শক্তি বাড়ছে 'অর্ণব'-এর, বাঁক নিলেই দুর্যোগ বাংলায়! এখন কোথায় রয়েছে ঘূর্ণিঝড়, জানুন আপডেট
শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'। বর্তমানে এটি কোথায় অবস্থান করছে এবং এর সম্ভাব্য বাঁক বা গতিপথ বাংলার আবহাওয়ার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে? জানুন সর্বশেষ লাইভ আপডেট।
বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab)। মঙ্গলবার সকালেই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে সেটি। বিকেলের মধ্যে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে অর্ণব (Cyclone Arnab update)। তার সরাসরি প্রভাব বাংলায় না পড়লেও ঘূর্ণিঝড়ের জেরে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে (Weather Update Of Bengal)। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আজ থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
কোথায় আছড়ে পড়বে অর্ণব?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, গত ছ'ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার বেগে পশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। মঙ্গলবার সকালে সেটি পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বিকেল সাড়ে ৩টের মধ্যে অর্ণব অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
বুধবার সকাল থেকে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোবে অর্ণব। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝামাঝি ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারে।
স্থলভাগে ঢোকার পর ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে অর্ণব। বৃহস্পতিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে পূর্ব উপকূল বরাবর এগিয়ে বিহার হয়ে নেপালের দিকে যেতে পারে সেটি।
ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলির কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
বুধবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুরে। সেখানে একদিনে ১৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলের অন্যান্য জেলায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার এবং অন্য উপকূলবর্তী জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্র ও শনিবার বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি হলেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সতর্কতা
বুধবার দুপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। তার পর কয়েকটি এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ে ধস নামার আশঙ্কাও থাকছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলের সৈকত পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে সমুদ্রকেন্দ্রিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওড়িশা উপকূলেও মঙ্গলবার হলুদ এবং বুধবার কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে সেখানে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়তে পারে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0