কেতনকে খুনের পরিকল্পনার পর মহড়াও দিয়েছিলেন সিয়া, সঙ্গী প্রেমিক! তথ্য পেয়ে অবাক পুলিশও
২৬ বছরের কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী। পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের জেরেই পরিকল্পিতভাবে কেতনকে খুন করা হয়। বর্তমানে দু’জনেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ ৩ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুনের বহুচর্চিত কেতন আগরওয়াল খুনের ঘটনায় (Ketan Agarwal Death) সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের আগে মহড়াও দিয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী! পুণে পুলিশের দাবি, লোহাগড় দুর্গে (Pune Fort Murder) কেতনকে খাদে ঠেলে ফেলার আগে শহরের একটি পাহাড়ি এলাকায় সেই ঘটনার অনুশীলন করেছিলেন দু’জনে।
২৬ বছরের কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী। পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের জেরেই পরিকল্পিতভাবে কেতনকে খুন করা হয়। বর্তমানে দু’জনেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ ৩ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, পুণের লুল্লা নগর এলাকার একটি খোলা জায়গায় খুনের আগে মহড়া দিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। ওই জায়গাটি সিয়ার বাড়ির খুব কাছেই। মার্কেট ইয়ার্ড এলাকার ‘লীলা কুঞ্জ’ নামে একটি আবাসনে থাকতেন সিয়া। কয়েকদিন আগে তদন্তকারীরা তাঁকে সেখানে নিয়ে গিয়ে ১৮ জুনের ঘটনার দিন পরা পোশাক উদ্ধার করেন। এরপরই পুলিশ সিয়াকে নিয়ে যায় সেই পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে নাকি খুনের অনুশীলন হয়েছিল।
পুণে গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, লোহাগড় দুর্গে কীভাবে কেতনকে ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেওয়া হবে, তা আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন সিয়া ও চেতন। সেই পরিকল্পনাই লুল্লা নগরের একটি ক্লাবের কাছে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে অনুশীলন করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। বুধবার সিয়াকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি নাকি সেই জায়গা চিহ্নিতও করেন।
এর আগেও রবিবার সিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছিল পুলিশ। সেখানে একটি কৃত্রিম পুতুল ব্যবহার করে দেখানো হয়, কীভাবে কেতনকে খাদে ঠেলে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তিন দিন পর একইভাবে চেতন চৌধুরীকেও লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, খুনের আগে ইন্টারনেটে নানা উপায়ে মানুষকে খুন করার পদ্ধতি খুঁজছিল অভিযুক্তরা। পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া ও চেতন আগেই একবার লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিল শুধুমাত্র খুনের পরিকল্পনা যাচাই করতে। এমনকী ধরা পড়লে কী উত্তর দেওয়া হবে, সেই কথাবার্তারও মহড়া দিয়েছিল তারা। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে খুনের সময় ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
খুনের দিন চেতন চৌধুরী মোটরবাইকের বদলে স্কুটার ব্যবহার করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক তথ্য এড়ানো এবং নজরদারি ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পরে একই স্কুটারে করে সে পুনেতে ফিরে আসে। ইতিমধ্যেই সেই স্কুটার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। দুর্গে ওঠার সময় প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও মাথায় ঢাকা পোশাক পরে ছিল চেতন। প্রায় ৩৩ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেও ওই পোশাক পরে থাকায় তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়। পরে সেই সূত্র ধরেই পুলিশের নজরে আসে তাঁর গতিবিধি।
পুলিশের দাবি, মে মাসের শেষ দিকেই খুনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এখন তদন্তকারীরা দুই অভিযুক্তের পলিগ্রাফ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর জন্য ইতিমধ্যেই আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার আশা, এই পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযুক্তদের বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়তে পারে এবং খুনের পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)