নাবালক ছেলের বাবাকে লিভার দানের অনুমতি! লিভার কীভাবে ফের গজায় শরীরে? জানুন বিজ্ঞানের ম্যাজিক

দিল্লির হাইকোর্ট ১৭ বছর বয়সি প্রতীক শ-কে তার বাবার প্রাণ বাঁচাতে লিভা দান করার ঐতিহাসিক অনুমতি দিয়েছে। আইনত নাবালকদের অঙ্গদান নিষিদ্ধ হলেও কেন এই ব্যতিক্রম? মানুষের লিভার কীভাবে অস্ত্রোপচারের পর আবার আগের আকারে ফিরে আসে?

Jul 02, 2026 - 12:37
0 0
নাবালক ছেলের বাবাকে লিভার দানের অনুমতি! লিভার কীভাবে ফের গজায় শরীরে? জানুন বিজ্ঞানের ম্যাজিক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবার জীবন বাঁচাতে নিজের লিভার দান করার জন্য আইনি লড়াইয়ে জিতল ১৭ বছরের এক কিশোর। ভারতের রাজধানী দিল্লির হাইকোর্ট ১৭ বছর বয়সি প্রতীক শ-কে (Pratik Shaw) তাঁর আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা বাবার জন্য লিভার দাতা বা ডোনার হওয়ার ঐতিহাসিক অনুমতি দিয়েছে। প্রতীকের বাবা উত্তম কুমার শ বর্তমানে অ্যাডভান্সড ক্রনিক লিভার ডিজিজ, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের (Hepatocellular Carcinoma) শেষ পর্যায়ের সাথে লড়াই করছেন।

চিকিৎসকদের মতে, এই মুহূর্তে লিভার প্রতিস্থাপন (Liver Transplant) ছাড়া তাঁকে বাঁচানোর আর কোনও উপায় নেই। পরিবারের বাকি প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের শারীরিক পরীক্ষা করা হলেও কারও লিভার ম্যাচ করেনি। একমাত্র প্রতীকই ছিলেন উপযুক্ত দাতা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারতের কঠিন অঙ্গদান আইন। অবশেষে গত ২৯ জুন, ২০২৬ তারিখে বিচারপতি মিনি পুশকর্ণার আদালত সমস্ত দিক বিবেচনা করে এই মানবিক রায় দেন।

ভারতে নাবালকদের অঙ্গদান কেন এত বিরল?

ভারতের ‘মানব অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন নিয়ম (THO Rules), ২০১৪’ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সি বা নাবালকদের জীবিত অবস্থায় অঙ্গদান করা সাধারণত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর মূল কারণ হল, নাবালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে কোনও রকম জোরজুলুম বা আর্থিক প্রলোভনের শিকার হয়ে তারা অঙ্গদানে বাধ্য না হয়।

তবে আইনে একটি অত্যন্ত বিরল ব্যতিক্রমী ধারাও রয়েছে। যদি কোনও রোগীর জীবন বাঁচাতে অঙ্গ প্রতিস্থাপনই একমাত্র পথ হয় এবং কোনো উপযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক দাতা খুঁজে পাওয়া না যায়, তবেই কেবল বিশেষ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে নাবালকরা অঙ্গদান করতে পারে। প্রতীকের ক্ষেত্রে আদালত নিশ্চিত হয়েছে যে, প্রতীক কোনও রকম চাপ বা আর্থিক প্রলোভন ছাড়া, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে এবং মেডিকেল বোর্ডের পরীক্ষায় প্রতীক শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং লিভার দানের উপযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে।

লিভারের ‘পুনর্জন্ম’ বা রিজেনারেশন: বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য ম্যাজিক

মানুষের শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় লিভারের একটি অত্যন্ত অনন্য ও জাদুকরী বৈশিষ্ট্য রয়েছে—তা হল, রিজেনারেশন (Regeneration) বা স্ব-পুনর্গঠন ক্ষমতা। হার্ট বা কিডনির মতো লিভার কেটে বাদ দিলে তা চিরতরে হারিয়ে যায় না, বরং এটি আবার নতুন করে গজিয়ে উঠতে পারে।

এই কারণেই জীবিত মানুষের শরীর থেকে লিভারের একটি অংশ কেটে নিয়ে অন্য মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। অস্ত্রোপচারের পর দাতা এবং গ্রহীতা—দুজনের শরীরেই লিভারের অংশটি কোষ বিভাজনের মাধ্যমে দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে তা আবার একটি পূর্ণাঙ্গ লিভারের আকার ধারণ করে।

মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, লিভারের পুনর্গঠন ক্ষমতা চমৎকার হলেও এই ধরণের জটিল অস্ত্রোপচারের সফলতা এবং পরবর্তী সুস্থতা নির্ভর করে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং আজীবন চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে থাকার ওপর। প্রতীক শ-এর এই সাহসিকতা ও আইনি জয় ভারতের চিকিৎসাক্ষেত্রে ও মানবিকতার ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ডিসক্লেমার: এই প্রতিবেদনটি দিল্লির হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় এবং লিভার প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত সাধারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সচেতনতার উদ্দেশে রচিত। অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের মতো জটিল বিষয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও লিগ্যাল প্যানেলের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 
Disclaimer: The clinical reporting on hepatic lobectomy, living donor liver transplantation (LDLT), and compensatory hyperplasia (liver regeneration) is structured for public health informational purposes. Living organ donation by minors in India is heavily regulated under the THO Rules 2014 and requires strict judicial and ethical clearance. Post-operative recovery for both donor and recipient involves potential risks of hemorrhage, biliary leakage, and requires long-term immunosuppressive management for the recipient. Any medical intervention must be guided by a certified transplant team.

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User