World Cup 2026: খেলা চলাকালীন দু'হাত ক্রস করে প্রতিবাদ, কী বোঝাতে চাইছিলেন মিশরের কোচ?

আর্জেন্তিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় মিশরের। ম্যাচ চলাকালীন রেফারির সামনে দু'হাত আড়াআড়ি ক্রস করে 'এক্স' (X) চিহ্ন দেখিয়ে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ তুললেন কোচ হোসাম হাসান।

Jul 08, 2026 - 15:14
0 0
World Cup 2026: খেলা চলাকালীন দু'হাত ক্রস করে প্রতিবাদ, কী বোঝাতে চাইছিলেন মিশরের কোচ?

আটলান্টায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনাকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল মিশর। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও রেফারির একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার মানতে হয় তাদের (FIFA World Cup 2026)।

ম্যাচ চলাকালীন এই অন্যায়ের প্রতিবাদে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়রের সামনে দু'হাত আড়াআড়ি ক্রস করে ইংরেজি 'এক্স' (X) চিহ্ন দেখান মিশরের ক্ষুব্ধ হেড কোচ হোসাম হাসান (Hossam Hassan)। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই বিশেষ চিহ্নের অর্থ: মাঠে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো।

যদিও ময়দানের রেফারি এই প্রতিবাদের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেননি, উলটে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন। ম্যাচ শেষে বিস্ফোরক সাংবাদিক সম্মেলনে হাসানের দাবি, তাঁর টিম এই ম্যাচে আক্ষরিক অর্থেই 'প্রতারিত' (cheated) হয়েছে।

ভিএআর বিতর্ক ও জোড়া পেনাল্টি বাতিলের অভিযোগ

ম্যাচে মিশরের পরাজয়ের নেপথ্যে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা নিয়েছে। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল করে দেয় ভিএআর (VAR Controversy)। যুক্তি, গোলটি হওয়ার আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ফাউলের শিকার। যদিও পরে জিকোই দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

এরপর আর্জেন্তিনাকে সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিওনেল মেসি (Argentina vs Egypt)। কিন্তু আর্জেন্তিনার বক্সে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মিশরের হামদি ফার্থিকে টেনে ধরে ফাউল করা সত্ত্বেও রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ না দেওয়ায় বিতর্কের পারদ সপ্তমে ওঠে। এই ঘটনার ঠিক খানিক বাদে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করে বাঁচিয়ে রাখেন আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ-স্বপ্ন। আর ঠিক তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ডাগআউটে ওই বিশেষ সংকেত ব্যবহার করেন হাসান।

ফিফার নিয়মে 'এক্স' চিহ্নের তাৎপর্য

মাঠে খেলোয়াড় বা দলের কোনও কর্মকর্তা যদি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হন, তবে দুই হাতের কবজি ক্রস করে 'এক্স' চিহ্ন দেখানো হয়ে থাকে (FIFA Racism Protocol)। এই সংকেত নজরে আসামাত্র রেফারিকে ফিফার নির্ধারিত তিন ধাপের বিশেষ প্রোটোকল অনুসরণ করেন।

প্রথম ধাপে, রেফারি সবকিছু খতিয়ে দেখে সাময়িকভাবে ম্যাচ থামিয়ে দিতে পারেন। দ্বিতীয় ধাপে, খেলা পুনরায় শুরুর পর যদি ফের একই ঘটনা ঘটে, তবে ম্যাচ স্থগিত করে দুই দলকে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি (Football Match Rules)। সেই সময় মাঠে দর্শকদের উদ্দেশ্যে ম্যাচ বন্ধ রাখার নির্দিষ্ট কারণ ঘোষণা করা হয়।

ম্যাচ বাতিলের ক্ষমতা ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

ফিফার প্রোটোকলের তৃতীয় এবং চূড়ান্ত ধাপটি সবচেয়ে কড়া। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পরেও যদি বর্ণবিদ্বেষমূলক আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রেফারি সম্পূর্ণ ম্যাচটি বাতিল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন (World Cup Match Abandonment)।

মিশরের কোচ হোসাম হাসান এই চরম সংকেত ব্যবহার করেই রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে মাঠের ভেতরের পরিস্থিতি ঠিক কতটা উত্তপ্ত ছিল। রেফারির এই পক্ষপাতিত্ব এবং বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগের জেরে ইতিমধ্যে ফিফার কাছে তদন্তের দাবিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিশরীয় ফুটবল সংস্থা। সাংবাদিক সম্মেলনেও রেফারির ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সালাহরা, যা আর্জেন্তিনার এই রোমাঞ্চকর জয়কে বড়সড় বিতর্কের মুখে ফেলে দিয়েছে (Football News Bengali)।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User