নায়ক থেকে দানব, নিজের শরীরেই বন্দি! কতটা জমল হলিউডের ‘Clayface’?
পর্দায় নায়ক হওয়ার স্বপ্ন, ক্যামেরার সামনে সাফল্য আর দর্শকের চোখে সুপুরুষ হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই মুখই যদি একদিন হয়ে ওঠে নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু? সৌন্দর্য হারানোর আতঙ্ক যখন শরীরের প্রতিটি কোষে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মানুষ কত দূর যেতে পারে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য? এই প্রশ্নেরই ভয়াবহ, রক্তাক্ত উত্তর খোঁজে ‘Clayface’।
পর্দায় নায়ক হওয়ার স্বপ্ন, ক্যামেরার সামনে সাফল্য আর দর্শকের চোখে সুপুরুষ হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই মুখই যদি একদিন হয়ে ওঠে নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু?
সৌন্দর্য হারানোর আতঙ্ক যখন শরীরের প্রতিটি কোষে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মানুষ কত দূর যেতে পারে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য?
এই প্রশ্নেরই ভয়াবহ, রক্তাক্ত উত্তর খোঁজে ‘Clayface’। ডিসি (DC) ইউনিভার্সের পরিচিত ভিলেনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবি সুপারহিরো অ্যাকশনের চেনা ছক ভেঙে ঢুকে পড়েছে বডি হররের অস্বস্তিকর জগতে। এখানে ব্যাটম্যান নেই, নেই কোনও সুপারহিরোর শেষ মুহূর্তে এসে বিপদ সামলানোর আশ্বাস। রয়েছে এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেতার পতন, বিকৃত হয়ে যাওয়া শরীর এবং প্রতিশোধের নেশায় ক্রমশ অমানুষ হয়ে ওঠার গল্প।
পরিচালক জেমস ওয়াটকিন্সের (James Watkins) এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন মাইক ফ্ল্যানাগান (Mike Flanagan) ও হোসেন আমিনি (Hossein Amini)। ডিসি কমিকসের পরিচিত চরিত্র ক্লেফেসের জন্মকাহিনিকে তাঁরা এমন এক পরিসরে নিয়ে গিয়েছেন, যেখানে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মানুষের শরীর, মানসিক বিপর্যয় এবং পরিচয় হারানোর ভয়। টম রাইস হ্যারিস (Tom Rhys Harries), নাওমি অ্যাকি (Naomi Ackie), ম্যাক্স মিনগেলা (Max Minghella), এডি মারসান (Eddie Marsan) ও ডেভিড ডেনসিকের (David Dencik) অভিনয়ে তৈরি হয়েছে এই অন্ধকার দুনিয়া। তবে ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ যেমন তার ভয়ংকর দৃশ্যায়ন, তেমনই তার কেন্দ্রে থাকা মানুষের অসহায়তা।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ম্যাট হেগেন। টম রাইস হ্যারিস অভিনীত তরুণ অভিনেতা দীর্ঘ লড়াইয়ের পর হলিউডে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অস্কারের মনোনয়নও তার ঝুলিতে। সামনে আরও বড় সাফল্যের সম্ভাবনা। কিন্তু একটি ভুল সিদ্ধান্ত তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। গথামের অপরাধজগতের প্রভাবশালী ব্যক্তি মার্কোস সাবোর (David Dencik) সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ম্যাট। তার পরিণতি ভয়াবহ। সাবোর হিংস্র আক্রমণে ম্যাটের মুখ এমনভাবে বিকৃত হয়ে যায় যে অভিনয়জীবন কার্যত শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়ায়। যে চেহারা তাকে পরিচিতি দিয়েছে, সেটাই হারিয়ে ফেলে সে। ভেঙে পড়ে তার আত্মবিশ্বাস, সামাজিক পরিচয় এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
এখানেই ছবিটি শুধু এক দানবের জন্মকাহিনি হয়ে থাকে না। বরং প্রশ্ন তোলে, মানুষের পরিচয় কি তার চেহারার উপর নির্ভরশীল? যে সমাজ প্রতিভার পাশাপাশি সৌন্দর্যকেও সাফল্যের মাপকাঠি করে তোলে, সেখানে মুখ হারানো একজন অভিনেতার কাছে নিজের অস্তিত্ব হারানো কি একই কথা নয়? ম্যাটের যন্ত্রণা দর্শককে তার প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে। সে অপরাধী হয়ে ওঠার আগেই তার জীবনে ঘটে যায় এমন এক বিপর্যয়, যার অভিঘাত তাকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। কিন্তু এই সহানুভূতিই যে তাকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়, ছবির পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সেই কথাও মনে করিয়ে দেয়।
