শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে 'শ্যামা'র ঘোষণা, ইতিহাস নিয়ে বড় বার্তা তরুণজ্যোতি তেওয়ারির
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতেই সামনে এল তাঁকে নিয়ে তৈরি হতে চলা ছবি 'শ্যামা'।
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতেই সামনে এল তাঁকে নিয়ে তৈরি হতে চলা ছবি 'শ্যামা'। দেশভাগ, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ, জাতীয় ঐক্য এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আইনজীবী, বিজেপি কর্মী ও বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। তাঁর কথায়, "ইতিহাস না জানলে ভবিষ্যৎও হারিয়ে যেতে পারে", আর সেই কারণেই নতুন প্রজন্মের কাছে এই গল্প পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
তরুণজ্যোতি তেওয়ারি বলেন, "আমি 'শ্যামা'-র অংশ হয়েছি, কারণ ইতিহাসকে আজকের প্রজন্মের ভাষায় বলা জরুরি। আমরা যদি নিজেদের অতীত না জানি, তাহলে ভবিষ্যৎও হারিয়ে ফেলতে পারি। এই ছবি এমনভাবে তৈরি হচ্ছে, যাতে Gen Z এবং Gen Alpha-ও সেই ইতিহাসের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাত্র ৫১ বছর বেঁচেছিলেন, কিন্তু তাঁর সাহস, আদর্শ এবং দেশের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। তাঁর মতে, শ্যামাপ্রসাদ শুধু ইতিহাসের একটি নাম নন, তিনি এমন এক আদর্শ রেখে গিয়েছেন, যা আগামী প্রজন্মকেও পথ দেখাবে। পাশাপাশি তিনি তাঁকে 'হিন্দু বাঙালির মাতৃভূমির রূপকার' বলেও উল্লেখ করেন।
১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ সালের অস্থির সময়কে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে 'শ্যামা'। দেশভাগ, ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে, উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণা, জাতীয় ঐক্যের প্রশ্ন এবং পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ গঠনের নানা ঘটনাকে ছবির মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হবে।
নির্মাতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, 'শ্যামা' শুধু জীবনীচিত্র নয়, বরং ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা। ছবির নামের মধ্যেও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। একদিকে এটি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামের অংশ, অন্যদিকে 'শ্যামা' মা কালীরও একটি নাম। এই দুই প্রতীককেই ছবির আবেগের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

ছবির সহ-পরিচালক চন্দ্রোদয় পাল বলেন, সুচন্দ্রা ভানিয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার পর 'শ্যামা' তাঁদের সৃজনশীল যাত্রার স্বাভাবিক পরিণতি। তাঁর কথায়, এই ছবি শুধু ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাবে না, বরং সেই সময়ের আদর্শ, ত্যাগ এবং সিদ্ধান্তগুলি আজকের সমাজকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, সেটাও তুলে ধরবে।

অন্যদিকে অভিনেত্রী-পরিচালক সুচন্দ্রা ভানিয়া বলেন, তিনি বরাবরই এমন বিষয় নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন, যা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। তাঁর দাবি, 'শ্যামা' কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, বিশ্বাস এবং আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা। তাঁর বিশ্বাস, সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজে সচেতনতা এবং আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
নির্মাতাদের আশা, 'শ্যামা' ইতিহাস, আবেগ এবং বৃহৎ ক্যানভাসের গল্প বলার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে দেশভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুনভাবে তুলে ধরবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)