ব্রুনোর নিশানায় কোচের রণকৌশল! প্রেসিংয়ে অনীহা নিয়ে ম্যান ইউ অধিনায়ক ভুল কিছু বলেননি
চ্যাম্পিয়নস লিগে কোমোর কাছে ১-৪ ব্যবধানে হারের পর কোচ মাইকেল ক্যারিকের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো। কেন তাঁর সেই সমালোচনা একদম সঠিক, রইল তারই বিশ্লেষণ।
শারীরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়া এবং প্রেসিংয়ের সময় মাঝমাঠে তৈরি হওয়া বিশাল স্পেস—এই মুহূর্তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের (Manchester United) সবচেয়ে বড় রোগ এটাই। আর এহেন দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের ১-৪ গোলে চূর্ণ করেছে কোমো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয়হীন। তার উপর লজ্জার পরাজয়!
সব দেখেশুনে দলের ছন্নছাড়া দশা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। নিশানায় খোদ কোচ মাইকেল ক্যারিক। অধিনায়কের অভিযোগ, ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং না করার খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে। প্রকাশ্যে কোচের সমালোচনা করায় বিতর্ক তৈরি হলেও, ফুটবলীয় যুক্তিতে ব্রুনো যে একবর্ণও ভুল বলেননি, তা ম্যাচ বিশ্লেষণে স্পষ্ট।
প্রেসিংয়ের কঙ্কালসার দশা
কোমোর বিরুদ্ধে ইউনাইটেডের মাঝমাঠের ফাঁকফোকর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় দলের ট্যাকটিকাল ব্যর্থতা। ব্রুনোর কথায়, 'সাপোর্ট স্টাফদের সিদ্ধান্ত ছিল ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং না করার। এতেই বিপক্ষ বল নিয়ে ঘোরার অনেকটা সময় পেয়ে যায়।'
মাঠেও কিন্তু ঠিক সেটাই ঘটেছে। ব্রায়ান এমবিউমোকে দিয়ে কোমোর লেফট সেন্টার-ব্যাককে প্রেস করানোর যে কৌশল ক্যারিক (Michael Carrick) নিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি বুমেরাং হয়। কোমোর ফ্লুইড ৪-৩-৩ ছকের সামনে দিশেহারা দেখায় ম্যান ইউয়ের খেলোয়াড়দের। ফার্নান্দেজ, মেসন মাউন্ট বা ইউরি তিলেমান্সদের মধ্যে বিন্দুমাত্র বোঝাপড়া ছিল না। একজন প্রেস করতে গেলে বাকিরা দাঁড়িয়ে। আর এই সুযোগেই কোমোর (Como) ফুটবলাররা অনায়াসে ওভারলোড তৈরি করে ইউনাইটেডের রক্ষণকে ফালাফালা করে দেন।
এই একটি খেলাই একমাত্র প্রমাণ নয়। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিপক্ষের থার্ডে বল দখলের পরিসংখ্যানে প্রিমিয়ার লিগের (Premier League) সব দলের চেয়ে তলানিতে রেড ডেভিলসরা।
অকেজো ছক ও রক্ষণের দুর্বলতা
দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে তিন ব্যাকে ছক বদলান ক্যারিক। কিন্তু সেই চালে হিতে বিপরীত হয়। লেফট-ব্যাক থেকে নুসের মাজরাউই আসেন রাইট সেন্টার-ব্যাকে, লেফট উইং-ব্যাকে যান দিয়োগো দালো। কিন্তু মাজরাউই পজিশন নিতে দেরি করায় দলের গোটা শেপটাই নষ্ট হয়ে যায়। মাত্র দুটি পাসে বক্সে ঢুকে তিন বনাম তিন পরিস্থিতি তৈরি করে গোল তুলে নেয় কোমো। রক্ষণে চারজনই ডানপায়ের ফুটবলার, এই দুর্বলতা ধরে ফেলেই বারবার চাপ বাড়ায় বিপক্ষ। তা ছাড়া হাই-লাইনে চূড়ান্ত নড়বড়ে দেখিয়েছে ম্যাথিস ডি লিট-হ্যারি ম্যাগুয়ের জুটিকে। তার উপর শেষ ১১ ম্যাচে ছ'টি আলাদা সেন্টার-ব্যাক জুটি খেলিয়েছেন ক্যারিক। ঘনঘন পরিবর্তনের ফলে ফুটবলারদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে ওঠার সুযোগই তৈরি হয়নি।
খাদের কিনারে ক্যারিক
চ্যাম্পিয়নস লিগে (Champions League) টানা দুই ম্যাচে প্রথম দু'মিনিটের মধ্যে গোল খাওয়ার লজ্জার নজির গড়েছে ইউনাইটেড। গত সপ্তাহে আতলেতিকো মাদ্রিদ গোল করেছিল ৪৭ সেকেন্ডে। আর এবার কোমো ১১৮ সেকেন্ডে। গোলরক্ষক লামেন্স চাপের মুখে বারবার অহেতুক লং বল খেলছেন। এরিয়াল ডুয়েলেও বিস্তর খামতি রয়েছে।
সব মিলিয়ে ক্যারিকের আমলে গোটা দল কখনওই নিখুঁত প্রেসিং ইউনিট হয়ে উঠতে পারেনি। তাই ব্রুনো ফার্নান্দেজের (Bruno Fernandes) মতো ফুটবলার যখন কোচের কৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, তখন সেই ক্ষোভ অস্বীকার করার উপায় থাকে না। চাকরি বাঁচাতে ক্যারিককে এই ট্যাকটিকাল গলদ দ্রুত মেটাতেই হবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0