রক্ষকই ভক্ষক! উত্তরপ্রদেশে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পুলিশ ও সিআরপিএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে
উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘোরানোর কথা বলে তরুণীকে খামারবাড়িতে এনে গণধর্ষণের অভিযোগ। গ্রেফতার ২ পুলিশ কর্মী ও ২ সিআরপিএফ জওয়ান। গর্জে উঠলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব।
রক্ষকই ভক্ষক, তাহলে রক্ষা করবেন কে? পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশের আমরোহায়। এক মহিলাকে গণধর্ষণের দায়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দুই কর্মী এবং সিআরপিএফের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগকারিণী হরিয়ানার ফতেহাবাদের বাসিন্দা। চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। সকলকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
২০ সেপ্টেম্বর পরিচিত এক মহিলার মাধ্যমে সিআরপিএফের ইনস্পেক্টর মোহিতের সঙ্গে যোগাযোগ হয় অভিযোগকারিণীর। আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘোরানোর কথা বলে তাঁকে ডাকা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরদিন হরিয়ানার সোনিপতে মোহিতের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখান থেকে তাঁরা মেরঠ যান। সেখানে সিআরপিএফের হেড কনস্টেবল লালারাম যাদব তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গাড়িতে করে হাসানপুরের দিকে যাওয়ার সময় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর সঞ্জয় তোমার তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে আটরাসি-হাসানপুর সড়কের একটি খামারবাড়িতে পৌঁছে দু’টি ঘর নেওয়া হয়। পুলিশের হেড কনস্টেবল প্রমোদ সেখানে খাবার ও মদের ব্যবস্থা করেছিলেন।
অভিযোগকারিণীর বয়ান অনুযায়ী, ওই সন্ধেয় মোহিত, লালারাম ও সঞ্জয় পরপর তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে প্রমোদ ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাইরে বার করে দরজা বন্ধ করে দেন মহিলা। এরপর মোবাইলে পুলিশের সাহায্যের নম্বর খুঁজে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
ভোরে ফোন, ঘটনাস্থলে পুলিশ
বুধবার ভোর ৬টা নাগাদ পুলিশকে ফোন করেন অভিযোগকারিণী। খবর পেয়ে হাসানপুর ও রাজাবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণ বা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং গণধর্ষণের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
হাসানপুর থানার সাব-ইনস্পেক্টর সঞ্জয় তোমারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে ঘটনার পর। শুরু হয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত। দুই সিআরপিএফ কর্মীরও যাতে কঠোর শাস্তি হয়, তা নিশ্চিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠিয়েছে পুলিশ। যে খামারবাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি উত্তরাখণ্ডের এক নির্দল বিধায়কের এলাকায় পড়ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ওই প্রপার্টির ম্যানেজারকে।
গোটা ঘটনা নিয়ে সরকারের দিকে আঙুল তুলতে ভোলেনি বিরোধীরা। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব কড়া সমালোচনা করেন যোগী প্রশাসনের। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই ঘটনাকে ‘কলঙ্ক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)