দিল্লির কৃষি ভবন চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষী মসজিদ সরাতে চায় সরকার, হাইকোর্টে জানাল কেন্দ্র

সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের জন্য দিল্লির কৃষি ভবন চত্বরের শতাব্দীপ্রাচীন মসজিদ সরানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। সরকারি দফতর চত্বরে স্থায়ী ধর্মীয় স্থাপনা রাখা অসামঞ্জস্যপূর্ণ, হাইকোর্টে হলফনামায় জানাল সরকার।

Nov 05, 2026 - 12:36
দিল্লির কৃষি ভবন চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষী মসজিদ সরাতে চায় সরকার, হাইকোর্টে জানাল কেন্দ্র

দিল্লির কৃষি ভবন চত্বরে রয়েছে শতবর্ষ প্রাচীন একটি মসজিদ। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন করতে ওই মসজিদটি সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মসজিদ কর্তৃপক্ষের মামলায় ভারত সরকারের তরফে বলা হয়েছে, 'কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও দফতর চত্বরের মধ্যে স্থায়ী কোনও ধর্মীয় স্থাপনা স্থাপন বা বজায় রাখা অগ্রহণযোগ্য এবং সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।' কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ভূমি ও উন্নয়ন দফতর হাইকোর্টে দাখিল করা এক হলফনামায় একথা বলেছে।

ওই মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী শাস্ত্রী ভবন ও কৃষি ভবনের জমিতে সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের পাঁচ নম্বর ভবনটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ‌ সেই জমিতেই রয়েছে মসজিদটি। সেটি সরিয়ে না নিলে সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের বাকি কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হচ্ছে।

অন্যদিকে, মসজিদ কর্তৃপক্ষ আদালতে আর্জি জানিয়েছে যাতে সরকার ওই প্রকল্প নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না করে। তাদের বক্তব্য মসজিদটির দীর্ঘ ইতিহাস এবং সেখানে যারা নিয়মিত নমাজ পাঠ করেন তাদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রাখা উচিত। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে সরকার হলফনামায় তাদের বক্তব্য জানিয়েছে। বলা হয়েছে, সেন্ট্রাল ভিস্তা নির্মাণকাজ একটি সর্বোচ্চ জাতীয় গুরুত্বের সরকারি প্রকল্প। প্রকল্প এলাকার ওপর মসজিদটি অবস্থিত। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সেখান থেকে মসজিদটি সরানো প্রয়োজন।

হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, 'এটি উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেটে ‘শাহী মসজিদ জাবতা গঞ্জ’ নামে একটি  মসজিদ কৃষি ভবনের দু কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত। সেটি প্রার্থনার জন্য উন্মুক্ত। কৃষি ভবনের মসজিদটিতে যারা প্রার্থনা করেন তারা বিকল্প হিসেবে ওই মসজিদটি বেছে নিতে পারেন। প্রসঙ্গত কৃষি ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত মসজিদটিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী আধিকারিকেরাও নমাজ পাঠ করে থাকেন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0