নিয়োগ দুর্নীতি: কোন চাকরির দাম কত? অযোগ্যদের জন্য ছিল 'রেট চার্ট!' পার্থদের বিরুদ্ধে চার্জশিট ED-র

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি ইডির। গ্রুপ সি-তে ১৫-১৬ লক্ষ এবং গ্রুপ ডি-তে ১০-১২ লক্ষ টাকার ‘রেট চার্ট’-এর উল্লেখ।

Aug 25, 2026 - 11:41
0 0
নিয়োগ দুর্নীতি: কোন চাকরির দাম কত? অযোগ্যদের জন্য ছিল 'রেট চার্ট!' পার্থদের বিরুদ্ধে চার্জশিট ED-র

চাকরি পাওয়ারও কি নির্দিষ্ট ‘দাম’ ছিল? স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে ইডি (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দিতে পদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট টাকা নেওয়া হত। গ্রুপ সি পদে চাকরির জন্য দিতে হত ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা, আর গ্রুপ ডি পদে চাকরির ‘দাম’ ছিল ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। এই ‘রেট চার্ট’-এর উল্লেখ রয়েছে ইডির সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে (ED Chargesheet)।

সোমবার এই মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। সেখানে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee), তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee) ছাড়াও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ এবং প্রসন্ন রায়ের নাম রয়েছে। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর বর্তমানে পার্থ ও অর্পিতা দু’জনেই জামিনে মুক্ত। তবে নতুন করে ইডির চার্জশিটে তাঁদের নাম উঠে আসায় মামলাটি ফের চর্চায় এসেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, শুধু টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়াই নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরেও কারচুপি করা হয়েছিল। টাকা দেওয়ার বিনিময়ে প্রার্থীদের র‌্যাঙ্কে বদল করা, অর্থাৎ ‘র‌্যাঙ্ক জাম্প’ করানো হত। এমনকি ওএমআর শিটেও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। প্যানেলের বাইরে নিয়োগ, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নিয়োগ এবং পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে অনিয়মের মতো একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি ইডির।

ইডির দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতির পরিমাণ ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৩০.৪ কোটি টাকা বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। নিয়োগে দুর্নীতির আরও পদ্ধতি ও লেনদেনের তথ্য সামনে এলে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলেও কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করত বলেও চার্জশিটে দাবি করেছে ইডি। মধ্যস্থতাকারী ও দালালদের পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, একজন অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দিতে পদ অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত।

চার্জশিটে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এসএসসি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর তাঁর ব্যাপক কর্তৃত্ব ছিল। সেই সরকারি পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ কেন্দ্রীয় সংস্থার।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে এই মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছিল ইডি। পরে তদন্ত এগোতে থাকায় গত ২০ অগস্ট আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইনের আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। নতুন চার্জশিটে উঠে আসা ‘রেট চার্ট’ এবং নিয়োগ দুর্নীতির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের অভিযোগে ফের একবার তীব্র আলোচনায় এসেছেন পার্থ-অর্পিতারা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User