Cyclone Arnab: কারা রাখল এই নাম, কোথায় হতে পারে ল্যান্ডফল? যা বলছে আবহাওয়া দফতর

ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর আঘাত থেকে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে ওড়িশা সরকার জিরো ক্যাজুয়ালটি বা 'শূন্য প্রাণহানি'-র লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই এক জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক আয়োজিত হয়েছে।

Oct 26, 2026 - 14:16
Cyclone Arnab: কারা রাখল এই নাম, কোথায় হতে পারে ল্যান্ডফল? যা বলছে আবহাওয়া দফতর

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী রূপ নিয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে ভারতের পূর্ব উপকূলে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও আইএমডি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবারই নিম্নচাপটি অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' (Cyclone Arnab)-এ পরিণত হয়েছে।

এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছে তার আছড়ে পড়ার কথা। এই সাইক্লোনের মোকাবিলায় এবং সম্ভাব্য ধ্বংসলীলা এড়াতে এখন থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার।

কেন এই নাম?

এই সাইক্লোনটির নাম রাখা হয়েছে 'অর্ণব' (Arnab)। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর সহ উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে বাংলাদেশ এই 'অর্ণব' নাম দিয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO) এবং ইউনেস্কোর অধীনস্থ এসক্যাপ (ESCAP) প্যানেল অনুমোদিত ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, এটি সেখান থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে।

ওই তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা সহ মোট ১৩টি সদস্য দেশের দেওয়া ১৩টি করে নাম রয়েছে। সাধারণ বাংলায় 'অর্ণব' শব্দের অর্থ সাগর বা সমুদ্র হলেও, আবহাওয়াবিদদের মতে একাধিক ঘূর্ণিঝড় একসঙ্গে তৈরি হলে তাদের সহজে চিহ্নিত করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতেই এভাবে পর্যায়ক্রমে নাম দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর

ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর আঘাত থেকে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে ওড়িশা সরকার জিরো ক্যাজুয়ালটি বা 'শূন্য প্রাণহানি'-র লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই এক জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ সহ সমস্ত প্রশাসনিক দফতরকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করে উপকূলীয় এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী অন্ধ্রপ্রদেশেও ঝড়ের পর পরিকাঠামো বজায় রাখতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিদ্যুৎ মন্ত্রী জি রবি কুমার সমস্ত বিদ্যুৎ সংস্থাকে জরুরি নির্দেশ জারি করে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে যাতে রাজ্যের জরুরি পরিষেবা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

তৈরি বাংলাও

আবহাওয়ার দফতরের আভাস, সোমবার থেকেই আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসবে পশ্চিমবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবার থেকে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির উপরেই নির্ভর করছে বাংলায় দুর্যোগের মাত্রা কতটা হবে।

আবহবিদদের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়ার গতিবেগও বাড়বে। বুধবার তা ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অন্ধ্রের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে ঢোকার পর ঝড়ের শক্তি ধীরে ধীরে কমবে বলে অনুমান। তবে উপকূলবর্তী এলাকায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুর্যোগের আশঙ্কা থাকছে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর এবং বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0