বন্ধুত্বই লক্ষ্য! ব্রিকসে মোদী-শি বৈঠকের আগে 'সুপ্রতিবেশী' বার্তা বেজিংয়ের, ৭ বছর পর ভারতে জিনপিং

চিনের স্পষ্ট বক্তব্য, এশিয়ার এই দুই দেশের উচিত তাদের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা এবং নিজেদের মধ্যে থাকা সমস্ত দ্বিপাক্ষিক মতভেদ ও বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান ঘটানো।

Sep 12, 2026 - 15:43
0 0

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চে আজ বিকেলেই মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (PM Modi Xi Jinping bilateral meeting)। বিশ্ব রাজনীতির অলিন্দে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুল প্রতীক্ষিত এই হাইভোল্টেজ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লির দিকে একটি ইতিবাচক ও 'সুপ্রতিবেশী' ভাবমূর্তির বিশেষ বার্তা পাঠাল বেজিং (China good neighbourliness message India)।

চিনের স্পষ্ট বক্তব্য, এশিয়ার এই দুই দেশের উচিত তাদের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা এবং নিজেদের মধ্যে থাকা সমস্ত দ্বিপাক্ষিক মতভেদ ও বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান ঘটানো।

উল্লেখ্য, সাত বছর পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে পা রাখছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সামরিক সংঘাত এবং সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত সংক্রান্ত নানান টানাপড়েনের পর, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনার যে সতর্ক ও ধারাবাহিক প্রয়াস চলছে, তার মধ্যে জিনপিংয়ের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

'আমরা সুপ্রতিবেশী বন্ধু ও সহযোগী হতে চাই'

মোদী-শি জিনপিং বৈঠকের আগে ভারতের জন্য বেজিংয়ের কূটনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং (Xu Feihong)। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে চিন।

'এক্স'-এ রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং লেখেন, "দুই দেশের শীর্ষনেতার কৌশলগত দিকনির্দেশনা মেনে কাজ করতে বেজিং প্রস্তুত। কৌশলগত উচ্চতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পরিচালনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য - দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, মতভেদগুলির সঠিকভাবে সমাধান করা এবং একে অপরের সাফল্য নিশ্চিত করতে সুপ্রতিবেশী বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে পাশে থাকা।"

উল্লেখ্য, কাজান ও তিয়ানজিনের পর এটি টানা তৃতীয় বছর যেখানে মোদী ও শি জিনপিং একে অপরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হচ্ছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, চিনের প্রেসিডেন্ট বিকেল ১টা নাগাদ নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন এবং বিকেল ৫:৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বার্তা চিনের

রাষ্ট্রদূত ফেইহংয়ের পাশাপাশি চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং-ও (Mao Ning) ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’ গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা ও দর কষাকষির মাধ্যমে সমস্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে প্রস্তুত চিন।

মাও নিং আরও যোগ করেন যে, উদীয়মান অর্থনীতি ও বিকাশমান দেশগুলির জন্য ব্রিকস (BRICS) আজ একটি অত্যন্ত প্রধান ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মঞ্চ হয়ে উঠেছে এবং এটি 'গ্লোবাল সাউথ' (Global South)-এর দেশগুলির অগ্রভাগে থাকা এক অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন

চলতি বছর ব্রিকস জোটের সভাপতিত্ব করছে ভারত। সেই সূত্রেই ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (18th BRICS Summit)।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শি জিনপিংয়ের এটি চতুর্থ ভারত সফর। প্রথমবার তিনি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে এসেছিলেন। এরপর ২০১৬ সালে গোয়ায় আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে (মহাবলীপুরম) প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তার দীর্ঘ সাত বছর পর, সীমান্ত উত্তেজনার বরফ গলিয়ে দিল্লিতে মোদী-শি বৈঠক বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User