নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে সিবিআই-এর ২০ হাজার পাতার চার্জশিট গ্রহণ করল ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট

সিবিআই মঙ্গলবার মোট ১৩ জন গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট পেশ করেছিল। সিবিআই-এর আইনজীবীদের আবেদনের ভিত্তিতে মামলার অতিরিক্ত নথি পেশ করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আরও তিন দিনের সময়সীমা মঞ্জুর করেছে আদালত।

Jul 29, 2026 - 14:21
0 0
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে সিবিআই-এর ২০ হাজার পাতার চার্জশিট গ্রহণ করল ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট

নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার (NEET Paper Leak) দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গত ২৩ জুলাই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার এই প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে সিবিআই (CBI)-এর পেশ করা চার্জশিট গ্রহণ করল দিল্লির বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট (NEET paper leak CBI chargesheet)। বুধবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক অনু গ্রোভার বালিগা সিবিআই-এর পেশ করা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টটি অন-রেকর্ড বা নথিভুক্ত করেন।

সিবিআই মঙ্গলবার মোট ১৩ জন গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট পেশ করেছিল। সিবিআই-এর আইনজীবীদের আবেদনের ভিত্তিতে মামলার অতিরিক্ত নথি পেশ করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আরও তিন দিনের সময়সীমা মঞ্জুর করেছে আদালত।

আদালতের শুনানির সময় সিবিআই-এর বর্ষীয়ান পাবলিক প্রসিকিউটর ভি কে পাঠক এবং আইনজীবী অর্জুন আনন্দ জানান, চার্জশিটের সমর্থনে প্রায় ২০ হাজার পাতার সুবিশাল নথিপত্র এবং সংযোজনী (annexures) স্ক্যান করার কাজ চলছে, যা আগামী তিন দিনের মধ্যে আদালতের কাছে জমা দিয়ে দেওয়া হবে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিচারক আগামী ৩ অগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

কীভাবে ফাঁস নিটের প্রশ্নপত্র? তদন্তে পর্দাফাঁস সিবিআই-এর

মঙ্গলবার পেশ করা চার্জশিটে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই দাবি করেছে, প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞদের থেকে শুরু করে সুবিধাভোগী পরীক্ষার্থী - পুরো ষড়যন্ত্রের জাল ও চেন ধরে তদন্ত চালিয়ে তারা অপরাধের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছে।

সিবিআই তাদের রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়েছে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কোনও সরকারি আধিকারিক বা শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিবর্গ এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। মূলত এনটিএ-র তরফ থেকে চুক্তির ভিত্তিতে রসায়ন (Chemistry), জীববিজ্ঞান (Biology) এবং পদার্থবিজ্ঞান (Physics)-এর প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা ৩ জন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ (subject experts) শিক্ষকই এই ফাঁসের মূল মাথা। তাঁরাই টাকার বিনিময়ে দালাল ও কোটি টাকা লেনদেনকারী চক্রের হাতে আগাম প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। চার্জশিটে এই ৩ জন শিক্ষক ছাড়াও একাধিক মিডলম্যান বা দালাল এবং দুটি বিখ্যাত কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ২ ব্যক্তির নাম রয়েছে।

ধারায় কড়াকড়ি ও পাহাড়প্রমাণ প্রমাণ

সিবিআই অভিযুক্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধেই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (criminal conspiracy), প্রতারণা (cheating), বিশ্বাসভঙ্গ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট ছাড়াও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (Prevention of Corruption Act) এবং নতুন চালু হওয়া পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট, ২০২৪-এর একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করেছে।

অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণ করতে সিবিআই পাহাড়প্রমাণ সাক্ষ্য ও নথি আদালতে পেশ করেছে -

৩৬০ জন সাক্ষী: ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য মোট ৩৬০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

৪২২টি নথি: জালিয়াতি ও লেনদেন সংক্রান্ত ৪২২টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি যুক্ত করা হয়েছে।

৪৩টি মেটেরিয়াল অবজেক্ট: ফরেনসিক ও ফিজিক্যাল প্রমাণ হিসেবে ৪৩টি সামগ্রী আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে চার্জশিটভুক্ত ১৩ জন অভিযুক্তই জেল হেফাজতে রয়েছেন। শীর্ষ আদালতের কড়া বার্তা এবং দেশের ছাত্র আন্দোলনের চরম চাপের মুখে তৈরি এই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে ৩ অগস্টের শুনানির দিকেই নজর রয়েছে দেশবাসীর।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলি নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে। অনশনে বসেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর মন্তরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হিয়ে ওঠে। এদিকে বাদল অধিবেশনের শুরুর দিন থেকেই সংসদেও এই ইস্যুতে সরকার-বিরোধী সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। তার মধ্যেই ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন। লেখেন, “আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ। যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

সিজেপির তোলা দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও এখনও পড়ুয়াদের উপর থেকে সব এফআইআর তোলেনি সরকার। তা নিয়ে ফের সরব হয়েছে 'ককরোচ'রা। এদিকে বিরোধীদেরও দাবি, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা যথেষ্ট নয়, পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের রাজনৈতিক জবাবদিহিও সমান জরুরি।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User