'সাহায্য চাই...' পিওকে-তে পাকিস্তানের অত্যাচারের মুখে ভারতকে LoC খোলার আর্জি JAAC-এর শীর্ষ নেতার

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র গণ-আন্দোলন দমাতে নির্মম দমনপীড়ন শুরু করেছে ইসলামাবাদ। সেনার গুলিতে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-র শীর্ষ নেতা সর্দার আমন খান ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করেছেন।

Jul 06, 2026 - 17:35
0 0
'সাহায্য চাই...' পিওকে-তে পাকিস্তানের অত্যাচারের মুখে ভারতকে LoC খোলার আর্জি JAAC-এর শীর্ষ নেতার

পাকিস্তান বিরোধী ক্ষোভে জ্বলছে পিওকে (পাক অধিকৃত কাশ্মীর)। সে দেশে অত্যাচার আর অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে মানুষের পিঠ ঠেকে গিয়েছে দেওয়ালে (Pakistan occupied Kashmir unrest)। এই চরম সংকটের মুহূর্তে এবার প্রতিবেশী ভারতের দিকে তাকিয়ে কাতর আবেদন (PoK protests seek India's help) জানালেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) প্রথম সারির জননেতা। তাঁর স্পষ্ট দাবি, পাকিস্তানের জুলুমবাজি থেকে বাঁচতে নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলওসি (LoC) খুলে দেওয়া হোক, যাতে বিপন্ন সাধারণ মানুষ ভারতের দিকে চলে যাওয়ার সুযোগ পান (PoK demand LoC opening to India)। একই সঙ্গে দিল্লির কাছে জরুরি খাদ্য ও ওষুধপত্রের মানবিক সহায়তারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র গণ-আন্দোলন দমাতে নির্মম দমনপীড়ন শুরু করেছে ইসলামাবাদ। সেনার গুলিতে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-র শীর্ষ নেতা সর্দার আমন খান ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের বদলা নিতে গোটা পিওকে জুড়ে কার্যত অঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করেছে পাকিস্তান সরকার।

‘আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন’

সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি দ্য ওয়াল) সর্দার আমন খানকে বলতে শোনা যাচ্ছে, "আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। এখানে তীব্র রেশন সংকট তৈরি হয়েছে... আমাদের বাঁচতে আপনাদের সাহায্য চাই।" তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী চিরুনি তল্লাশি ও অত্যাচার শুরু করায় পিওকে-র সাধারণ বাসিন্দারা খাবার এবং জীবনদায়ী ওষুধের অভাবে ভুগছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সেখানে এক চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।

রাওয়ালকোটের ইদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সুবিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় আমন খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছোড়েন, "আমাদের কি এবার নিয়ন্ত্রণরেখার (LoC) দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত?" সমবেত হাজার হাজার মানুষ একস্বরে চিৎকার করে জবাব দেন, "হ্যাঁ, ওদিকেই চলুন।"

পাক প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এই কট্টরপন্থী নেতা বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবির জবাবে যদি সরকার শুধু গুলি আর বুলেট চালায়, তবে "আমাদের সামনেও অন্য পথ খোলা রয়েছে।" ইসলামাবাদ সরকারের দমননীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে নরক বানিয়ে তুলেছে দাবি করে তিনি অবিলম্বে পুঞ্চ এবং ডোডা সেক্টরের সীমান্ত তথা এলওসি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, গত ৩০ জুনের এক সমাবেশেই এই বিস্ফোরক বক্তব্য রেখেছিলেন আমন খান।

জ্বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর: ‘আজাদি’র স্লোগান

গত মাস থেকেই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা পিওকে। ইদগাহ ময়দানের সাম্প্রতিক এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে উত্তাল জনতাকে স্লোগান দিতে শোনা যায়, "পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়" এবং "আমরা আজাদি (স্বাধীনতা) চাই।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলনটি প্রথমে স্থানীয় কিছু সংস্কার এবং সুযোগ-সুবিধার দাবিতে সাধারণ নাগরিক প্রতিরোধ হিসেবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু পাক সরকারের লাগামহীন অত্যাচারের ফলে তা এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার বা স্বাধীনতার প্রকাশ্য আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পিওকে-র এই বর্তমান রাজনৈতিক সংকট আসলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইসলামাবাদের তৈরি করা এক ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ আঞ্চলিক প্রশাসনের গভীর দূরত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। এই পুতুল সরকার সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের অঙ্গুলিহেলনে চলে।

‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৫ জুন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সেটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। তৃণমূল স্তরের একটি নাগরিক আন্দোলনকে দমাতে যেভাবে মারণাস্ত্র ও বুটের ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আসলে ক্ষোভ দমনের একটি সুপরিকল্পিত পাকিস্তানি মিলিটারি স্ট্র্যাটেজি।

রিপোর্টে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে ইসলামাবাদ মূলত পাকিস্তানের মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলির মাধ্যমেই এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করে রেখেছে। এর ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলির জমি ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, পাকিস্তানের কেন্দ্রে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাক অধিকৃত গিলগিট-বালতিস্তানের (PoGB) নির্বাচনেও অলৌকিকভাবে তারাই জয়লাভ করে। এই ধারা যে কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং সাজানো ছক, তা এখন পিওকে-র আমজনতার কাছে পরিষ্কার। আর সেই কারণেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষ এবার ভারতের দিকে হাত বাড়িয়ে মুক্তির পথ খুঁজছেন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User