পুরনো দিল্লির চাওড়ি বাজারে নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে মৃত ২, ধ্বংসস্তূপে আটকে একাধিক
পুরনো দিল্লির চাওড়ি বাজারের গলি সিতারায় নির্মীয়মাণ তিনতলা বাড়ি ধসে অন্তত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে একাধিক ব্যক্তির আটকে থাকার আশঙ্কা।
পুরনো দিল্লির চাওড়ি বাজারে দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার সকালে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ তিনতলা একটি বাড়ি। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে চাওড়ি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে গলি সিতারায়। আচমকা বাড়িটি ভেঙে পড়তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও উদ্ধারকারী দল।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাস্থলে অন্তত ছ’টি দমকলের ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে। রয়েছে জলবাহী গাড়ি এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত বিশেষ যানও। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের তদারকি করছেন দমকল ও প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। তবে ঠিক কতজন ওই বাড়ির ভিতরে ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণও জানা যায়নি।
কয়েক দিন আগেই ভেঙেছিল ১৬০ বছরের পুরনো টাউন হল
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর পুরনো দিল্লির চাঁদনি চকে ভেঙে পড়েছিল ১৬০ বছরেরও বেশি পুরনো পুরসভার টাউন হলের একাংশ। টানা দু’দিনের ভারী বৃষ্টির পর বাড়িটির প্রবেশপথের ছাদ এবং দু'টি বড় বিম ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সংলগ্ন অংশও। ভবনের সামনের দেওয়াল, একতলার কিছু অংশ এবং মূল প্রবেশপথের আশপাশের দেওয়ালেও ধস নামে। এমনকী প্রবেশপথের উপরে থাকা ঘড়িটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফাটল দেখা যায় পাশের একটি দেওয়ালে।
পুরসভা সূত্রে খবর, বিপজ্জনক অবস্থার কারণে ওই অংশ আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে সেখানে যাতায়াত না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশাধিকার বন্ধ ছিল। ফলে ওই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। কিন্তু এই বহুতলের ক্ষেত্রে তেমন কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। পুরসভার তরফেও কিছু জানানো হয়নি।
ইতিহাসের সাক্ষী টাউন হল
১৮৬৩ সালে নির্মাণ শেষ হয়েছিল টাউন হলের। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের কন্যা জাহানারা বেগমের তৈরি একটি সরাইখানার জায়গায় গড়ে উঠেছিল এটি। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ আমলে এখানে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু হয়। প্রায় ১৪৫ বছর দিল্লির পুরসভার সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ঐতিহাসিক ভবনটি। পরে পুরসভার কাজকর্ম নতুন সিভিক সেন্টারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কয়েক মাস আগে দিল্লিতে আরও একটি বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। তাতে পিজি থাকায় বহু পড়ুয়ার প্রাণ যায়। তারপর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিল প্রশাসন কিন্তু ফলপ্রসূ কিছুই হয়নি। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, ঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে মৃত্যু আটকানো যেত। তাঁদের একাংশ মানুষকেও দোষারোপ করতে ছাড়ছেন না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0