অসমের বন্যাদুর্গতদের পাশে সলমন খান, পৌঁছে গেল 'বিং হিউম্যান'-এর ত্রাণ
অসমে বন্যা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও জলস্তর কিছুটা কমতে শুরু করায় পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।
অসমের ভয়াবহ বন্যায় যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান (Salman Khan)। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেই তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিং হিউম্যান (Being Human)-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে বড়সড় ত্রাণ কার্যক্রম। স্থানীয় একটি ফ্যান ক্লাবের সহযোগিতায় ধাপে ধাপে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী।
এই ত্রাণ অভিযান কয়েকটি ধাপে পৌঁছে যাবে। প্রথম পর্যায়ে বন্যাকবলিত এলাকায় রেডি-টু-ইট খাবারের প্যাকেট এবং জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিস বিতরণ শুরু হয়েছে। এরপর দুর্গতদের হাতে তুলে দেওয়া হবে রেশন, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ, স্যানিটারি ন্যাপকিন, মশা তাড়ানোর স্প্রে-সহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী। শুধু ত্রাণ নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ও হাসপাতাল সংস্কারের কাজেও সাহায্য করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।
অসমের বন্যা নিয়ে বহু তারকা সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, সলমন খান সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ায় তাঁর এই উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর এবং অভিনেতা আদিল হুসেনও বন্যাদুর্গতদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তবে মাঠে নেমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ খুব কম তারকাই নিয়েছেন।
এদিকে, অসমে বন্যা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও জলস্তর কিছুটা কমতে শুরু করায় পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে ৫ লক্ষের বেশি মানুষ বন্যার কবলে ছিলেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার।
অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (ASDMA) তথ্য বলছে, শিবসাগর, গোলাঘাট, চরাইদেও, যোরহাট, নগাঁও এবং কামরূপ মেট্রোপলিটন-সহ একাধিক জেলার মোট ৪,৪৫,৪৯৫ জন মানুষ এখনও বন্যার প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। রাজ্যের ৬৩১টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাইদেও জেলা। সেখানে প্রায় ১.৮৮ লক্ষ মানুষ বন্যার মধ্যে রয়েছেন। শিবসাগর জেলাতেও ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১.৪৪ লক্ষের বেশি।
বন্যার জেরে ৩৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি জলের তলায় চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২.৫৬ লক্ষের বেশি গবাদি পশু এবং ভেসে গেছে ২৬ হাজারেরও বেশি পশু। বহু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভেঙে পড়েছে ১৭১টি বাড়ি এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৪,৬৬৭টি বাড়ি। শিবসাগর ও যোরহাটের একাধিক স্কুলেও জল ঢুকে পড়ায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
বর্তমানে ধনসিরি (দক্ষিণ) নদী নুমালীগড় এলাকায় এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তবে প্রশাসনের দাবি, কোনও নদী এখনও সর্বোচ্চ বন্যা স্তর অতিক্রম করেনি। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও হাজার হাজার মানুষের জীবনে এখনও দুর্ভোগ কাটেনি। আর এই কঠিন সময়ে সলমন খান ও তাঁর সংস্থার ত্রাণ উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)