এক চিঠিতে সই সিপিএম-তৃণমূল-কংগ্রেসের, রাজ্যে স্বচ্ছ পুরভোট চেয়ে পত্র গেল কমিশনের ডাকবাক্সে

সংশ্লিষ্ট স্মারকলিপিতে সই করেছেন মমতা তৃণমূলের (Mamata TMC) বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy), সিপিএম (CPIM) রাজ্য কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী, প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

Oct 27, 2026 - 12:06
এক চিঠিতে সই সিপিএম-তৃণমূল-কংগ্রেসের, রাজ্যে স্বচ্ছ পুরভোট চেয়ে পত্র গেল কমিশনের ডাকবাক্সে

এক চিঠিতে সই। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে ‘এসআইআর’ (SIR)-এর জেরে বহু বৈধ ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সমস্ত পুরনির্বাচন স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার শ্রী কৃষ্ণ গুপ্তের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল বিরোধী দল ও নাগরিক অধিকার সংগঠন।

সংশ্লিষ্ট স্মারকলিপিতে সই করেছেন মমতা তৃণমূলের (Mamata TMC) বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy), সিপিএম (CPIM) রাজ্য কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী, প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাদ পড়া ও নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, আগামী বছরের ১ জানুয়ারিকে যোগ্যতার তারিখ ধরে একটি বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন বা ‘এসএসআর’ (SSR)-এর বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে কমিশন। যার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত বাদ পড়া যোগ্য নাগরিককে ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, কলকাতা (KMC), হাওড়া (HMC) বা রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাগুলির নির্বাচন যেন এই বিশেষ সংশোধন ও এসএসআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই করা হয়। এর ফলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া বৈধ ভোটাররা ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, এসআইআর আপিল ট্রাইব্যুনালে যে লক্ষাধিক আবেদন বিচারাধীন রয়েছে (যার মধ্যে কেবল কলকাতা পুরসভারই প্রায় ১.২ লক্ষ এবং হাওড়ায় প্রায় ৩৯ হাজার আবেদন রয়েছে), তাঁদের নামও আসন্ন পুরনির্বাচনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির প্রায় শতভাগই অন্তর্ভুক্তির পক্ষে গেছে, তাই এই লক্ষাধিক মানুষকে বাদ দিলে তা দ্বিতীয়বার ভোটাধিকার হরণের শামিল হবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবিধানের ২৪৩ জেডএ ধারা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন, ১৯৯৪-এর ৫ ধারা অনুযায়ী রাজ্যের সমস্ত পুরনির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ বিধিবদ্ধ ক্ষমতা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে। এই আইনি অধিকারকে কাজে লাগিয়েই বিরোধীদের পক্ষ থেকে মূলত দু'টি আর্জি জানানো হয়েছে,

কলকাতা, হাওড়া ও অন্যান্য সমস্ত পুরসভা বা পুরনিগমের নির্বাচন যেন নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বিশেষ সংশোধন ও এসএসআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি বা তারপরেই অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাইব্যুনালে আপিল করা সমস্ত ভোটারের নাম কলকাতা ও হাওড়া-সহ সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলির ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন যেন তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

তিন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা ছাড়াও স্মারকলিপিতে সই করেছে সিপিআইএমএল (লিবারেশন), নাগরিক সমন্বয় মঞ্চ, সংগ্রামী গণমঞ্চ-সহ প্রাক্তন আইএএস ও সাংসদ জহর সরকার, সুজাত ভদ্রের মতো বিশিষ্টরা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0