যোগীর রাজ্যে যোগ-বিয়োগ! ৭ হাজারের কম ভোটে জিতেছিল বিজেপি, সেই আসনে ১০ হাজারের বেশি 'ভুয়ো ভোটার'
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ১০ হাজার ৪৭০টি আবেদনে গুরুতর কারচুপি ও ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ মেলায় বৃহস্পতিবার দুই ইআরও (ERO) এবং ভোটার রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রের এক কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের পিলভিট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় ব্যাপকভাবে তথ্য পরিবর্তন ও অনিয়মের হদিস মিলতেই নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। পিলভিটের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ১০ হাজার ৪৭০টি আবেদনে গুরুতর কারচুপি ও ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ মেলায় বৃহস্পতিবার দুই ইআরও (ERO) এবং ভোটার রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রের এক কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্টকে বরখাস্ত এবং দুই ইআরও-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর খবর অনুযায়ী, পিলভিট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের পেশ করা তদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্ট গত ৩১ মে থেকে ২৯ অগস্ট, ২০২৬ সালের মধ্যে ভোটার তথ্য সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৮ (Form 8)-এর মাধ্যমে মোট ১৩ হাজার ৭৭৯টি আবেদন সিস্টেমে ইনপুট করেন।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এই বিশাল সংখ্যক আবেদনের সপক্ষে কোনও শারীরিক বা লিখিত কাগজপত্রের নথি পিলভিট অফিসে জমা ছিল না। এই নথিহীন ১৩ হাজার ৭৭৯টি আবেদনের মধ্যে ১০ হাজার ৪৭০টি আবেদনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং অনুমোদিত প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রেই মারাত্মক কারচুপি ধরা পড়েছে। সবকটি ভুয়ো ফর্ম-৮ বাতিল ও সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এসআইআর (SIR)-এর পর গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় পিলভিটের বহু ভোটারের নির্দিষ্ট ভোটার আইডি (EPIC) নম্বরের বিপরীতে অন্য কাল্পনিক ব্যক্তির নাম দেখা যাওয়ায় চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। গত ১৯ অক্টোবর সমাজবাদী পার্টি (SP) সিইও নবদীপ রিনওয়ার কাছে পিলভিট সহ একাধিক অনিয়মের খতিয়ান দিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। অন্যদিকে, ফৈজান আলী খান নামে স্থানীয় এক আইনজীবী ও তাঁর ভাইয়ের ইআইপিজি নম্বরে নাম বদলে কাল্পনিক নাম চলে আসার অভিযোগ জানালে প্রশাসনের চোখ খোলে।
কংগ্রেস নেতা কুমুদ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৫ জনের একটি বিশেষ দল পিলভিটের ৩.৪৮ লক্ষ ভোটারের ডেটা যাচাই করে ১৩ হাজার ১৫০টি কারচুপির ঘটনা উদ্ধার করে। অভিযোগ উঠেছে, মূলত ছুটির দিনে বা গভীর রাতে বেছে বেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম ও তথ্য বিকৃত করা হত, যাতে নির্বাচনের দিন অমিলের অজুহাতে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
সামনেই উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। ২০২২ সালের পিলভিট বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী মাত্র ৭ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে জিতেছিল। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ঘোষণা করেছে যে কেবল পিলভিট নয়, উত্তরপ্রদেশের প্রায় ১০০টি বিধানসভা আসনে একইভাবে ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করা হবে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরাধনা মিশ্রও ৭৫টি জেলা কমিটিকে ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠি পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো আধিকারিক বা ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এই জালিয়াতি করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0