শুভেন্দুর সেই হুঙ্কারই সত্যি হল! বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে ‘খরচ’ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা অভিযুক্ত

তদন্তের মধ্যেই পুলিশের এই এনকাউন্টার এবং মূল অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনা গোটা মামলায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর সেই ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’ তত্ত্বই যেন এবার বাস্তবে প্রতিফলিত হল বারুইপুরের মাটিতে।

Jul 08, 2026 - 15:20
0 0
শুভেন্দুর সেই হুঙ্কারই সত্যি হল! বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে ‘খরচ’ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা অভিযুক্ত

বাংলায় ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন,“রেকর্ড করে রাখুন বিরোধী দলনেতার কথা, বিজেপি এলে এই ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না, সকালে জমা নেব বিকেলে খরচ করব। যোগী আদিত্যনাথ-হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথে সরকার চলবে, কথা দিয়ে গেলাম।” ঘটনাচক্রে, রাজ্যে ক্ষমতার বদলের পর বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ঠিক তেমনই এক ‘রোমহর্ষক’ ছবি দেখল বাংলা। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের এনকাউন্টারে (Baruipur Encounter) খতম হল মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।

মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধের পুনর্নির্মাণের (Recreation of Crime Scene) সময় বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় এই এনকাউন্টারের ঘটনাটি ঘটে। একই সঙ্গে এই মামলায় এতদিন পলাতক থাকা চতুর্থ অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে এই নৃশংস কাণ্ডের মূল চারজনই এখন পুলিশের জালে, যার মধ্যে একজন মৃত।

গভীর রাতে সেই নাটকীয় মোড়

পুলিশ সূত্রের খবর, সিসিটিভি ফুটেজে নির্যাতিতা নাবালিকার সঙ্গে শেষবার দেখা গিয়েছিল এই প্রভাস মণ্ডলকে। তার বয়ান ও দেখানো পথ ধরেই রেললাইনের পাশের একটি পুকুর থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে প্রভাসকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধের বিভিন্ন পর্যায় পুনর্নির্মাণ করছিল পুলিশ।

কিন্তু অভিযোগ, রাত প্রায় ২টো ২০ মিনিট নাগাদ আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়।  পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে আচমকাই কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস মণ্ডল। শুধু তাই নয়, পুলিশকে লক্ষ্য করে সে গুলিও চালায়। আত্মরক্ষার জন্য ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই এলাকা জুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছিল। গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর পুলিশ প্রশাসনও ছিল চরম চাপের মুখে। এই আবহে তদন্তের স্বার্থে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করে।

তদন্তের মধ্যেই পুলিশের এই এনকাউন্টার এবং মূল অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনা গোটা মামলায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর সেই ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’ তত্ত্বই যেন এবার বাস্তবে প্রতিফলিত হল বারুইপুরের মাটিতে। এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হবে হয়তো, তবে বিতর্কের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেই সঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে অবধারিত ভাবেই এই প্রশ্নটাও উঠবে যে, পশ্চিমবঙ্গ কি তবে এবার এনকাউন্টার স্টেটে পরিণত হবে?

এনকাউন্টারের কথা বলেছিলেন, অভিষেক এমনকি দেবও

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম বার জমা খরচের কথা বলেছিলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে। উত্তরবঙ্গে একটি সভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, “জলপাইগুড়ির বানিয়াপুর এলাকায় দু’বছর আগে একটি মেয়েকে ধর্ষণ হয়। সেই ঘটনায় অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল আদালত।। কিন্তু এখনও তা কার্যকর হয়নি।’’ সে কথা বলার পরই শুভেন্দু ‘যোগী-মডেলে’র প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, কোথাও জল জমলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিসির জল ছাড়াকে দেখতে পান। কথায় কথায় যিনি সাংবাদিক বৈঠক করেন, তিনি কসবায় নারী নির্যাতনের ঘটনায় চুপ কেন?”

এর আগে এনকাউন্টার থিওরিতে জোর দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আরজি কর কাণ্ডের পর অভিষেক আইন এনে ধর্ষকদের এনকাউন্টার করার কথা বলেছুলেন। ডায়মন্ড হারবারে এক প্রশাসনিক বৈঠকে অভিষেক “এ সব ঘটনা যারা ঘটায় সমাজে তাদের থাকার অধিকার নেই। ৭ দিনের মধ্যে আইন করে এনকাউন্টারে মারা উচিত অপরাধীকে।’’ 

কেবল অভিষেক নয়, জয়নগরে ধর্ষণের ঘটনার পর তৃণমূল সাংসদ দেবও একই মত জানিয়েছিলেন। দেবও বলেছিলেন, “এ রকম নিন্দনীয় ঘটনায় সম্মিলিত প্রতিবাদ করা উচিত। কঠোর আইন আনতে হবে... আমি তো বলছি, ‘শুট অ্যাট সাইট’ করে দাও ভাই!”

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User