কোয়েল কাক নন, তাই ওঁকে লেগেছে! তবে আমরা আমাদের মতো থাকতে চাই, দ্য ওয়ালে এক্সক্লুসিভ শমীক

কলকাতা পুরভোটের আগে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা। দ্য ওয়ালকে শমীক ভট্টাচার্য জানালেন, বাইরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। কোয়েল মল্লিক প্রসঙ্গেও মন্তব্য রাজ্য সভাপতির।

Nov 05, 2026 - 10:59

চার জন রাজ্যসভার সাংসদ তৃণমূলের (TMC News) জার্সি ছেড়ে বিজেপির (BJP News) জার্সি পরে উচ্চকক্ষে চলে গিয়েছেন। রাজ্যে পালাবদলের পরে যখন এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করছে গোটা বাংলা তথা দেশ, তখন বৈষ্ণোবচিত বিনয় নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেছিলেন, “বাংলার মানুষ জামা বদলের জন্য ভোট দেননি। জামার ভিতরের মানুষগুলোকে বদলের জন্য ভোট দিয়েছেন।” পুরভোটের প্রাক্কালে যখন ফের জার্সিবদলের জল্পনা দানা বাঁধছে, তখন দ্য ওয়ালের মুখোমুখি হয়ে শমীক জানিয়ে দিলেন, দিল্লি ও কলকাতার জন্য তাঁদের আলাদা আলাদা গান রয়েছে।

চার জন সাংসদের জার্সিবদল প্রসঙ্গে শমীক বলেন, “এখান থেকে দিল্লি ১৫০০ কিলোমিটার দূরে। ওটা ভিন্ন বিষয়। ওরা থাকে ওধারে।” এই প্রসঙ্গেই শমীক ‘আনন্দ আশ্রম’ ছবির কালজয়ী গানের কলি আউড়ে বলেন, “কথা কিছু কিছু, বুঝে নিতে হয়।” 
শমীক মুখে সে কথা বলতে চাননি। তবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ!” কিন্তু কোয়েল মল্লিককে কোন দেশোদ্ধারে বিজেপির লাগবে? জবাবে শমীক বলেন, “কোয়েল কাক নন। তাই লাগবে।” শমীক এ-ও জানান, রাজনৈতিক দল কোনও হরিনাম সংকার্তনের গোষ্ঠী নয়। ফলে কৌশল করেই দলকে চলতে হয়।  

তবে বাংলার রাজনীতিতে যে শমীকদের দলের লাইনের মতোই গানের লাইন পৃথক, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। অনুপম রায়ের গানের কথা কিছুটা পাল্টে শমীক বলেন, “এখানে আমরা আমাদের মতো থাকতে চাই।” ঘুরিয়ে শমীক বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপি এখন নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছে।

কলকাতা পুরসভা ভোটের প্রাক্কালে জল্পনা রয়েছে, তৃণমূলের প্রাক্তন কিছু অভিজ্ঞ কাউন্সিলর বিজেপির টিকিট পেতে পারেন। শমীক এই প্রশ্নে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির-ই অনেক লোক রয়েছেন। বাইরের কারও দরকার পড়বে না। তবে বিজেপির একাংশে এই অভিমতও রয়েছে, পুরসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ লোক বাইরে থেকে না-নিলে, স্থানীয়স্তরের প্রসাসনে প্রভাব পড়বে। যা আসলে ধেয়ে যাবে রাজ্য সরকারের দিকেই। যেমন দিলীপ গোষও মনে করেন, দলের আদর্শ মেনে যদি অন্য দল থেকে কেউ এসে বিজেপিতে কাপ খাইয়ে নিতে পারেন, তাহলে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু তৃণমূলের কারওরই অভিজ্ঞতা নিয়ে বিজেপি অগ্রসর হতে চায় না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শমীক। তাঁর কথায়, “চুরির অভিজ্ঞতা আমাদের দরকার নেই। দীর্ঘদিন সংগঠন করলেও প্রশাসন সম্পর্কে ধারণা থাকে।”

সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’য় তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বামেরা শরিক। সেই প্রসঙ্গ টেনে শমীক একটা সময়ে বলতেন, “দিল্লিতে গিয়ে কী প্রেম, কী প্রেম! এ ওকে বলছে, এই এদিকে এসো, এসো না!” শমীকোচিত ভঙ্গিমায় সেই বক্তৃতা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল সে দিন, যে দিন দেখা গেল নতুন সংসদ ভবনের মকরদ্বারের সামনে তৃণমূল থেকে রাতারাতি এনসিপিআই বনে যাওয়া জুন মালিয়ার সঙ্গে করমর্দন করছেন শমীক। সেই ফুটেজের প্রেক্ষাপটে শমীক-কণ্ঠে বেজে উঠেছিল, “দিল্লিতে গিয়ে কী প্রেম! এ ওকে বলছে, এই এদিকে এসো, এসো না!” তা নিয়ে কম মিম হয়নি। কিন্তু শমীক তাতে কুণ্ঠিত নন। বরং বলে দিলেন, “আমায় নিয়ে মিম হচ্ছে মানে আমি প্রাসঙ্গিক।” কিন্তু পুরসভা ভোটে প্রাক্তন তৃণমূলীদের টিকিট পাওয়া রুখে দিয়ে আদৌ কি শমীকরাা নিজেদের মতো থাকতে পারবেন? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0