নিজের পুরনো চেহারা ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় ম্যাটের সামনে আসে বিজ্ঞানী ডক্টর ক্যাটলিন কর (Naomi Ackie)। ক্ষতিগ্রস্ত শরীরের কোষ মেরামত করার জন্য পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে সে। ন্যানোসেল বা অতিক্ষুদ্র কোষভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই গবেষণা তখনও মানুষের শরীরে প্রয়োগ করার মতো অনুমোদন পায়নি। বিপদের আশঙ্কা স্পষ্ট করেই জানায় ক্যাটলিন। তবু ম্যাটের কাছে ঝুঁকির হিসাব অর্থহীন। বিকৃত মুখ নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে পরীক্ষার ফল যা-ই হোক, তা মেনে নেওয়া তার কাছে সহজ। নিজের জীবনকেই পরীক্ষাগারের উপাদান করে তুলতে রাজি হয়ে যায় সে।
প্রথম দিকে চিকিৎসা সফল বলেই মনে হয়। ম্যাট ফিরে পায় তার হারানো চেহারা। কিন্তু এই আপাত সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ভয়ংকর পরিণতি। তার শরীরের কোষগুলি স্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে না। বরং ধীরে ধীরে শরীরের গঠন বদলাতে থাকে, মাংসপেশি ও ত্বক যেন নিজের পরিচিত রূপ হারিয়ে কাদামাটির মতো নমনীয় হয়ে ওঠে। শরীরের সঙ্গে বদলাতে থাকে তার মানসিক অবস্থাও। এত দিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, অপমান এবং প্রতিশোধস্পৃহা ক্রমশ নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকে ম্যাটের উপর। যে মানুষটি নিজের চেহারা ফিরে পেতে চেয়েছিল, সেই মানুষই একসময় অন্যের চেহারা ধারণ করার ক্ষমতাসম্পন্ন এক ভয়ংকর সত্তায় পরিণত হয়।
‘Clayface’-এর সবচেয়ে কার্যকর দিক এই রূপান্তরের দৃশ্যায়ন। পরিচিত কোনও সুপারহিরো ছবির মতো এখানে বিপুল বিস্ফোরণ কিংবা আকাশছোঁয়া অ্যাকশনের উপর নির্ভর করেননি পরিচালক। বরং মানুষের শরীরকে ভয়ের প্রধান উৎস করে তুলেছেন। ত্বক, চোখ, মুখের গঠন এবং মাংসের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে এমনভাবে পর্দায় আনা হয়েছে, যা অনেক সময় দর্শককে চোখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করে। আবার সেই অস্বস্তিই কৌতূহল জাগায়, পরের মুহূর্তে শরীরটির কী পরিণতি হতে চলেছে তা দেখার জন্য চোখ সরানো যায় না।
বিমানের ভিতরে ম্যাটের চোখ গলে যাওয়ার দৃশ্য নিছক চমকে দেওয়ার কৌশল নয়, বরং ছবির বডি হরর ঘরানার অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। একটি ক্লাবের দৃশ্যও দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে রক্তাক্ত বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। এই ধরনের দৃশ্যে বিশেষ মেকআপ, প্রস্থেটিক্স এবং শারীরিক রূপান্তরের ব্যবহার ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। কম্পিউটারনির্ভর চমকের বদলে শরীরের বিকৃতি ও তার বাস্তবসম্মত উপস্থাপনা থেকে যে আতঙ্ক তৈরি হয়, তা অনেক বেশি প্রত্যক্ষ। তবে এই ধরনের দৃশ্য যাঁদের পক্ষে সহ্য করা কঠিন, তাঁদের জন্য ছবিটি মোটেই আরামদায়ক অভিজ্ঞতা নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ছবিতে রক্তাক্ত দৃশ্যের কিছু অংশ সেন্সর বোর্ডের ঝাপসা করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও সেই অভিজ্ঞতায় বাধা তৈরি করতে পারে।
ম্যাটের পতন দেখানোর ক্ষেত্রে ছবির প্রথম ভাগ তুলনামূলকভাবে ধীর। তার সাফল্য, বিপর্যয়, অপমান এবং চিকিৎসার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে সময় নিয়েছেন ওয়াটকিন্স। কিন্তু শরীরের পরিবর্তন একবার ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করলে ছবির গতি বাড়ে। তখন গল্পে ঢুকে পড়ে ছদ্মবেশ, খুন এবং প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা। ক্লেফেসের পরিচিত ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ পরিস্থিতি। একই সঙ্গে ছবিটি দর্শককে মনে করিয়ে দেয়, মানুষের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর আতঙ্ক শুধু কোনও কাল্পনিক দানবের সমস্যা নয়। নিজের পরিচিত অবয়বকে হারিয়ে ফেলার ভয়ও এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
তবে ছবির চিত্রনাট্য সব ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। ম্যাটের মানসিক আঘাত, সৌন্দর্যনির্ভর বিনোদনজগতের নির্মমতা এবং পরীক্ষামূলক চিকিৎসার নৈতিক প্রশ্নগুলি আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা যেত। ক্যাটলিনের চরিত্রেও রয়েছে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ। চিকিৎসার বিপদ সম্পর্কে সচেতন হয়েও কেন সে এই পরীক্ষার দিকে এগোয়, তার সিদ্ধান্তের নৈতিক দায় কতটা, ম্যাটের পরিণতির সঙ্গে তার সম্পর্ক কীভাবে বদলায়, এই প্রশ্নগুলি ছবিতে উঠলেও সবসময় প্রয়োজনীয় গভীরতা পায় না। ফলে সম্ভাবনাময় বিজ্ঞানী চরিত্রটি কখনও কখনও মূল কাহিনির সহায়ক হয়ে থেকে যায়।
