The Wall Town Hall: 'জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ করতে গিয়ে নিজের দল-প্রতীকই গেল!' মমতাকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

‘দ্য ওয়াল টাউন হল’-এর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনের আগে কোনও গণমাধ্যম বা আলোচনাচক্রে অংশ না নেওয়ার নিজের ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের পরে সংবাদমাধ্যম ও জনগণের সামনে দায়বদ্ধ থাকাই তাঁর সরকারের নীতি।

Sep 24, 2026 - 15:51
0 0

পশ্চিমবঙ্গ কী চায়? কোথায় বাংলার সম্ভাবনা, কোথায় বাধা? শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান থেকে স্টার্টআপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নগরোন্নয়ন ও পর্যটন—আগামী দিনের বাংলার দিশা কী হবে? এই সমস্ত প্রশ্নকে সামনে রেখেই রবিবার ঐতিহাসিক কলকাতা টাউন হলে শুরু হয়েছে মহা সংলাপ - দ্য ওয়াল টাউনহল- স্ক্রিপ্টিং টুমরোজ বেঙ্গল (‘The Wall Town Hall — Scripting Tomorrow’s Bengal’)।

‘দ্য ওয়াল টাউন হল’-এর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনের আগে কোনও গণমাধ্যম বা আলোচনাচক্রে অংশ না নেওয়ার নিজের ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের পরে সংবাদমাধ্যম ও জনগণের সামনে দায়বদ্ধ থাকাই তাঁর সরকারের নীতি। একই সঙ্গে আগের মুখ্যমন্ত্রীর অহংকার ও দম্ভকে তীব্র কটাক্ষ করে রাজ্যে বিশাল আর্থিক পুনর্গঠন ও কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি রোখার চাঞ্চল্যকর খতিয়ান পেশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "নির্বাচনের আগে আমি কোনও কনক্লেভে যাইনি, কোনও টক শো কিংবা সাক্ষাৎকারেও অংশ নিইনি। আমার মনে হয় আমিই সম্ভবত একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নির্বাচনের আগে কোনও আলোচনা সভা বা ইন্টারভিউতে যাননি। এটা আমার ক্ষেত্রে একটা বড় ব্যতিক্রমী বিষয় ছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আমাকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট, ডিজিটাল পোর্টাল, ইউটিউবার এবং পডকাস্টাররা অনুরোধ জানিয়েছেন। ‘দ্য ওয়াল’ আমায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাই আজ এখানে এসে উপস্থিত হয়েছি।"

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের একনায়কতন্ত্র ও অহংকারকে কড়া ভাষায় তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন - ‘আমি সব জানি, আমাকে বেশি কিছু বলতে এসো না!’ কিন্তু আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতিতে বিশ্বাসী। আমি মনে করি যে আমি কিছুটা হয়তো জানি, কিন্তু এখনও অনেক কিছু জানা ও শেখা আমার বাকি রয়েছে। আমার শেখার কোনও শেষ নেই; আর এটাই আমার চলার ব্যক্তিগত মূল শিক্ষা।"

বক্তব্যের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ব্যঙ্গের সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, "জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের দল ও প্রতীকই ভ্যানিশ হয়ে গেল! তাই বলি, পদ বা ক্ষমতার দম্ভ কখনও করতে নেই। আধুনিক বাংলা ও ভারতের রাজনীতিতে এসব আর চলে না।"

এদিকে, রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে নিজের সরকার গৃহীত ত্রিস্তরীয় আর্থিক সংস্কার ব্যবস্থার (Three-tier Financial Reforms) বিস্তারিত হিসাব পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী:

১) ভুয়ো বা 'ফেক' উপভোক্তা ছাঁটাই: রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া শুরু হয়েছে। কেবল রেশন ব্যবস্থা থেকেই ভুয়ো কার্ড বাতিল করে ৬,০০০ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। সব প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার অপচয় রুখেছে নতুন সরকার। এই প্রসঙ্গে তোপ দেগে তিনি বলেন, "আই-প্যাক (I-PAC) আর ভাইপো মিলে যা করার তা-ই করেছিল।"

২) কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন: পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত অর্থায়ন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্যবাসীকে কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। এবার কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের ফলে রাজ্য অতিরিক্ত ২০,০০০ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পেতে চলেছে।

৩) রাজস্ব চুরি ও লিকেজ বন্ধ: রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ‘লিকেজ’ কঠোরভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যার ফলে সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত রাজস্ব জমা পড়তে শুরু করেছে।

‘দ্য ওয়াল টাউন হল’-এ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই গঠনমূলক বক্তব্য এবং আর্থিক আত্মনির্ভরতার সওয়াল উপস্থিত শিল্পপতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User