Super El Nino: এল নিনোর তাণ্ডবে প্রাণ হারাতে পারেন লাখ লাখ মানুষ, আগামী ৬ মাস চরম ঝুঁকিতে ভারতও
শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪.৫১ লাখ মানুষের মৃত্যুর বড় আশঙ্কা। ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের রিপোর্টে গ্লোবাল সাউথ ও ভারতের জন্য চরম সতর্কবার্তা। জানুন বিস্তারিত।
জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক মাশুল গুণতে চলেছে গোটা বিশ্ব। গবেষণা সংস্থা 'ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব'-এর একটি নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রবল এল নিনো ও চরম দাবদাহের (El Nino heatwave forecast) কারণে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪ লক্ষ ৫১ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে (extreme heat deaths projection)। আশঙ্কার কথা হল, এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে চলেছে 'গ্লোবাল সাউথ' বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপর।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি কোনও ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিসংখ্যান নয়, বরং ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সালের গড় মৃত্যুর হারের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি পূর্বাভাস। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) আগেই জানিয়েছিল, এই এল নিনোর তীব্রতা নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ তুঙ্গে পৌঁছবে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এটি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এই বর্তমান পরিস্থিতিকে 'ভবিষ্যতের পোস্টকার্ড' বলে আখ্যা দিচ্ছেন, কারণ আগামী কয়েক মাসের তাপমাত্রা আজ থেকে দুই দশক পরের সম্ভাব্য উষ্ণতার রূপ দেখাবে।
গ্লোবাল সাউথে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি
রিপোর্ট অনুযায়ী, অতিরিক্ত মৃত্যুর সিংহভাগই ঘটবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। কেবল আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেই প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে, যার মধ্যে নাইজেরিয়াতে ৩১ হাজার ৪০০ এবং সুদান, নাইজারে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০ জন মারা যেতে পারেন। দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলে এই সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৩ হাজার ৩০০-এ। ভারতের ক্ষেত্রে আনুমানিক ১৫ হাজার ৮০০ জন অতিরিক্ত মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়েছে।
আগামী ২০২৭ সালেও মিলবে না স্বস্তি
শুধু শীত বা বসন্ত নয়, ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালেও এই তাপদাহের প্রভাব থামবে না। ভারত ও পাকিস্তানের মতো উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে আগামী বছরের গ্রীষ্মেও মৃত্যুর হার ক্রমাগত বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের অগস্ট মাসটিকে বিশ্বের সর্বকালের উষ্ণতম অগস্ট হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে এই রিপোর্টটি শুধু সতর্কবার্তার মধ্যেই সীমিত নয়। গবেষকদের মতে, এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে সরকারগুলো আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারে। কুলিং সেন্টার স্থাপন, চরম তাপমাত্রার সর্তকবার্তা জারি, পানীয় জলের ব্যবস্থা, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো জোরদার করার মাধ্যমেই এই বিপুল প্রাণহানি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)