ম্যাট ও ক্যাটলিনের সম্পর্কেও আবেগের জায়গা রয়েছে, কিন্তু সেই সম্পর্কের বিকাশ কিছুটা তাড়াহুড়োর বলে মনে হয়। একটি জটিল চরিত্রকেন্দ্রিক ছবি হিসেবে যে উচ্চতায় পৌঁছতে পারত ‘Clayface’, তার বদলে গল্পের একটা বড় অংশ শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধের পরিচিত পথে হাঁটে। যাঁরা ম্যাটের অপরাধী হয়ে ওঠার মনস্তত্ত্ব আরও গভীরভাবে দেখতে চাইবেন, তাঁরা কিছুটা অপূর্ণতা অনুভব করতে পারেন। শেষ পর্বে কয়েকটি ঘটনাও এমনভাবে ঘটে, যা গল্পের স্বাভাবিক গতির বদলে চিত্রনাট্যের সুবিধার কথা বেশি মনে করিয়ে দেয়।
এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ছবির প্রাণ টম রাইস হ্যারিসের অভিনয়। ভারী প্রস্থেটিক মেকআপের আড়ালেও তিনি ম্যাটের অসহায়তা, ক্রোধ, ভয় এবং হারানো জীবন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। তাঁর চরিত্রটি শুধু হিংস্র দানব হয়ে উঠলে ছবির আবেগের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ত। কিন্তু হ্যারিস সেই রূপান্তরের প্রতিটি স্তরে মানুষের উপস্থিতি ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। ফলে ম্যাট যখন ভয়ংকর হয়ে ওঠে, তখন তার মধ্যে একসময়কার ভেঙে পড়া অভিনেতাটিকেও দেখা যায়। দর্শক তার কাজের পরিণতি মেনে নিতে না পারলেও তার যন্ত্রণার উৎস বুঝতে পারেন।
নাওমি অ্যাকিও ক্যাটলিনের চরিত্রে যথেষ্ট সংযত ও বিশ্বাসযোগ্য। বিজ্ঞানীর বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল, নিজের গবেষণার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ম্যাটের প্রতি আবেগের টান, সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। ম্যাক্স মিনগেলা অভিনীত গোয়েন্দা জন বোরেলিও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি। একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সে এই অস্বাভাবিক অপরাধের সূত্র খুঁজতে থাকে। তবে পার্শ্বচরিত্রগুলির আরও বিস্তৃত ব্যবহার হলে ছবির সংঘাত এবং আবেগ দুইই আরও সমৃদ্ধ হতে পারত।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, ‘Clayface’ দেখতে বসার আগে ডিসি কমিকসের বিপুল ইতিহাস জেনে আসার প্রয়োজন নেই। ব্যাটম্যানের দুনিয়ায় ক্লেফেসের অবস্থান সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকলে সুবিধা হতে পারে, কিন্তু ছবিটি নিজের গল্প নিজেই প্রতিষ্ঠা করে। সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সংযোগ তৈরির তাগিদে অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভার চাপানো হয়নি। বরং চরিত্রটির ব্যক্তিগত বিপর্যয়কে সামনে রেখে নির্মিত হয়েছে একটি স্বতন্ত্র হরর অভিজ্ঞতা। কিছু দৃশ্যে দৃষ্টিনন্দন চিত্ররচনা, আলোছায়ার ব্যবহার এবং শরীরের বিকৃতির বিপরীতে সৌন্দর্যের উপস্থিতি ছবিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
সব মিলিয়ে ‘Clayface’ এমন একটি ছবি, যা গল্পের গভীরতা ও চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধানে আরও এগোতে পারত, কিন্তু ভয়ংকর রূপান্তরের দৃশ্যায়ন এবং প্রধান অভিনেতার অভিনয়ে দর্শককে ধরে রাখে। এটি প্রচলিত সুপারহিরো ছবির চেয়ে অনেক বেশি অস্বস্তিকর, রক্তাক্ত এবং শরীরনির্ভর। একই সঙ্গে এটি সৌন্দর্য, পরিচয় এবং প্রতিশোধের গল্প। যে মানুষটি নিজের মুখ ফিরে পেতে চেয়েছিল, সে শেষ পর্যন্ত নিজের ভিতরের মানুষটিকেই হারিয়ে ফেলে। আর সেই হারিয়ে যাওয়ার গল্পেই ছবির সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।
কারণ, ‘Clayface’-এর ভয় শুধু এই নয় যে মানুষের শরীর কাদামাটির মতো বদলে যেতে পারে। আসল ভয় হল, নিজের হারানো জীবন ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় মানুষ কখন যে নিজেরই অচেনা হয়ে ওঠে, তা বুঝতে পারে না। মুখ বদলে যায়, শরীর বদলে যায়, পরিচিত মানুষটিও বদলে যায়। কিন্তু প্রতিশোধের আগুন নিভে যাওয়ার পর আয়নায় যে মুখটি পড়ে থাকে, তাকে কি আর আগের মানুষ বলা যায়?
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0