বাপের বেটা! ১৬ বছর পর বাবার ব্রোঞ্জকে ছাপিয়ে গ্লাসগোয় রুপো ছিনিয়ে নিলেন অজয়
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের ৭৯ কেজি ভারোত্তোলনে মাত্র ১ কেজির জন্য সোনা ফস্কালেন ভাল্লুরি অজয় বাবু। তবে ১৬ বছর আগে বাবার জেতা ব্রোঞ্জকে ছাপিয়ে রুপো জিতে ইতিহাস গড়লেন অন্ধ্রের তরুণ।
মাত্র এক কেজি। আর তাতেই হাতছাড়া সোনা। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) পুরুষদের ৭৯ কেজি ভারোত্তোলনে রুপো জিতলেন ভারতের ভাল্লুরি অজয় বাবু (Valluri Ajaya Babu)।
সোমবার রাতের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের পরতে পরতে উত্তেজনা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বারবার ভাঙল গেমসের রেকর্ড। শেষ হাসি হাসলেন মালয়েশিয়ার এরি হিদায়াত মহম্মদ। তাঁর তোলা ওজন ৩৩১ কেজি। অন্যদিকে, ২১ বছরের তরুণ অজয় তুললেন মোট ৩৩০ কেজি (স্ন্যাচে ১৪৯ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৮১)। ইংল্যান্ডের ক্রিস মারে ৩২৫ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ জিতে নেন।
পারিবারিক উত্তরাধিকার ও বাবার রেকর্ড
অজয়ের এই রুপো জয় নিছক একটি পদক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে গভীর পারিবারিক উত্তরাধিকার। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম জেলার ছোট্ট গ্রাম কোন্ডাভেলাগাডা। যেখানে পাথর তোলার ঐতিহ্য বেশ প্রাচীন। এককথায় ভারোত্তোলনের আঁতুড়ঘরও বলা যায়!
এই গ্রাম থেকেই উঠে এসেছিলেন অজয়ের বাবা ভাল্লুরি শ্রীনিবাস রাও। ২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে ৫৬ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। পেশায় বর্তমানে ফুলচাষি শ্রীনিবাস একসময় আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলক (Indian Weightlifters) ছিলেন। বাবার হাত ধরে ছেলের হাতেখড়ি। ঠিক ১৬ বছর পর সেই গেমসের মঞ্চেই বাবার সাফল্যকে ছাপিয়ে গেলেন অজয়।
রেকর্ড ভাঙাগড়ার স্নায়ুযুদ্ধ
ম্যাচের শুরু থেকেই চরম আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অজয়। স্ন্যাচে প্রথম চেষ্টায় ১৪৫ কেজি তোলেন। দ্বিতীয়বারে ১৪৯ কেজি তুলতে ব্যর্থ হলেও তৃতীয় চেষ্টায় অটুট মানসিক কাঠিন্য। সফলভাবে ১৪৯ কেজি তুলে স্ন্যাচে কমনওয়েলথ গেমসের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি (Weightlifting)। বিরতির সময় মারে (১৪৮ কেজি) এবং মহম্মদের (১৪৭ কেজি) চেয়ে শীর্ষস্থানে এগিয়ে ছিলেন এই ভারতীয় তরুণ।
স্নায়ুযুদ্ধ চরমে ওঠে ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে। সোনা জয়ের লড়াই তখন কার্যত ভারত বনাম মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার মহম্মদ ১৮১ কেজি তুলে নয়া রেকর্ড গড়েন। পালটা দেন অজয়। শেষ চেষ্টায় তিনিও ১৮১ কেজি তোলেন। মোট ৩৩০ কেজি তুলে ফের শীর্ষস্থান দখল করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মহম্মদ তাঁর চূড়ান্ত লিফটে ১৮৪ কেজি তুলে বাজিমাত (CWG 2026)।
সাফল্যের সিঁড়ি ও ভারতের দাপট
আন্তর্জাতিক স্তরে অজয়ের উত্থান চোখে পড়ার মতো। ২০২৫ সালে আমেদাবাদে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৩৫ কেজি তুলে সোনা জিতেছিলেন। গ্লাসগোর টিকিট পাকা হয় সেখানেই। এর আগে ২০২৪ সালে ফিজিতে জুনিয়র এবং সিনিয়র, দুই বিভাগেই সোনা জিতেছিলেন তিনি। গ্লাসগোয় ভারোত্তোলন থেকে ভারতের এটি ষষ্ঠ পদক (Sports News)!
একনজরে ভারতের ৬ পদকজয়ী ভারোত্তোলক:
* মীরাবাঈ চানু — সোনা (মহিলাদের ৪৮ কেজি)
* ভাল্লুরি অজয় বাবু — রুপো (পুরুষদের ৭৯ কেজি)
* জ্ঞানেশ্বরী যাদব — রুপো (মহিলাদের ৫৩ কেজি)
* চানামবাম ঋষিকান্ত সিং — রুপো (পুরুষদের ৬০ কেজি)
* মুথুপাণ্ডি রাজা — রুপো (পুরুষদের ৬৫ কেজি)
* বিন্দিয়ারানি দেবী — ব্রোঞ্জ (মহিলাদের ৫৮ কেজি)
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)