সাংহাইয়ের পর দিল্লিতেও কি এক ফ্রেমে মোদী-শি-পুতিন? উৎকন্ঠায় ট্রাম্পের দেশ-সহ পশ্চিমা বিশ্ব

দিল্লিতে আজ শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি অন্যান্য দেশ বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ অত্যন্ত কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও পশ্চিমী বিশ্বের প্রথমসারির অর্থনীতির‌ দেশগুলির জোট জি-৭ ক্রমশ ব্রিকসের কাছে পিছিয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সমীকরণের বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাশ মিলতে শুরু করেছে। স্বভাবতই ব্রিকসের সাফল্যকে পশ্চিমী দুনিয়া ভালভাবে নেবে না, বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া ও চিনের বোঝাপড়াকে তারা নিজেদের অস্তিত্ব সংকট হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

Sep 12, 2026 - 13:27
0 0
সাংহাইয়ের পর দিল্লিতেও কি এক ফ্রেমে মোদী-শি-পুতিন? উৎকন্ঠায় ট্রাম্পের দেশ-সহ পশ্চিমা বিশ্ব

যেকোনও আন্তর্জাতিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে আলোচ্য সূচির বাইরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে ফটো। কোন নেতা কার সঙ্গে ছবি তোলার সময় কতটা আন্তরিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন তার চুলচেরা বিশ্লেষণ চলে কূটনৈতিক নৈতিক মহলে, মিডিয়ায়।

দিল্লিতে আজ শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি অন্যান্য দেশ বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ অত্যন্ত কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও পশ্চিমী বিশ্বের প্রথমসারির অর্থনীতির‌ দেশগুলির জোট জি-৭ ক্রমশ ব্রিকসের কাছে পিছিয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সমীকরণের বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাশ মিলতে শুরু করেছে। স্বভাবতই ব্রিকসের সাফল্যকে পশ্চিমী দুনিয়া ভালভাবে নেবে না, বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া ও চিনের বোঝাপড়াকে তারা নিজেদের অস্তিত্ব সংকট হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ছবি। ছবিটির তিন চরিত্র হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়া ও চিনের প্রেসিডেন্ট যথাক্রমে ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং।

ছবিটি ফ্রেম বন্দি করা হয়েছিল গত মাসে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে। সেই ছবি প্রকাশ পেতে তোলপাড় শুরু হয়েছিল ইউরোপ-আমেরিকা সংবাদ মাধ্যমে। পশ্চিমে বিশ্বের কোন কোন কূটনৈতিক ও সমর বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন এই ছবি আভাস দিচ্ছে বিশ্ব কোন দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত সহ একাধিক প্রভাবশালী দেশের দূরত্ব তৈরির প্রেক্ষিতে ওই ছবিটিকে নয়া দিল্লির মস্কো ও বেইজিং ঘনিষ্ঠতার বার্তা হিসাবে তুলে ধরা হয়। সেই সূত্রে আলোচনায় আসে গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিনের কাছ থেকে আমন্ত্রণ আদায় করে বেজিং সফর। আবার চিন থেকে ফিরেই নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে পুতিনের সঙ্গে তিনি এখনও কাঙ্ক্ষিত রসায়ন মেলাতে পারেননি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন শুক্রবারই নয়াদিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন। দিল্লিতে পা রেখেই তিনি জি-৭ জোটকে নিশানার পাশাপাশি নাম না করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন ওই জোট বিশ্বের একাংশের উন্নয়নের মগ্ন। অন্যদিকে, ব্রিকস কাজ করছে সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে।

পুতিনের সুরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন ২০০৬-এ চার দেশকে (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন) নিয়ে যাত্রা শুরু করা 'ব্রিক' পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যুক্ত করে শুধু 'ব্রিকস' হয়নি, এখন সদস্য ও সহযোগী দেশ মিলিয়ে মোট বন্ধুর সংখ্যা ২১। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলিতে রয়েছে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা। এছাড়া মোট বিশ্ব অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন বা জিডিপির চল্লিশ শতাংশ রয়েছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির অর্জন।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি আর কিছুক্ষণের মধ্যে নয়া দিল্লি পৌঁছবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। তবে কূটনৈতিক মহল প্রতিবেশী দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক একান্ত বৈঠকের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মোদী-শি এবং পুতিনের যৌথ আলোচনায় যা এই তিন নেতাকে ফের এক ফ্রেমে বন্দি করবে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User