নতুন স্কিমে কি প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদ বাড়ল? বিভ্রান্তি দূর করে আসল সত্য জানাল কেন্দ্র

বর্তমানে প্রভিডেন্ট ফান্ডে যে ৮.২৫ শতাংশ বার্ষিক সুদ মিলছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরেও আপাতত সেই সুদের হারই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, নতুন স্কিম মানেই বেশি সুদ—এই ধারণা একেবারেই ভুল।

Jul 03, 2026 - 13:08
0 0
নতুন স্কিমে কি প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদ বাড়ল? বিভ্রান্তি দূর করে আসল সত্য জানাল কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন ‘Employees' Provident Funds Scheme, 2026’ চালু হওয়ার পর থেকেই দেশের চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর দাবি করা হচ্ছিল যে, নতুন স্কিম আসায় এবার কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF interest rate)-এর সুদের হারও নাকি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই জল্পনায় পুরোপুরি জল ঢেলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন স্কিম চালু হলেও EPF-এর সুদের হারে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।

বর্তমানে প্রভিডেন্ট ফান্ডে যে ৮.২৫ শতাংশ বার্ষিক সুদ মিলছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরেও আপাতত সেই সুদের হারই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, নতুন স্কিম মানেই বেশি সুদ—এই ধারণা একেবারেই ভুল।

তাহলে নতুন স্কিমে ঠিক কী বদল হয়েছে?

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ‘Employees' Provident Funds Scheme, 2026’ মূলত ১৯৫২ সালের পুরনো এনালগ স্কিমটির জায়গায় আনা হয়েছে। এটি মূলত Code on Social Security, 2020-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি একটি আইনি ও প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ। এর মূল লক্ষ্য হলো— ইপিএফও (EPFO)-র প্রশাসনিক নিয়মকে আরও স্পষ্ট করা। ডিজিটাল পরিষেবা ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা উন্নত করা। তবে কর্মীদের মূল সঞ্চয় বা সুদের বর্তমান কাঠামোয় কোনও হাত দেওয়া হয়নি।

কী কী আগের মতোই থাকছে?

নতুন স্কিম এলেও সাধারণ চাকরিজীবীদের মাসিক পিএফ কাটা বা সুদের হিসাবে এই বিষয়গুলি একদম অপরিবর্তিত থাকছে—বার্ষিক সুদের হার ৮.২৫ শতাংশই থাকছে।কর্মী ও সংস্থার অবদান বা কনট্রিবিউশন ১২ শতাংশ করে পিএফ কাটার নিয়ম একই আছে। EPF-এর মূল বেতনসীমা (Wage Ceiling) ১৫,০০০ টাকাতেই স্থির রয়েছে। ভলান্টারি প্রভিডেন্ট ফান্ড (VPF) এবং ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) ব্যবস্থা আগের মতোই কাজ করবে।

নতুন স্কিমে কর্মীদের বাড়তি কী সুবিধা মিলবে?

সুদ না বাড়লেও, এই নতুন স্কিমের দৌলতে আমজনতার জন্য EPFO-র পরিষেবা অনেক বেশি দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে চলেছে। সরকার যে নতুন সুবিধাগুলি এনেছে, তা হল—৩ দিনে পিএফ ক্লেম: এখন থেকে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে পিএফ ক্লেম নিষ্পত্তি বা সেটেলমেন্ট করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

উপযুক্ত কারণ ছাড়া ক্লেম প্রসেস করতে অযথা দেরি হলে, দায়ী কর্তাদের বিরুদ্ধে ১২ শতাংশ হারে জরিমানা বা সুদ ধার্যের কড়া নিয়ম রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ক্লেম প্রসেসকে আরও সহজ করা হয়েছে এবং ই-ট্রাস্টগুলির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মনে রাখতে হবে যে কেন্দ্র নিয়ম করেছে যে, ১৫,০০০ টাকার বেশি বেসিক বেতনের অংশে অতিরিক্ত EPF অবদান রাখা আর বাধ্যতামূলক নয়। অতিরিক্ত পিএফ কাটা হবে কি না, তা এখন কর্মী ও কোম্পানির পারস্পরিক সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ইপিএফ স্কিম নিয়ে অযথা বিভ্রান্ত হওয়ার বা প্যানিক করার কোনও কারণ নেই। বদল যা হয়েছে, তা মূলত পর্দার আড়ালে প্রশাসনিক কাঠামো ও প্রযুক্তিতে, কারও জমানো টাকার অঙ্কে নয়। তবে পরিষেবায় গতি আসায় ভবিষ্যতে দাবি নিষ্পত্তি বা পিএফ-এর টাকা তোলার ক্ষেত্রে কর্মীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পাবেন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User