘটিয়ে দেওয়া হয়। এখন অনির্দিষ্টকাল প্রশাসক দিয়ে পুরসভা চালানোর সংস্থান রয়েছে।
২০২০ সালে কলকাতা-সহ রাজ্যের শতাধিক পুরসভা ও কর্পোরেশনে ভোট না-করে প্রশাসক নিয়োগ করেছিলেন মমতা। জনশ্রুতি: নেপথ্যে ছিল প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ। সবচেয়ে নিদারুণ অবস্থা হাওড়ার। সেখানে শেষ পুরসভা ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালে। তারপর থেকে প্রশাশকই রয়েছেন হাওড়ার মাথায়। অর্থাৎ আট বছর ধরে হাওড়া শহরে কোনও কাউন্সিলর নেই। যার অভিঘাত পড়ছে দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবাতেও।
বিরোধী শিবিরে ছত্রভঙ্গ অবস্থার মধ্যেও কলকাতার ভোট নিয়ে কৌতুহল ক্রমে বাড়ছে। জল্পনা, বেশ কয়েকজন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিয়ে টিকিট পাবেন। আবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, তেমনটা হবে না। তাঁর কথায়, "মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ জামা বদলের জন্য ভোট দেননি। জমার ভিতর মানুষটাকে বদল করতে ভোট দিয়েছেন।"
মুখে শমীক এ কথা বললেও বাস্তবে কতটা তা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, কৌতূহল দুই-ই রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি সংসদের উচ্চকক্ষে সরাসরি জামা পরিবর্তনের ঘটনাই ঘটেছে। তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়া চার জন পরপর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। তার পর সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিককে বিজেপি-ই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার পরে এবং বিজেপির মনোনয়ন পাবার আগে প্রত্যেকেই দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। ফলে কলকাতাতেও তেমন মডেল দেখা যাবে না, কে বলতে পারে?
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0