জামুইয়ের পর সমস্তিপুর! ফের তরুণীকে ঘিরে ধরে শ্লীলতাহানির ঘটনা, ভিডিও ভাইরাল হতেই গ্রেফতার ৪
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর মাত্র কয়েক দিন আগেই জামুই জেলায় দশম শ্রেণির কোচিং ক্লাস থেকে স্কুটারে করে ফেরার পথে এক ছাত্র ও ছাত্রীকে ঘেরাও করে চরম নিগ্রহের ঘটনা সামনে আসে। সেই ঘটনায় এক মুখোশধারী অপরাধী নাবালিকাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি করার সময় বাকিরা ভিডিও শুট করছিল।
বিহারে নাবালিকাদের শ্লীলতাহানির (Bihar Incident) ঘটনা যেন থামছেই না। জামুই জেলায় দুই পরীক্ষার্থীকে নিগ্রহ ও শ্লীলতাহানির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্যের সমস্তিপুর জেলা থেকে একই রকম নারকীয় ঘটনার নতুন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। জামুইয়ের অকুস্থল থেকে প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দূরে সমস্তিপুরের জগৎসিংহপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রশাসনিক নজরদারি ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বুধবার ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সমস্তিপুরের একটি নির্জন গ্রামীণ রাস্তায় এক যুবক ও যুবতী ছবি তোলার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক তখনই মোটরসাইকেলে করে আসা একদল যুবক তাঁদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে প্রকাশ্যে হেনস্থা করতে শুরু করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওতে যে সমস্ত হামলাকারীদের তাণ্ডব চালাতে দেখা যাচ্ছে, তারা মূলত সমস্তিপুরের জগৎসিংহপুর গ্রামেরই বাসিন্দা। তরুণীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা, ধাক্কাধাক্কি করা এবং প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করার অপরাধে অভিযুক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সমস্তিপুর জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক অরবিন্দ প্রতাপ সিংহ জানিয়েছেন, "ভিডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত ও কড়া আইনি পদক্ষেপ করা শুরু করেছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট জায়গা এবং ভিডিওতে দেখা যাওয়া অপরাধীদের পরিচয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অপরাধে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।"
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর মাত্র কয়েক দিন আগেই জামুই জেলায় দশম শ্রেণির কোচিং ক্লাস থেকে স্কুটারে করে ফেরার পথে এক ছাত্র ও ছাত্রীকে ঘেরাও করে চরম নিগ্রহের ঘটনা সামনে আসে। সেই ঘটনায় এক মুখোশধারী অপরাধী নাবালিকাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি করার সময় বাকিরা ভিডিও শুট করছিল। পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে জামুই পুলিশ ও প্রশাসনকে ট্যাগ করে প্রতিবাদ ঝড় উঠলে তিন মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং পরে অভিযুক্তদের একজন পুলিশের গুলিতে জখম হয়।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে জামুই ও সমস্তিপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, ভারতে মহিলাদের নিরাপত্তা রক্ষায় কেবল আইনি কঠোরতাই নয়, স্থানীয় সমাজ ও পুলিশ প্রশাসনের তাৎক্ষণিক নজরদারির ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)