আরও বিষাক্ত হতে পারে বাতাস! দীপাবলি ও ছট পুজোর পর দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টির পরিকল্পনা সরকারের
বর্তমানে গোটা দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বাতাসের গুণমান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৩৬৭ ছুঁয়েছে, যা 'অত্যন্ত খারাপ' ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। জাহাঙ্গিরপুরীর মতো উত্তর দিল্লির একাধিক এলাকায় এসিআই ৪৫৯ অতিক্রম করে 'ভয়ানক' পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যেখানে বাতাসে বিষাক্ত PM2.5-এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
দীপাবলি ও ছট পুজোর পর রাজধানীর বায়ুদূষণ (Delhi Air Pollution) আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে 'কৃত্রিম বৃষ্টি' (Artificial Rain) তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দিল্লি সরকার।
বর্তমানে গোটা দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) অঞ্চলে বাতাসের গুণমান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৩৬৭ ছুঁয়েছে, যা 'অত্যন্ত খারাপ' (Very Poor) ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। জাহাঙ্গিরপুরীর মতো উত্তর দিল্লির একাধিক এলাকায় এসিআই ৪৫৯ অতিক্রম করে 'ভয়ানক' (Severe) পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যেখানে বাতাসে বিষাক্ত PM2.5-এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ধোঁয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইন্ডিয়া গেট সহ একাধিক জাতীয় স্মারক কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে এবং বাসিন্দারা মারাত্মক শ্বাসকষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন।
দূষণ রুখতে গত ১৫ দিনে দিল্লি সরকার ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় দু'টি কৃত্রিম বৃষ্টির মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত বছর ১০ হাজার মিটার উচ্চতায় কৃত্রিম বৃষ্টির পরীক্ষা করা হলেও, এ বছর প্রায় ৩০ হাজার মিটার উচ্চতায় মেঘের ওপর 'ক্লাউড সিডিং' (Cloud Seeding) প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। সিলভার আয়োডাইড ও শুষ্ক বরফ ছিটিয়ে মেঘ থেকে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানো সম্ভব হলেও পরিবেশবিদদের মতে এটি সাময়িক স্বস্তি মাত্র, মূল দূষণ কমায় না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা ও সবুজ বাজি
দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর দীপাবলি এবং তার আগের দিন নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সার্টিফাইড 'সবুজ বাজি' (Green Firecrackers) ফাটানো যাবে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, বাজির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দূষণ সমাধানের স্থায়ী উপায় কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্যপ্রমাণের অভাব রয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো যাবে। তবে আগামী ৯ নভেম্বর থেকে রাজধানীতে সম্পূর্ণ বাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল হবে।
গ্র্যাপ-২ (GRAP 2) কঠোর বিধিনিষেধ
কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM) সমগ্র দিল্লি-এনসিআর জুড়ে 'গ্রাফ-২' (Graded Response Action Plan Stage II) কার্যকর করেছে। এর অধীনে ধুলো সৃষ্টিকারী সব ধরণের নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া ডিজেল জেনারেটরের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাটে মেকানাইজড সুইপিং এবং লাগাতার জল ছিটানোর নির্দেশ জারি হয়েছে। পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং শহরের বাইরে থেকে আসা নন-BS VI গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে বাস ও মেট্রোর মতো গণপরিবহনের পরিষেবা বাড়ানো হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0