এক মাসেই ২৯% দামবৃদ্ধি! চিনির কালোবাজারি ঠেকাতে কড়া নির্দেশ, জোগান নিয়ে কী জানাল কেন্দ্র?
উৎসবের মরসুমে চিনির রেকর্ড দরবৃদ্ধি রুখতে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের। কাঁচা চিনি আমদানিতে মজুতদারি বন্ধে ২ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রির নতুন নিয়ম জারি করা হল।
উৎসবের মরসুমে মিষ্টির বাজারের তিতাভাব কাটাতে (festive season sugar demand) এবং হু-হু করে বাড়তে থাকা চিনির দামে (sugar price hike) লাগাম টানতে কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে কাঁচা চিনি (Raw Sugar) আমদানির ক্ষেত্রে নিয়ম একধাক্কায় বেশ কঠিন করে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে কাঁচা চিনি আমদানি করার পর ঠিক দু’ মাসের মধ্যে তা প্রক্রিয়াজাত করে রিফাইন্ড বা পরিশোধিত চিনিতে পরিণত করতে হবে (raw sugar import rules)। শুধু তা-ই নয়, ওই নির্ধারিত দু’ মাসের মধ্যেই সেই চিনি বাজারে বিক্রি করে দেওয়া বাধ্যতামূলক। ব্যবসায়ীরা যাতে চিনি জমিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, সেই কারণেই কেন্দ্রের এই চরম হুঁশিয়ারি।
সম্প্রতি দেশে চিনির দর আকাশছোঁয়া রূপ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি প্রায় ৬৩ টাকা ০৫ পয়সায়। দেশের বহু জায়গায় খুচরো চিনি বিকোচ্ছে ৭৫ টাকা কেজি দরে! এমনকি চিনি কল থেকে বেরোনোর সময়ই এক ধাক্কায় চিনির দর কেজি প্রতি ৬২ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, আখের খেতে পোকার আক্রমণ, উৎপাদন কম হওয়া এবং উৎসবের মরসুমে চিনি জমানোর প্রবণতাকেই এই দরবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাজার সামাল দিতে সরকার ইতিমধ্যে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির ছাড়পত্র দিয়েছে।
তবে দেশে চিনির কোনও ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছে ভারতীয় চিনি ও বায়ো-এনার্জি প্রস্তুতকারক সংস্থা (ISMA)। তাঁদের মতে, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত চিনির স্টক রয়েছে এবং সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে খুব দ্রুত বাজারে চিনির দাম আবার নাগালের মধ্যে চলে আসবে। পোকার আক্রমণ ও অতিবৃষ্টির কারণে এ বছর চিনি উৎপাদন কিছুটা কমে আনুমানিক ৩০৬ লক্ষ টন হতে পারে বলে খাদ্য মন্ত্রক জানালেও, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো জোগান ভারতের হাতে রয়েছে।
অন্যদিকে, চিনির এই অগ্নিমূল্যের পেছনে কেন্দ্রের ইথানল নীতিকে দায়ী করে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, জ্বালানির জন্য আখ থেকে অতিরিক্ত ইথানল তৈরির দিকে ঝুঁকতেই খাদ্য বাজারে চিনির জোগানে টান পড়েছে। তবে সরকারের তরফে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়ার মতে, ইথানল নীতির ফলে চিনি শিল্পের আর্থিক স্বাস্থ্য ফিরেছে এবং কৃষকরা সঠিক সময়ে আখের পাওনা টাকা পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে, উৎসবের মুখে উৎসবের মিষ্টতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া আটকাতে এখন কড়া হাতেই বাজার সামলাচ্ছে কেন্দ্র।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)