World Cup 2026: ‘চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, সুইচ অন করে ফেলেছে!’ অতিমানবীয় মেসিতে স্তম্ভিত ফুটবলবিশ্ব

০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও মিশরের বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনার রুদ্ধশ্বাস জয়। পেনাল্টি ফস্কে খাদের কিনারা থেকে কীভাবে একাই ম্যাচ ঘোরালেন লিওনেল মেসি? রইল বিশ্লেষণ।

Jul 08, 2026 - 15:19
0 0
World Cup 2026: ‘চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, সুইচ অন করে ফেলেছে!’ অতিমানবীয় মেসিতে স্তম্ভিত ফুটবলবিশ্ব

আটলান্টায় শেষ বাঁশি বাজতেই ভেঙে পড়লেন লিওনেল মেসি। এই কান্না নিছক আনন্দের নয়, বরং চরম স্বস্তির। ১৯ মিনিট আগেও মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের মঞ্চে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি ফস্কেছেন। দল ০-২ গোলে পিছিয়ে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষণ কার্যত নড়বড়ে (Argentina vs Egypt)।

দ্বিতীয়ার্ধের একটা বড় সময় তাঁকে রীতিমতো হতভম্ব দেখাচ্ছিল। কিন্তু এরপরই সব হিসেব উলটে গেল। খাদের কিনারা থেকে প্রবল প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে লড়াই জিতে নেয় আর্জেন্তিনা। ছিটকে যায় ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় থাকা মিশর।

অবিশ্বাস্য রূপান্তর ও অঁরির স্তুতি

লড়াইয়ের মোড় ঘরে ৭৯ মিনিটে। নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। ঠিক চার মিনিট পর বক্সের জটলার মধ্যে থেকে মেসির দুর্ধর্ষ ভলি ক্রসবারে লেগে সোজা জালে আছড়ে পড়ে (Lionel Messi)।

অভাবনীয় রূপান্তর দেখে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে থিয়েরি অঁরি স্তম্ভিত। বলেন, ‘একে কেউ ঘুম থেকে জাগাতে চাইবে না। ওর চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, সুইচ অন করে ফেলেছে। এমন মেজাজে থাকলে ওকে থামানো অসম্ভব। দল বিপদে পড়লেই ও নিজের খেলা অন্য পর্যায়ে নিয়ে যায়!’ ফরাসি কিংবদন্তির মতে, পেনাল্টি ফস্কানো প্রমাণ করে মেসি রক্তমাংসের মানুষ। আবার শেষলগ্নের ম্যাজিক বুঝিয়ে দেয়, তিনি আসলে অতিমানব!

ব্যর্থতার গ্লানি ও স্কালোনির শিহরণ

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে মেসির অকপট স্বীকারোক্তি, চলতি আসরে দ্বিতীয় পেনাল্টি মিসের পর তিনি নিজের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘মনে হচ্ছিল, দলের এত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম। তবে ভাগ্য ভাল, ঈশ্বর শেষে আমার জন্য বিশেষ কিছু তুলে রেখেছিলেন!’

অধিনায়কের এই নাছোড়বান্দা মানসিকতা দেখে মুগ্ধ কোচ লিওনেল স্কালোনিও (FIFA World Cup 2026)। বেঞ্চের ফুটবলারদের মেসির উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘পেনাল্টি ফস্কানোর পরও ও বারবার বল চাইছিল, দৌড়চ্ছিল। সত্যি বলতে, আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল!’

অনেকে ফিরে যাচ্ছেন অতীতে। ২০১৬ সালে দিয়েগো মারাদোনার অভিযোগ ছিল, মেসির গুণ অনেক। কিন্তু কোনও ‘ব্যক্তিত্ব’ নেই। আজ সেই মেসিই একার হাতে খাদের মুখ থেকে দলকে টেনে তুলছেন। ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলটি নিখুঁত দলীয় বোঝাপড়ার ফসল।

বিতর্কের ছায়া ও নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি

রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। দ্বিতীয় গোলদাতা মোস্তফা জিকোর দাবি, কেউ একজন এই বিশ্বকাপটা আর্জেন্তিনাকে 'উপহার' দিতে চাইছে। তবে যাবতীয় বিতর্ক ছাপিয়ে উজ্জ্বল এলএমটেনের ব্যক্তিগত কীর্তি (Football Match Analysis)। চলতি আসরে এটি তাঁর অষ্টম গোল, যা ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের ১০ গোলের ঠিক পরেই রয়েছে।

শাপমুক্তির এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে মেসি এখন আবেগ ও শারীরিকভাবে চূড়ান্ত পরিশ্রান্ত। সতীর্থরা যখন উৎসবে মত্ত, তিনি তখন জার্সি দিয়ে চোখ মুছছেন। আগামী শনিবার কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে সামনে সুইজারল্যান্ড। তার আগে এই কয়েকটা দিন তাঁর কাছে কেবল বিশ্রামের, আর নতুন লড়াইয়ের ফোকাস ফিরে পাওয়ার।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User