জর্ডনের চার্চে শেষকৃত্যে এলোপাথারি গুলি! নিহত অন্তত ৭, আহত বহু, তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা

প্রাথমিক তদন্তে জর্ডনের নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এই নৃশংস হামলাটি চালিয়েছে উগ্রপন্থীদের একটি দল। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীদের খোঁজে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

Oct 24, 2026 - 11:08
জর্ডনের চার্চে শেষকৃত্যে এলোপাথারি গুলি! নিহত অন্তত ৭, আহত বহু, তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা

জর্ডনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারাক (Karak) গভর্নরেটের একটি চার্চে চলা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে রক্তক্ষয়ী বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় কমপক্ষে ৭ জন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে গোটা জর্ডনজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

জর্ডনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, কারাকের হামুদ (Hammoud) গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স চার্চে (Greek Orthodox Church) যখন একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক সেই সময়ই সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। প্রার্থনা সভাতে সেই সময় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎই বেশ কয়েকজন বন্দুকবাজ বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জর্ডনের নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এই নৃশংস হামলাটি চালিয়েছে উগ্রপন্থীদের একটি দল। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীদের খোঁজে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

এই ভয়াবহ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ (King Abdullah II)। এক্স (X)-এ এক বার্তার মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "কারাককে লক্ষ্য করে চালানো এই সন্ত্রাসী হামলাকে কঠোরতম উপায়ে দমন করা হবে। যারা আমাদের দেশ ও জাতির শান্তি বিঘ্নিত করার সাহস দেখিয়েছে, তাদের ওপর লোহকঠিন হাতে আঘাত হানবে রাষ্ট্র।" নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান (Jafar Hassan)। একে 'অন্ধ চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী মতাদর্শের ফল' বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের কঠোরতম আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং পুরো দেশের শোক ও সংহতি প্রকাশ করতে জর্ডন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই সময়ে দেশটির সমস্ত সরকারি ভবন, মন্ত্রক ও জনবহুল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

জর্ডনের এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ একে উপাসনালয়ের ওপর এক অত্যন্ত নৃশংস ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া লেবানন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ধর্মীয় নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মিসরের আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম আহমেদ আল-তায়েব এই হামলাকে 'ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলা' বলে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। 
উল্লেখ্য, মুসলিম-প্রধান জর্ডনে খ্রিস্টান জনসংখ্যা সংখ্যালঘু হলেও, কারাক অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবেই একটি উল্লেখযোগ্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালেও কারাক অঞ্চলে একটি বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন দেশটির প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0