ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে! কীভাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্দিন কোটি টাকার ব্যবসায় বদলে গেল?
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এখন আর নিছক ফুটবল ক্লাব নেই, বরং পরিণত হয়েছে কনটেন্ট তৈরির কারখানায়! প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সমালোচনা ও ডিজিটাল মাধ্যমের দৌলতে ক্লাবের দুর্দিন কীভাবে কোটি টাকার ব্যবসায় রূপ নিয়েছে, তারই বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United)—বিশ্বফুটবলের আভিজাত্যের নাম। কিন্তু ইদানীং এই ক্লাব যেন তার আসল রূপ হারিয়ে একটি হাই-ভলিউম কনটেন্ট তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে! শনিবার চেলসির বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচে দলের ডাগআউটে দাঁড়ালেন কোচ মাইকেল ক্যারিক।
এই খবর তাঁর জন্য সুখবর হলেও, আসল পোয়াবারো অ্যামাজনের 'অল অর নাথিং' সিরিজের ক্যামেরা ক্রুদের। চলতি মরশুমে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের অন্দরমহলের প্রতিটা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার জন্য তাঁদের 'অবাধ প্রবেশের' বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চেলসির বিরুদ্ধে লড়াই হেরে ম্যান ইউ লিখল আরও এক লজ্জার খতিয়ান। চড়ল কনটেন্টের বহর! কারণ, ইদানীং ক্লাবের দুর্দিনকে কাজে লাগিয়ে প্রাক্তন কিংবদন্তিদের সমালোচনা আর পডকাস্টের দৌলতে কোটি টাকার ব্যবসা ফেঁদে বসার এক অদ্ভুত প্রবণতা শুরু হয়েছে।
প্রাক্তনদের 'জ্ঞানবর্ষণ' ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দাপট
গ্যারি নেভিল থেকে পল স্কোলস—এমন একজনও প্রাক্তন ম্যান ইউ ফুটবলার খুঁজে পাওয়া কঠিন, যাঁদের নিজস্ব কোনও ইউটিউব চ্যানেল বা পডকাস্ট নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সবাই কোমর বেঁধে নিয়মিত ক্লাবের সমালোচনা করে চলেছেন। গত রবিবার বোর্নমুথের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর স্কাই স্পোর্টসে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন নেভিল। পরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারিতে বসেই পডকাস্টে তিনি দাবি করেন, 'ম্যান ইউয়ের কিছু ফুটবলার একদম পেশাদার নয়। ঠিকমতো ঘুমোয় না, ঠিক খাবার খায় যায় না।'
২০২১ সালে নেভিলের শুরু করা 'দ্য ওভারল্যাপ' (The Overlap) চ্যানেলটি এখন স্পোর্টস মিডিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম। ওয়েন রুনি থেকে রয় কিন—সবাই এখন তাঁর চ্যানেলে এসে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।
পল স্কোলস ও নিকি বাট-ও পিছিয়ে নেই। 'দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য ফুটবল' নামের পডকাস্টে সকলে রীতিমতো তোপ দাগেন। গত মরশুমে ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে স্কোলস বলেছিলেন, ম্যান সিটির আর্লিং হালান্ড নাকি ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে তুলে নিয়ে দৌড়বেন! যদিও সেই ম্যাচ ২-০ গোলে জিতেছিল ম্যান ইউ, আর দুর্দান্ত খেলেছিলেন মার্তিনেজ।
কোচদের অস্বস্তি ও বাণিজ্যিক সাফল্য
প্রাক্তনদের এই নিরন্তর সমালোচনায় খেলোয়াড়রা যে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তা স্বীকার করেছিলেন প্রাক্তন কোচ এরিক টেন হাগও। তবে গ্যারি নেভিলের মতো প্রাক্তনদের বক্তব্য, তাঁরা ক্লাবের ভালোর জন্যই সমালোচনা করেন।
আশ্চর্যের বিষয় হল, ২০১৩ সালের পর প্রিমিয়ার লিগ (Premier League) না জিতলেও ক্লাবের বাণিজ্যিক আয়ে কোনও ভাটা পড়েনি। ২০১৮ সালে প্রাক্তন কর্তা এড উডওয়ার্ড গর্ব করে বলেছিলেন, দলের পারফরম্যান্সের ওপর বাণিজ্যিক আয় নির্ভর করে না। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে (Old Trafford) সমর্থকদের ব্যানারেও লেখা—'ঘৃণিত, পূজিত, কিন্তু কখনও উপেক্ষিত নয়'। ফলে, ফুটবল মাঠে চরম ভরাডুবি হলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাম ভাঙিয়ে কনটেন্ট তৈরির এই ব্যবসা যে রমরমিয়ে চলবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0