পড়াশোনার খরচ উসুল করতে হবে! হবু জামাইয়ের কাছে ৪০ লাখ দাবি করলেন বাবা, না পেয়ে নিজের মেয়েকেই কোপ

বেঙ্গালুরুর কলেজে ঢুকে নিজের অধ্যাপিকা মেয়েকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা বাবার! বিয়ের জন্য পাত্রপক্ষের কাছে ৪০ লক্ষ টাকা দাবি ও বেতনের টাকা নিয়ে বিবাদের জেরেই এই হামলা।

Jul 30, 2026 - 18:54
0 0
পড়াশোনার খরচ উসুল করতে হবে! হবু জামাইয়ের কাছে ৪০ লাখ দাবি করলেন বাবা, না পেয়ে নিজের মেয়েকেই কোপ

সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর করে তোলা, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে পায়ে দাঁড় করানোই সাধারণত একজন বাবার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হয় (Bengaluru college stabbing)। কিন্তু বেঙ্গালুরুর এক ঘটনায় বাবার হাতেই আক্রান্ত মেয়ের! বিয়ের যৌতুকের দাবি আর বেতনের টাকা নিয়ে পারিবারিক বিবাদের জেরে, কলেজের ভিতরে ঢুকে পেশায় সহকারী অধ্যাপিকা মেয়েকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন (father stabs professor daughter) করার চেষ্টা করল এক ব্যক্তি। গত ২৫ জুলাই কর্নাটকের এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘিরে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আহত ওই অধ্যাপিকার নাম লক্ষ্মী দুর্গা। তিনি বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপিকা হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নাগেন্দ্রে, যিনি পেশায় একজন ক্যাব চালক।

পুলিশ সূত্রের খবর, গত ২৫ জুলাই বিকেল তিনটে নাগাদ হঠাৎই লক্ষ্মী দুর্গার কলেজে গিয়ে হাজির হয় নাগেন্দ্র। সেখানে তিনি কলেজের কর্মীদের জানায়, মেয়ের সঙ্গে তাঁর জরুরি কিছু কথা আছে। বাবা পরিচয় দেওয়ায় তাঁকে সোজা ডিপার্টমেন্টের প্রধানের (HOD) ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে লক্ষ্মী দুর্গা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ঘরে ঢোকার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় বচসা। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের সঙ্গে আনা ধারাল ছুরি বের করে নাগেন্দ্র নিজের মেয়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পেটে, বুকে ও ঘাড়ে একের পর এক কোপ মেরে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে সেখান থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এক পারিবারিক বিবাদ ও বাবার সীমাহীন লোভ। নাগেন্দ্র তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য এক পাত্রপক্ষের সঙ্গে আলোচনা পাকা করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের কথা এগোতেই পাত্রপক্ষের কাছে ৪০ লক্ষ টাকা দাবি করে বসেন তিনি। নাগেন্দ্রর যুক্তি ছিল, মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে এত বড় পদে বসাতে তার নাকি প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে, তাই বিয়ের আগেই সেই টাকা তাঁকে ফেরত দিতে হবে! শুধু তা-ই নয়, অধ্যাপিকা মেয়ের পুরো মাসের বেতনও প্রতি মাসে তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন তিনি।

বাবার এই অন্যায্য ও অদ্ভুত দাবিগুলোর বিরোধিতা করেছিলেন লক্ষ্মী দুর্গা ও তাঁর মা। তা নিয়ে প্রতিদিন বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকত। শেষমেশ সেই রাগ থেকেই এই নৃশংস পদক্ষেপ বলে অনুমান পুলিশের। ঘটনার পরই পুলিশ অভিযুক্ত নাগেন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User