শব্দতাণ্ডব রুখতে কন্ট্রোলরুম, বেঁধে দেওয়া হল নিয়ম, কালীপুজোর প্রস্তুতি বৈঠক শেষে কড়া নবান্ন
কালীপুজোয় বেআইনি ও শব্দবাজি রুখতে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠক। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য পুলিশের ডিজির উপস্থিতিতে জারি কঠোর নির্দেশিকা।
মাস পড়লেই কালীপুজো। প্যান্ডেলের বাঁশ বাঁধা শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। পাড়ার অলিগলিতে বাজি বিক্রি হচ্ছে টুকটাক। এই অবৈধ বাজি বিক্রিতে রাশ টানতে মাঠে নামল কলকাতা পুলিশ, পুরসভা ও রাজ্য পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে নবান্নে বৈঠক করলেন স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা ও রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। বাজি বিক্রি থেকে পোড়ানো, একাধিক ক্ষেত্রে কড়া নিয়মের কথা ঘোষণা করা হল এদিন। না মানলে উপযুক্ত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব।
এদিন নবান্নে কালীপুজোর প্রস্তুতি বৈঠক হয়। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল অবৈধ বাজি বিক্রি আটকানো, শব্দবাজি রুখে দেওয়া এবং অবশ্যই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই সূত্রেই বেশ কয়েকটি বিষয় কড়া হাতে সামলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে স্বরাষ্ট্র সচিব জানিয়ে দিয়েছেন, কালীপুজোয় আনন্দ করুন নিজের মতো করে কিন্তু কারও ক্ষতির কারণ হবেন না। সব পুলিশ আটকাবে, পদক্ষেপ করবে তারপর হবে, এই মানসিকতা পাল্টানোর সময় এসেছে। তাঁর মতে, মানুষকে মানবিক হতে হবে এবং নিজে থেকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই কালীপুজোয় যেকোনও রকম দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
প্রতি বছরের মতো এবছরও বাজি বাজারে নজর রাখবে পুরসভা। একাধিক উপায়ে অবৈধ বাজি চিহ্নিত করা হবে, ধরা পড়লে সমস্তটা বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি নজর রাখা হবে বাজি তৈরির এলাকাগুলিতেও। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরি বা বিক্রি কোনওটাই মেনে নেওয়া হবে না।
এছাড়া কালীপুজোর দিন বেশ কিছু নিয়ম মানার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র সচিব। প্রথমত, নির্দিষ্ট সময়ে বাজি পোড়াতে হবে। হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনওরকম শব্দ বাজি নয়। সাইলেন্স জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে শব্দবাজি পোড়ানো যাবে না। নীরবতা বজায় রাখতে হবে।
এছাড়া শব্দাতাণ্ডব থেকে যাতে মানুষ বাঁচতে পারে, তার জন্য প্রশাসন সবসময় কাজ করবে। এদিন এবিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, নবান্নের তরফে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হচ্ছে। সেখানে যেকোনও সময় অভিযোগ জমা করা যাবে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পদক্ষেপ করবে পুলিশ। হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হবে ২-৩ দিনের মধ্যে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জানিয়ে দেন তিনি।
শেষে স্বরাষ্ট্র সচিব জানিয়ে দেন, বাজি ছাড়াও অন্য অনেকরকম উপায় আছে আনন্দ করার। উৎসবে আনন্দ করুন, কাউকে বিপদে না ফেলে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0