ইতিহাসে প্রথমবার! ২০৩২ সাইক্লিং বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত, পাখির চোখ সেই অলিম্পিক্স
২০৩২ সালের সাইক্লিং রোড ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসতে চলেছে ভারতের পুণেতে। এই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে মেগা এই টুর্নামেন্টের আয়োজন। এর ফলে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের দাবি আরও জোরালো করল ভারত।
২০৩২ সালের সাইক্লিং রোড ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের (2032 Cycling Road World Championships) আসর বসতে চলেছে ভারতে। এই প্রথম। কানাডার মন্ট্রিয়লে ইন্টারন্যাশনাল সাইক্লিং ইউনিয়নের (UCI) বার্ষিক কংগ্রেসে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটাভুটিতে নেদারল্যান্ডসের গ্রোনিংগেন ও ড্রেন্থেকে হারিয়ে বাজিমাত করেছে পুণে। ডাচরা অবশ্য ২০৩৪ সালের আসর আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে।
ল্যাপার্টিয়েন্টের উচ্ছ্বাস ও ভারতের অলিম্পিক স্বপ্ন
ইউসিআই সভাপতি ডেভিড ল্যাপার্টিয়েন্ট উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, 'এই প্রথমবার আমরা ভারতে যাচ্ছি। ১৪০ কোটি মানুষের দেশ। আমরা জানি, পুণের অত্যন্ত শক্তিশালী সাইক্লিং সংস্কৃতি রয়েছে।'
এই ঘোষণা ক্রীড়া মানচিত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্স গেমসের (2036 Olympic Games) আয়োজক হওয়ার দৌড়ে ভারত এখন প্রবল দাবিদার। সাইক্লিংয়ের বিশ্ব আসর জমিকে আরও পোক্ত করল। অলিম্পিক্স আয়োজনের লড়াইয়ে আমদাবাদের (Ahmedabad Olympic bid) সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে কাতারের দোহা। ময়দানে রয়েছে তুরস্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকাও। আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি।
সাইক্লিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (CFI) সেক্রেটারি জেনারেল মনিন্দর পাল সিংয়ের মতে, প্রতিটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টই হল অলিম্পিক্স আয়োজনের একেকটি ধাপ। তাঁর কথায়, 'আমাদের প্রত্যেক আন্তর্জাতিক ইভেন্টেই এই মানসিকতা নিয়ে যেতে হবে, যে আমরা বিশ্বকে আমাদের সক্ষমতা দেখাচ্ছি। এই ছোট ছোট পদক্ষেপই ২০৩৬ অলিম্পিক বিডিংয়ের পথ তৈরি করছে। সাইক্লিং অলিম্পিকের একটি প্রধান খেলা। ফলে এই বিশ্বকাপ আয়োজন গোটা বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে।'
ডোপিংয়ের কাঁটা ও কড়া পদক্ষেপ
ইউসিআই সভাপতি ল্যাপার্টিয়েন্ট নিজে আইওসি-র ১০৬ জন ভোটিং সদস্যের একজন। ভারতের প্রতি তাঁর এই সমর্থন আমদাবাদের অলিম্পিক বিডকে অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে স্বপ্নপূরণের পথে বড় কাঁটা ডোপিং। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই নিয়ে সর্বাধিক মামলার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড ছুঁয়েছে ভারত।
যদিও মনিন্দরের দাবি, সাইক্লিংয়ে ডোপিংয়ের হার নগণ্য। অ্যাথলেটিক্স বা ভারোত্তোলনে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, 'ডোপিং একটি ব্যাধি। তবে ২০৩২ সালের জন্য আমাদের আলাদা ও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ডোপিং রুখতে এমন অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা আগে কেউ শোনেনি।'
ভারতীয় সাইক্লিংয়ের অভাবনীয় উত্থান
ভারতে সাইক্লিংয়ের উত্থান রীতিমতো চমকপ্রদ। এক দশক আগে পর্যন্ত বিশ্ব সাইক্লিং মানচিত্রে ভারতের তেমন কোনও অস্তিত্বই ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুণে গ্র্যান্ড ট্যুরের (Pune Grand Tour) হাত ধরে আসল বদলটা শুরু হয়। ২৮টি দলের অংশগ্রহণে সফলভাবে আয়োজিত হয় টুর্নামেন্ট। ২০২৭ সালের মধ্যে এই রেসের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, ২০৩০ বা ২০৩২ সালের মধ্যে পুণে গ্র্যান্ড ট্যুরকে বিশ্ব ক্যালেন্ডারে (WorldTour calendar) স্থায়ী জায়গা করে দেওয়া।
মজার বিষয় হল, ২০৩২ সালের বিশ্বকাপের বিডিং প্রক্রিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের আবেদন এই গ্রীষ্মেই তড়িঘড়ি সেরে ফেলা হয়। মাত্র চার মাসের আলোচনায় পুণের নাম চূড়ান্ত! মনিন্দর বলেন, 'সবকিছু খুব দ্রুত ঘটছে। কয়েক মাস আগেও যদি আমি বলতাম আমরা বিশ্বকাপ আয়োজন করব, লোকে হাসত। কিন্তু আমরা এখন প্রস্তুত।'
সাইক্লিংয়ের বিশ্ব আসর ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে যে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)