‘বই’ রক্ষার মডেলেই বড়দিনে নামছে সিপিএম! সেলিমের বৈঠক খ্রিস্টান প্রতিনিধিদের সঙ্গেও

দুর্গাপুজোয় বইবিপণি ঘিরে গোলমালের পর বড়দিনেও বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে সিপিএম। খ্রিস্টান সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক মহম্মদ সেলিমের। নদিয়া-সহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্র-যুবদের সক্রিয় করার পরিকল্পনা।

Oct 23, 2026 - 16:25
‘বই’ রক্ষার মডেলেই বড়দিনে নামছে সিপিএম! সেলিমের বৈঠক খ্রিস্টান প্রতিনিধিদের সঙ্গেও

আবহ ছিল দুর্গাপুজোয় বামেদের (CPIM) বইবিপণিতে গোলমাল হতে পারে। বাংলার জেলায় জেলায় পুজোর প্রায় প্রতিদিনই তেমন ঘটনা ঘটেছে। সাধ্যমতো রোখারও চেষ্টা করেছেন সিপিএম-সহ বাম কর্মীসমর্থকেরা। বই রক্ষার সেই মডেলেই এ বার বড়দিনে নামতে চাইছে সিপিএম (CPIM Bookstalls)। শুরু হয়েছে সাংগঠনিক প্রক্রিয়াও। যাতে গতি দিয়েছে খ্রিস্টান সংগঠনের প্রতিনিধিদের আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে যাওয়া এবং সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের(MD Selim) সঙ্গে বৈঠক (Christmas in Bengal)।

ঘটনাক্রম দেখে সিপিএম মনে করছে, ক্রিসমাসের সময়েও নানা জায়গায় ধর্মীয় জিগির তুলে অশান্তি হতে পারে। তার জন্যই সাংগঠনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু করেছে সিপিএম। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জেলাকে ক্রিসমাস পর্বে ‘কী করিতে হইবে’, সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নদিয়া। সিপিএমের বক্তব্য, গোটা রাজ্যে সব থেকে বেশি বাংলাভাষী খ্রিস্টান থাকেন নদিয়া জেলার রানাঘাট, কৃষ্ণনগরে। সেখানে বড়দিনের সময় ‘বিশেষ প্রস্তুতি’ রাখতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। বৃহস্পতিবার সেলিম নিজে নদিয়ায় গিয়েছিলেন। দলের জেলা কমিটির বৈঠকে ক্রিসমাস সংক্রান্ত বার্তা দিয়ে এসেছেন।

প্রস্তুতির বিষয়ে সেলিম খোলসা করে কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি বলেন, “বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবার প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা তাঁদের আশ্বস্ত করেছি, যেখানে যে ঘটনাই ঘটুক, আমাদের ছাত্র-যুব বাহিনী পৌঁছে যাবে।” খ্রিস্টান সংগঠনটির পুরোধা হেরোদ মল্লিক অবশ্য জানিয়েছেন, শুধু সিপিএম নয়, তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও কথা বলছেন। হেরোদের কথায়, “আমরা যেমন সিপিএমের মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে কথা বলেছি, তেমন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গেও দেখা করেছি। চিঠি লিখেছি আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকেও।” এমনকি শুক্রবার বিজেপি নেতা চার্লস নন্দীর সঙ্গেও খ্রিস্টান সংগঠনটির ফোনে কথা হয়েছে।

হেরোদের দাবি, গত তিন-চার মাসে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘটনা ঘটছে। সে কারণেই বিভিন্ন দল ও সংগঠনের দ্বারস্থ তাঁদের হতে হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমরা চাইছি সরকারের সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু তা হচ্ছে না দেখেই আমাদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে।” হেরোদের বক্তব্য, গত তিন-চারমাসে রাজ্যে ৪৫-৪৬টি ঘটনা ঘটেছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের উপর। এর মধ্যে কৃষ্ণনগর, সন্তোষপুর, সন্দেশখালিতে গির্জাতেও হামলা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

সূত্রের খবর, ক্রিসমাসের সময়ে ছাত্র-যুব সংগঠনকে বিভিন্ন আঙ্গিকে উৎসব উদযাপনে নামাতে চাইছে সিপিএম। কৌশলে ব্যবহার করতে চাইছে সান্তা ক্লজের লাল পোশাককেও। দুর্গাপুজোর মতো বড়দিনের সময়ে পার্কস্ট্রিট-সহ রাজ্যের বিভিন্ন চার্চ সংলগ্ন এলাকায় বইবিপণি খোলে বামেরা। সেই শামিয়ানাকে এবার আরও কী ভাবে নতুনত্ব করা যায় এবং সাংগঠনিক বাঁধুনিতে ফেলা যায়, সেই পরিকল্পনা চলছে। লক্ষ্মীপুজো মিটলেই এ নিয়ে ছাত্র-যুব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা সেলিম-সহ রাজ্য সিপিএম নেতৃত্বের।

বই বিক্রিতে ‘বাধা’কে রাজ্য সিপিএমের প্রথম সারির অনেকেই ‘লক্ষ্মীলাভ’ হিসেবে দেখছেন। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, “২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ভোট-সহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিসরে আমাদের অপ্রাসঙ্গিকতা গ্রাস করছিল। বিজেপি বনাম তৃণমূলের বাইনারির (দ্বিমেরুকরণ) সামনে এঁটে ওঠা যাচ্ছিল না। এখন তৃণমূলের এই খণ্ডিত অবস্থা। তার মধ্যে বুকস্টল ঘিরে চর্চা, সংঘাত রাজনৈতিকভাবে আমাদের সুবিধাই করে দিয়েছে।” ক্রিসমাসেও সেই ধারা বজায় রাখতে চাইছে সিপিএম। এক নেতা রসিকতা করে বলেন, “রং নিয়ে আমাদের কোনও ছুতমার্গ নেই। আমাদের ক্রিসমাসে লাল পোশাকের সান্তা ক্লজ থাকবে, আবার কমলা লেবুও থাকবে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0