হাসপাতালের পর বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর, রিং রোড? বাংলায় কোন কোন প্রকল্পে আগ্রহ আদানি গোষ্ঠীর
সকালের অন্যতম বড় কর্মসূচি নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ। সেখানে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা। প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হতে চলা এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা হবে ২,০০০।
নিউ টাউনে ৫১.৭৫ একর জমিতে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার খবর সবার আগে জানিয়েছিল দ্য ওয়াল। বৃহস্পতিবার সেখানে প্রস্তাবিত ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর (Adani Arogya Mandir) ভূমিপুজোয় যোগ দেওয়ার কথা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির (Gautam Adani Kolkata)। কিন্তু বাংলায় তাঁর বিনিয়োগের পরিকল্পনা কি হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ? নবান্ন সূত্রে খবর, বিদ্যুৎ, বন্দর, সড়ক এবং পর্যটন পরিকাঠামো নিয়েও বিভিন্ন স্তরে আলোচনা এগোচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, হাসপাতাল প্রকল্পে জমির চরিত্র বদল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ছাড় বাবদ প্রায় ১,৯৬৭ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিচ্ছে রাজ্য। নবান্নর হিসাব অনুযায়ী, হাসপাতাল, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও গবেষণা এবং চিকিৎসা পর্যটন থেকে বার্ষিক আর্থিক সুবিধা বা monetised benefit ৪,০৮৫ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। এই দু’টি অঙ্কই অবশ্য সরকারের হিসাব ও পূর্বাভাস; প্রকল্প চালু হওয়ার পর বাস্তবে কতটা সুবিধা মিলবে, তা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
সাঁওতালডিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তাব
নবান্ন সূত্রে খবর, পুরুলিয়ার সাঁওতালডিতে ১,৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আদানি গোষ্ঠী। আলোচনা এখনও প্রাথমিক স্তরে। প্রকল্পের বিনিয়োগের পরিমাণ, জমি, বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা কিংবা অনুমোদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন আদানি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা। গোষ্ঠীর সংস্থা আদানি পাওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে তাদের চালু তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। পাশাপাশি আদানি গ্রিন এনার্জির পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পও রয়েছে। তবে সংস্থার দেশের অন্যত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকলেও সাঁওতালডির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলির উপর।
কলকাতার রিং রোডেও নজর?
কলকাতাকে ঘিরে একটি রিং রোড তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা নতুন সরকার গঠনের পর থেকে একাধিক মন্ত্রী বলেছেন। সরকারের যুক্তি, এই সড়ক তৈরি হলে শহরের যানজট কমানো এবং আশপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো সম্ভব হবে।
নবান্নের একটি সূত্রের মতে, রিং রোড প্রকল্পেও আগ্রহ দেখাতে পারে আদানি গোষ্ঠী। তবে এই সম্ভাবনা নিয়ে এখনও সবিস্তার আলোচনা হয়নি।
তাজপুরের বদলে দাদনপাত্রবার?
বন্দর প্রকল্প নিয়েও নতুন করে আলোচনা হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ে তাজপুরে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠী নির্বাচিত হয়েছিল। পরে সেই প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন দরপত্রের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন রাজ্য সরকার। তাজপুরে জমি ও সড়ক-রেল যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। বর্তমান সরকার তাজপুরের পরিবর্তে দাদনপাত্রবারে বন্দর গড়ার প্রস্তাব সামনে এনেছে।
নবান্ন সূত্রের দাবি, দাদনপাত্রবারের প্রস্তাবিত প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে পারে আদানি গোষ্ঠী। সে ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাঠামো, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং বিনিয়োগের শর্ত নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে একটি পর্যটন পরিকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আদানি গোষ্ঠী ইতিমধ্যে সমীক্ষা করেছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। সেটির অবস্থান, প্রকৃতি বা বিনিয়োগের অঙ্ক এখনও স্পষ্ট নয়।
ডেটা সেন্টারের জমিতে হাসপাতাল কেন?
নিউ টাউনের জমিটি আগে আদানি গোষ্ঠীকে ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য দেওয়া হয়েছিল। নবান্ন সূত্রের বক্তব্য, ওই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও অন্যান্য পরিকাঠামো নিয়ে সীমাবদ্ধতা থাকায় জমির ব্যবহার বদলে সেখানে হাসপাতাল তৈরির পথে এগিয়েছে সংস্থা। ডেটা সেন্টারের প্রস্তাব কেন বাস্তবায়িত হল না, সে বিষয়ে আদানি গোষ্ঠীর বিস্তারিত বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গৌতম আদানির নবান্নে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠক হলে এই প্রকল্পগুলির কয়েকটি নিয়ে কথা উঠতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রের বক্তব্য, সরকারের অগ্রাধিকার এমন বিনিয়োগ, যা বাংলায় বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে। হাসপাতালের বাইরে কোন প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠী বাস্তবে এগোয়, বৃহস্পতিবারের আলোচনার পর সে দিকেই নজর থাকবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)