১০ বছর ধরে তৈরি নীতা আম্বানির ব্রোচ, রত্নখচিত ডানা নড়ে ওঠে মাঝেমধ্যে! বানালেন এক চিনা শিল্পী
মুম্বইয়ে এনএমএসিসির নতুন পাঠাগার উদ্বোধনে ‘সোয়ারিং স্পিরিট’ ড্রাগনফ্লাই ব্রোচ পরে তাক লাগালেন নীতা আম্বানি। দাম জানেন?
পোশাকের আভিজাত্য বা সাজগোজ নয়, নজর কেড়ে নিল একটি মাত্র গয়না। মুম্বইয়ে নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারের নতুন পাঠাগার ‘দ্য লাইব্রেরি’র উদ্বোধনে নীতা আম্বানির সাজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠল একটি ড্রাগনফ্লাই বা ফড়িংয়ের আদলে তৈরি ব্রোচ। চিনা গয়না শিল্পী ওয়ালেস চ্যানের তৈরি এই বিশেষ অলঙ্কারের আনুমানিক দাম ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। নাম ‘সোয়ারিং স্পিরিট’। নকশা থেকে রত্নের কারুকাজ—সবেতেই রয়েছে শিল্পের ছাপ। বানাতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর। আর সেটাই এখন চর্চায়।
৩১ অক্টোবরের অনুষ্ঠানে নীতার পরনে ছিল বেইজ রঙের লিনেন প্যান্টস্যুট। ব্লেজার ও ফ্লেয়ারড ট্রাউজারের সঙ্গে গোলাপি আভাযুক্ত লেসের ব্লাউজ। কানে হিরের দুল, হাতে আংটি ও ঘড়ি। তবে এই সাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর টেনেছে রঙিন পাথর বসানো ফড়িংয়ের ব্রোচটি।
ওয়ালেস চ্যানের তৈরি এই গয়না সম্পূর্ণ করতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর। এতে রয়েছে ১৭.৬৭ ক্যারেটের সবুজ রঙের সাভোরাইট গারনেট, ডিমান্টয়েড গারনেট, রুবি, গোলাপি স্যাফায়ার, হলুদ হিরে এবং বিভিন্ন রঙের আরও হিরে। টাইটেনিয়াম ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে ফড়িংয়ের শরীর। আন্তর্জাতিক বাজারে এর আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা।
ফড়িংয়ের ডানায় অ্যাবাকাসের ভাবনা
‘সোয়ারিং স্পিরিট’ নামের এই অলঙ্কারের অনুপ্রেরণা ফড়িং। স্বাধীনতা, স্বপ্ন, পরিবর্তন এবং অসীম সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে এই পতঙ্গকে তুলে ধরা হয়েছে। এর ডানার নকশায় রয়েছে অ্যাবাকাসের ভাবনা—যন্ত্রটি একসময় গণনা ও পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত হত।
চ্যানের ওয়েবসাইটে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ফড়িং চারপাশের পরিবেশের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করে নিজের চলার পথ ও গতি সামলায়। সেই ভাবনাই ফুটে উঠেছে গয়নার নকশায়। টাইটেনিয়াম নমনীয় হওয়ায় ব্রোচটি যিনি পরবেন তাঁর শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গেও তাল মেলাবে এটি। প্রকৃতির নানা উপাদানকে শিল্পে রূপ দেওয়ার জন্য পরিচিত ওয়ালেস চ্যান। তাঁর কাজে প্রজাপতি, মাছ, ফড়িংয়ের মতো নানা জীবের অনুপ্রেরণা বারবার ফিরে এসেছে।
বই, খাবার আর কথোপকথনের নতুন ঠিকানা
যে অনুষ্ঠানে এই গয়না নজর কাড়ল, সেই ‘দ্য লাইব্রেরি’ তৈরি হয়েছে বইপড়া, আলোচনা, খাবার এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার মিলনস্থল হিসেবে। এখানে ইংরেজি ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার ৪৫০০-র বেশি বই রয়েছে। পাঠের পাশাপাশি কর্মশালা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনে নীতা আম্বানি বলেন, ‘আমরা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই ও পড়ার আনন্দ ফিরিয়ে আনতে চাই।’ বই, কৌতূহল ও নতুন ভাবনার এই আয়োজনের সঙ্গে ‘সোয়ারিং স্পিরিট’ নামের ব্রোচটির প্রতীকী অর্থও যেন মিলে যায়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0