‘অন্যের কাজে নাক গলিয়ে...’ শাহরুখ-সলমনদের সঙ্গে আজকের অভিনেতাদের ফারাক বোঝালেন ফারাহ
আজকের অভিনেতাদের আত্মবিশ্বাস ও কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ফারাহ খান। শাহরুখ খান, সলমন খান, অমিতাভ বচ্চন ও অক্ষয় কুমারের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, সুপারস্টার হওয়ার আসল শর্ত কী।
বলিউডের বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের মানসিকতা এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠিত সুপারস্টারদের কাজের ধরনের মধ্যে বড়সড় তুলনা টানলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান। তাঁর মতে, শাহরুখ খান, সলমন খান কিংবা অক্ষয় কুমারের মতো সুপারস্টারদের সঙ্গে আজকের অভিনেতাদের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এবং সহকর্মীদের ওপর ভরসা রাখার ক্ষমতা।
নেহা ধুপিয়া এবং অঙ্গদ বেদির ভ্লগে এক আলাপচারিতায় ফারাহ বলেন, “সমস্যাটা হলো আজকের অভিনেতাদের কারও ওপর কোনো ভরসা নেই। পরিচালকের ওপর তাঁদের আস্থা নেই, গানের কোরিওগ্রাফিও তাঁরা নিজেরা করতে চান, সংগীতেও হস্তক্ষেপ করতে চান, এমনকি কাস্টিংয়ের বিষয়েও নাক গলাতে চান। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলেই এমনটা হয়। আপনি যদি নিজের কাজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হন, তবে অন্যদের ওপরও ভরসা রাখতে পারবেন।”
নিজের পরিচালিত ‘ম্যায় হু না’ এবং ‘ওম শান্তি ওম’ ছবিতে শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ফারাহ জানান, শাহরুখ কখনোই কাস্টিং নিয়ে হস্তক্ষেপ করেননি। ফারাহ বলেন, “আমি যখন বলেছিলাম ‘ম্যায় হু না’ ছবির জন্য সুস্মিতা সেনকে চাই, তখন তিনি খুব বড় কোনো নায়িকা ছিলেন না। যেকোনো বড় নায়িকাই তখন ওই ছবিতে কাজ করতে রাজি হতেন। কিন্তু শাহরুখ কোনো প্রশ্ন করেননি। আবার ‘ওম শান্তি ওম’-এর জন্য যখন বললাম আমার এক নতুন নায়িকা চাই, তখনও তিনি কোনও আপত্তি করেননি। শুধু ছবিটা দেখে বলেছিলেন, ‘তোমার ওকে পছন্দ হলেই ঠিক আছে।’ এখন সবাই অন্যের কাজটা নিজে করতে চায়, কারণ তাঁদের নিজেদের ওপরই আস্থা নেই।”
ফারাহ খানের মতে, ‘সুপারস্টার’ হয়ে উঠতে গেলে অভিনেতাদের মধ্যে অবিচল কাজের নৈতিকতা বা ‘ওয়ার্ক এথিক’ থাকা অত্যন্ত জরুরি। শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন, সলমন খান এবং অক্ষয় কুমারের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এই তারকারা তাঁদের কেরিয়ারের শুরুতে ঠিক যতটা পরিশ্রম করতেন, আজও সমানভাবে পরিশ্রম করে চলেছেন।
‘একজন অভিনেতাকে সুপারস্টার করে তোলে কী?’—এই প্রশ্নের উত্তরে ফারাহ বলেন, “প্রথমত নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং দ্বিতীয়ত কঠোর পরিশ্রম। আমার মনে হয় শাহরুখ এখন আরও বেশি পরিশ্রম করেন। অমিতাভ বচ্চনও অক্লান্ত পরিশ্রম করেন—সম্ভবত কেরিয়ারের শুরুতেও তিনি এতটা পরিশ্রম করতেন না। আপনারা তাঁকে ‘কেবিসি’ (কৌন বনেগা ক্রোড়পতি)-তে দেখলেই তা বুঝতে পারবেন। সলমনকে দেখুন, তিনি প্রতিদিন কাজ করেন। তিনি কখনও বলেন না যে ‘রবিবার শুটিং করব না, আজ আমার ছুটির দিন’ বা ‘আমি ছুটিতে যাচ্ছি’। অক্ষয় কুমারও সেটে আসেন এবং প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় শুটিং করেন। তাঁর ছুটির পরিকল্পনা থাকলেও তিনি এতটাই গোছানো যে সেটের সবাইকে সবসময় সজাগ রাখেন।”
ফারাহ স্পষ্ট জানান, এই সুপারস্টাররা কখনওই সেটে এসে অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সেটে এসে আলোচনা শুরু করা আর বলা যে—‘ঠিক আছে, এটা বদলে দাও। মাত্র এই কজন? আরও ২০০ জন ড্যান্সার যোগ করো’—এটা তোমাদের কাজ নয়। আগে নিজের সংলাপগুলো মুখস্থ করে এসো। সেটে আসার সময় নিজের সংলাপ জানাটাই তোমাদের আসল কাজ, যেটা তোমরা জানো না।” ফারাহ খানের বিশ্বাস, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের প্রবল অভাব রয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0