'আকাশের মতো মুক্ত, সমুদ্রের মতো গভীর!' ঠাকুমা ইন্দিরাকে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট রাহুল-প্রিয়ঙ্কার

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে ঠাকুমার কোলে বসে থাকা একটি ছবি ও যজুর্বেদের শান্তি মন্ত্র শেয়ার করে স্মৃতিচারণ করেছেন। অন্যদিকে, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ইন্দিরা গান্ধীকে অসামান্য তেজ ও চরিত্রের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও তাঁর সাহস ও দেশের প্রতি অবদানকে স্মরণ করেন।

Oct 31, 2026 - 15:28
'আকাশের মতো মুক্ত, সমুদ্রের মতো গভীর!' ঠাকুমা ইন্দিরাকে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট রাহুল-প্রিয়ঙ্কার

দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস নেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (India Gandhi) প্রয়াণবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা (Priyanka Gandhi)। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঠাকুমার সঙ্গে কাটানো ছোটবেলার কিছু মিষ্টি মুহূর্ত ও পুরনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।

কী লিখেছেন রাহুল গান্ধী?

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে ঠাকুমার কোলে বসে থাকার একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেন। ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি লেখেন, "আপনার কোলে বসে, আপনার দুটো হাত ধরে আপনার মুখে এই শব্দগুলো শোনা এবং আপনার পিছু পিছু সেই কথাগুলো আওড়ানো" এরপর যজুর্বেদের বিখ্যাত শান্তি মন্ত্রটি শেয়ার করেন রাহুল, “অসতো মা সদ্‌গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়, মৃত্যোর্ম অমৃতং গময়। ওম শান্তিঃ, শান্তিঃ, শান্তিঃ।” ঠাকুমাকে উদ্দেশ্য করে রাহুল আরও লেখেন, "কী সুন্দর উপহারটাই না আপনি আমাকে দিয়েছিলেন, দাদি! কী এক উপহার! আমি কখনও কল্পনাও করিনি।"

অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাও ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ইন্দিরা গান্ধীকে এক অসামান্য তেজ ও চরিত্রের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে প্রিয়ঙ্কা লেখেন, "কী অপূর্ব নারীই না তিনি ছিলেন! আকাশের মতো মুক্ত, সমুদ্রের মতো গভীর, পৃথিবীর মতো সহনশীল এবং আগুনের চেয়েও উজ্জ্বল।"

স্মরণ করলেন মল্লিকার্জুন খাড়্গেও

দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। হিন্দিতে দেওয়া এক বার্তায় খাড়্গে তাঁর সাহসিকতা, দৃঢ়সংকল্প এবং দেশের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করেন। ইন্দিরা গান্ধীর শেষ ভাষণের কথা উল্লেখ করে খাড়্গে লেখেন, "‘যতক্ষণ আমার মধ্যে শ্বাস আছে, দেশের সেবা বন্ধ হবে না। আর যখন আমার জীবন শেষ হবে, তখন আমি বলতে পারব যে আমার শরীরের প্রতিটি ফোঁটা রক্ত, রক্তের প্রতিটি বিন্দু এক ভারতকে বাঁচিয়ে রাখবে।’"

খাড়্গে আরও বলেন, অদম্য সাহস, অবিচল সংকল্প এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতীক ‘লৌহমানবী’ (Iron Lady) ইন্দিরা গান্ধী দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর বলিদান ও আদর্শ দেশের মানুষের মনে চিরজাগরূক হয়ে থাকবে।

১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর এলাহাবাদে জন্ম নেওয়া ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৭ এবং পরবর্তীতে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ, সবুজ বিপ্লব, ১৯৭৪ সালের পোখরাণ পারমাণবিক পরীক্ষা এবং ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করেন। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজের বাসভবনেই রক্ষীদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0