'আগের সরকারে সবই নেতিবাচক ছিল', পুজোর আগেই শিল্পনীতি ঘোষণা করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের স্পষ্ট কথা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯-এর মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এমনটা যেন না হয় যে, ২০২৯-এর ডিসেম্বরের পর শিল্পপতিদের কাছ থেকে জমি ফেরত নিতে হয়। বরং ২৯-এর ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে।
মিলন মেলায় শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি বিতরণের অনুষ্ঠান থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানালেন, রাজ্য সরকার পুজোর আগেই শিল্পনীতি (Industry) ঘোষণা করবে। একইসঙ্গে শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ করার বার্তা দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, ১৫৫-৩৩৫ টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। যদি কোথাও কেউ হুমকি দেয় বা তোলাবাজি করতে আসে, তাহলে এই নম্বরে জানালেই সরকার পদক্ষেপ করবে।
রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ নিয়ে একদিকে সিপিএম এবং অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, সিপিএম সব কিছু ধ্বংস করেছে। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে বলে দিলেন তিনি জমি দেবেন না, খুঁজে নিতে হবে। এটা কোনও জমি নীতি হতে পারে না। শুভেন্দুর কথায়, ''বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর দল খুব নেতিবাচক ছিল শিল্পায়নের বিষয়ে। আর মমতার নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই সিঙ্গুর থেকে টাটারা চলে গিয়েছিলেন।''
বিগত তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতির তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ''আগের সরকারে আমি কিছুদিন ছিলাম। সবকিছুই ছিল নেগেটিভ। শুধু ৫০০ টাকা করে ভাতা। সারা দেশ বলছিল আমরা আত্মনির্ভর ভারত হব, আর পশ্চিমবঙ্গ বলছিল আমরা ভাতা নির্ভর হব।'' তিনি মনে করিয়ে দেন, আগের সরকার শিল্প স্থাপনে 'ইনসেন্টিভ' শব্দটিকেই মুছে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার একটা ছোট তহবিল করেছে ইনসেন্টিভের জন্য।
রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, আম্বানিরা পাঁচ থেকে ছটি সেক্টরে কাজ করতে চান রাজ্যে, খুব তাড়াতাড়ি তাঁদের একটি দলও আসবে বাংলায়। পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার গৌতম আদানির হাসপাতালের ভূমিপুজো হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের 'উড়ান' স্কিমেও সই করা হবে সামনের সপ্তাহে। কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট, পুরুলিয়া সহ মোট পাঁচটি বিমানবন্দর করা হবে পশ্চিমবঙ্গে।
বুধবারের এই অনুষ্ঠানে মোট ৩৩টি শিল্প সংস্থাকে জমি বিতরণ করা হয় যেখানে মোট প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে দাবি সরকারের। সেমিকন্ডাক্টর, ডিফেন্স ও অ্যামুনেশন, সোলার, ইলেক্ট্রিক্যাল ভেহিক্যালস, ফার্মা, স্টিল, ফুড প্রসেসিং, এমএসএমই, বস্ত্রশিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং - শিল্পের জন্য জমি দেওয়া হয়।
রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের স্পষ্ট কথা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯-এর মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এমনটা যেন না হয় যে, ২০২৯-এর ডিসেম্বরের পর শিল্পপতিদের কাছ থেকে জমি ফেরত নিতে হয়। বরং ২৯-এর ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)