কালীঘাটে গৌতমের সঙ্গে পুজো, নিউ টাউনে নজর কাড়লেন প্রীতি আদানি, কী তাঁর কর্মপরিচয়
প্রীতি আদানি পেশাগত প্রশিক্ষণে একজন দন্তচিকিৎসক। কিন্তু ব্যক্তিগত চিকিৎসকজীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজকে বেছে নিয়েছিলেন।
নিউ টাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর (Adani Arogya Mandir Newtown) ভূমিপুজোয় বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে পুজোয় বসেন গৌতম আদানি (Gautam Adani)। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে আরও একজনের উপস্থিতি নজর কাড়ে। তিনি গৌতমের স্ত্রী প্রীতি আদানি (Priti Adani)। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেখানে ছিলেন তিনি। পুজোর আচার কী ভাবে এগোচ্ছে, সে দিকেও নজর রাখতে দেখা যায় তাঁকে।
এই অনুষ্ঠানের জন্য বুধবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছিলেন গৌতম আদানি। সঙ্গে ছিলেন প্রীতি এবং তাঁদের ছেলে করণ আদানি। বৃহস্পতিবার সকালে গৌতম ও প্রীতি একসঙ্গে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন। সেখান থেকে নিউ টাউনের অনুষ্ঠানে যান। স্বামী ও ছেলের সঙ্গে প্রীতির এই সফর ঘিরে কৌতূহলও তৈরি হয়েছে—গৌতম আদানির স্ত্রী পরিচয়ের বাইরে তাঁর নিজের কাজ কী?
প্রীতি আদানি পেশাগত প্রশিক্ষণে একজন দন্তচিকিৎসক (Dentist)। কিন্তু ব্যক্তিগত চিকিৎসকজীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজকে বেছে নিয়েছিলেন। আদানি গোষ্ঠীর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি আদানি ফাউন্ডেশনের (Adani Foundation) নেতৃত্বে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন।
আদানি গোষ্ঠীর সামাজিক দায়বদ্ধতার কাজ পরিচালনা করে এই ফাউন্ডেশন। শুরুটা হয়েছিল গুজরাতের কচ্ছের মুন্দ্রা এলাকার কয়েকটি গ্রামে। পরে সেই কাজ ছড়িয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, জীবিকা, স্থানীয় উন্নয়ন এবং জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগকে ফাউন্ডেশন তাদের কাজের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তারা এখন ২২টি রাজ্যে কাজ করে। এই পরিসংখ্যান অবশ্য ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত হিসাব।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সঙ্গে প্রীতির যোগ কেবল ফাউন্ডেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আদানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টও। আদানি গোষ্ঠীর পরিচিতিতে তাঁকে চিকিৎসাবিদ্যায় প্রশিক্ষিত পেশাজীবী, শিক্ষাক্ষেত্রের সংগঠক এবং সমাজসেবী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ শিল্পগোষ্ঠীর পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন সদস্যের চেয়ে তাঁর নিজস্ব কর্মপরিসর অনেক বড়।
সেই পটভূমিতে নিউ টাউনের হাসপাতাল প্রকল্পের ভূমিপুজোয় তাঁর উপস্থিতি বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত হাসপাতালটি শুধু চিকিৎসার জন্য শয্যা বাড়ানোর প্রকল্প হিসেবেই আলোচনায় নেই; তার সঙ্গে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও গবেষণার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। চিকিৎসাবিদ্যায় প্রীতির প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের কাজের অভিজ্ঞতার কারণে এই প্রকল্প নিয়ে তাঁর আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। তবে হাসপাতালটি নির্মাণ বা পরিচালনায় প্রীতি আদানি কোনও নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিচ্ছেন বলে এখনও ঘোষণা হয়নি।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানের ছবিতে দেখা যায়, গৌতম আদানি ও শুভেন্দু অধিকারী পুজোয় অংশ নিচ্ছেন। পাশে ছিলেন প্রীতিও। সকালের কালীঘাট সফর থেকে নিউ টাউনের ভূমিপুজো—দিনের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পর্বেই গৌতমের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি ছিল। শিল্প বিনিয়োগের বড় ঘোষণার দিনটি তাই আদানি পরিবারের একসঙ্গে কলকাতায় আসার মুহূর্ত হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে রইল।
এই মুহূর্তে প্রকল্পটির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য নির্মাণের সময়সীমা এবং ভবিষ্যতে রোগীরা কী কী পরিষেবা পাবেন। ভূমিপুজো দিয়ে তার সূচনা হল; হাসপাতাল চালু হওয়ার পরেই বোঝা যাবে পরিকল্পনার কতটা বাস্তবে পৌঁছল। আর সেই পথচলার প্রথম দিনে অনুষ্ঠানস্থলে প্রীতির সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)