মহালয়ায় ইডেনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সরবে রঞ্জির নির্ধারিত ম্যাচ? কী বললেন সিএবি সভাপতি সৌরভ?
১১ অক্টোবর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের রঞ্জি ট্রফিতে নামছে বাংলা ক্রিকেট দল। প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হওয়ার কথা দিল্লির বিরুদ্ধে। ফলে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইডেনে একই সময়ে রঞ্জি ম্যাচ আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইডেনের এই রাজকীয় অনুষ্ঠান এবং ম্যাচ স্থানান্তর নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB)-এর সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
ক্রিকেটের নন্দনকাননে ইডেন গার্ডেন্স (Eden Gardens) এবার সাক্ষী হতে চলেছে মহালয়ার সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক মহোৎসবের। দুর্গা মায়ের প্রতিমার চোখ আঁকবেন স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তবে মহালয়ার পরদিনই ইডেনের বাইশে গজে বাংলার রঞ্জি ট্রফির মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নির্ধারিত থাকায় তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চয়তা। ম্যাচ কীভাবে সম্ভব, কী ভাবছে সিএবি? সেই প্রসঙ্গেই সমস্তটা খোলসা করলেন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
ভিভিআইপি নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় এসপিজির কড়া নজরদারির কারণে ইডেন থেকে সম্ভবত ওই ক্রিকেট ম্যাচটি স্থানান্তরিত করা হবে কল্যাণীতে।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া। প্রধানমন্ত্রীর হাই-প্রোফাইল সফর ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার খাতিরে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ইডেন স্টেডিয়ামের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি (SPG)-র হাতে। অন্যদিকে, ঠিক তার মাঝেই ১১ অক্টোবর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের রঞ্জি ট্রফিতে নামছে বাংলা ক্রিকেট দল। প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হওয়ার কথা দিল্লির বিরুদ্ধে। ফলে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইডেনে একই সময়ে রঞ্জি ম্যাচ আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইডেনের এই রাজকীয় অনুষ্ঠান এবং ম্যাচ স্থানান্তর নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB)-এর সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দুর্গাপুজো তো প্রতিটা বাঙালির প্রাণের শ্রেষ্ঠ উৎসব। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসবেন, সেটা সমগ্র রাজ্য তথা আমাদের সবার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর আগে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে এসেছিলেন, তখন আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের বিশেষ অনুষ্ঠানে আমি বিসিসিআই (BCCI) সভাপতি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত ছিলাম। ফলে আমরা এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত। ক্রিকেট সংস্থার হাতে বর্তমানে একাধিক উন্নত পরিকাঠামোর মাঠ রয়েছে। কল্যাণীতে তো নিয়মিত প্রথম সারির ম্যাচ খেলা হয়, তাই প্রয়োজনে একটি ম্যাচ অন্য মাঠে স্থানান্তরিত করাই যায়। এতে কোনও বড় সমস্যা তৈরি হবে না।”
উল্লেখ্য, বিগত মরশুমেও কল্যাণীর মাঠে বাংলার বেশ কয়েকটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আয়োজিত হয়েছিল। এমনকি রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালের মতো খেলাও সফলভাবে হয়েছিল এই কল্যাণীতেই।
এর আগেও সৌরভ জানিয়েছিলেন ইডেনে মহালয়ার অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়ে 'যেরকম সরকার, মুখ্যমন্ত্রী বলবেন সেভাবেই হবে।'
মহালয়ায় ইডেন উদ্যানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেবী দুর্গার চক্ষুদানের সুবর্ণ মুহূর্ত দিয়েই সূচনা হবে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর। তার ঠিক আগে শহর কলকাতায় আয়োজিত হতে চলেছে এক জমকালো রোড শো। তিলোত্তমার বুকে আলোকসজ্জায় ঝলমল করে ওঠা রেড রোড ধরে আয়োজিত পুজো শোভাযাত্রায় অংশ নেবে রাজ্যের ২৩টি জেলার নিজস্ব ২৩ রকমের লোকনৃত্য ও পরিবেশনা, যা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে বাংলার হাজার বছরের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে।
মহালয়ার দিন থেকেই গোটা বঙ্গবাসী পুরোপুরি মেতে উঠবে উৎসবের রঙিন আমেজে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কলকাতার রেড রোডে বিশেষ রোড শো এবং ইডেন উদ্যানে এই মহা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। বিকেল চারটের সময় ইডেনে শুরু হবে মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা হতে চলেছে আন্তর্জাতিক চমকপ্রদ ইভেন্ট।
দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব হিসেবে তুলে ধরাই সরকারের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য নয়। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)