'এই ভাষা মেলবন্ধনের সেতু, প্রসারে নেতাজির ভূমিকাও ছিল', হিন্দি দিবসে বার্তা অমিত শাহের
প্রতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে হিন্দি দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৪৯ সালের এই দিনেই ভারতের সংবিধান সভা দেবনাগরী হরফে লিখিত হিন্দি ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। সে কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভারতীয় ভাষাগুলিই সাধারণ মানুষের কাছে দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাজ এবং রাষ্ট্রগঠনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
হিন্দি (Hindi Language) দেশের অন্যান্য কোনও আঞ্চলিক ভাষার প্রতিযোগী নয়, বরং এটি ভারতের বিচিত্র ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে মেলবন্ধন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। হিন্দি দিবসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের এই ভাষাগত ঐতিহ্যের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।
তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের বহুভাষিক বৈচিত্র মোটেই দেশের দুর্বলতা নয়, বরং এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি। এছাড়া, বক্তব্যের মধ্যেই একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তিনি এও জানান, ২০২৯ সালের আগেই দেশের অন্তত ২১টি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করবে।
প্রতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে হিন্দি দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৪৯ সালের এই দিনেই ভারতের সংবিধান সভা দেবনাগরী হরফে লিখিত হিন্দি ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। সে কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভারতীয় ভাষাগুলিই সাধারণ মানুষের কাছে দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাজ এবং রাষ্ট্রগঠনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সমস্ত ভারতীয় ভাষার সঙ্গেই হিন্দি দেশের জাতীয় ঐক্য এবং স্বরাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ভারতের ইতিহাস এবং জাতীয় নেতাদের অবদান স্মরণ করিয়ে দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মাতৃভাষা গুজরাটি হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'সত্যার্থ প্রকাশ' হিন্দিতে রচনা করেছিলেন। বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ ফৌজের যোগাযোগের প্রধান ভাষা হিসেবে হিন্দিকেই বেছে নিয়েছিলেন এবং দেশকে 'জয় হিন্দ' স্লোগান দিয়েছিলেন। এমনকি ১৯১৮ সালে মাদ্রাজ বা আজকের চেন্নাইয়ে 'দক্ষিণ ভারত হিন্দি প্রচার সভা' স্থাপন করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী নিজে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাল কেল্লার ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, পরাধীন মানসিকতা থেকে মুক্তির যে ডাক প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত করতে ভাষার ভূমিকা অপরিসীম। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভাব কাটানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তারও বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
অমিত শাহ জানান, দিল্লির 'রাজপথ'-এর নাম বদলে 'কর্তব্য পথ' করা স্রেফ একটি নামের পরিবর্তন নয়, এটি জাতীয় স্বাভিমান প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ঠিক একইভাবে ইংরেজদের আমলে তৈরি পুরনো দণ্ডবিধি বদলে ভারতে এখন কার্যকর করা হয়েছে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা', 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা' এবং 'ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম'। এগুলি কেবল কিছু শব্দের রদবদল নয়, বরং দেশের আত্মমর্যাদা ও গর্ব পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)