বারুইপুরকাণ্ডে যুক্ত হল গণধর্ষণের ধারা: ধৃত ৩, দুই অভিযুক্তের ১৪ দিনের হেফাজত চাইল পুলিশ
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই যে আশঙ্কা ও দাবি করা হচ্ছিল, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তা-ই সত্যি প্রমাণিত হল। সোমবার আদালতের নির্দেশে এই মামলায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
বারুইপুরে (Baruipur News) ১২ বছরের নাবালিকাকে কেবল খুনই নয়, পাশবিকভাবে গণধর্ষণও (Baruipur Rape And Murder Case) করা হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই যে আশঙ্কা ও দাবি করা হচ্ছিল, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তা-ই সত্যি প্রমাণিত হল। সোমবার আদালতের নির্দেশে এই মামলায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে( Baruipur news today)।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার আদালতে খুনের ধারার পাশাপাশি গণধর্ষণের ৭০ (২) নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই জঘন্যতম অপরাধের নেপথ্যে থাকা সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সাজাতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করছে। ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট তিন জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
ধৃতদের মধ্যে দু'জনকে সোমবারই আদালতে হাজির করানো হয়। ঘটনার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর চক্র এবং অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানতে ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। সোমবারই এই কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তৃতীয় আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত এই তৃতীয় ব্যক্তিকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে।
বারুইপুরের নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ধৃত দুই মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে সোমবার বারুইপুর আদালতে হাজির করে পুলিশ। এই মামলাটিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে বর্ণনা করে ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। অন্য দিকে, মামলায় নতুন করে পকসো (POCSO) আইন যুক্ত হওয়ায় এর শুনানির এক্তিয়ার নিয়ে আদালতের অন্দরেই আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সোমবার বারুইপুর আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী আদালতের সামনে স্পষ্ট করে দেন যে, এটি কোনও সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি মামলা। তদন্তকে যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছে দিতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি। হেফাজতে নেওয়ার পক্ষে সরকারি কৌঁসুলি মূলত দুটি প্রধান যুক্তি খাড়া করেছেন:
ফরেনসিক ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা: অপরাধের অকাট্য যোগসূত্র প্রমাণ করতে ঘটনাস্থল থেকে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করা বাকি রয়েছে এবং সেগুলির বিশদ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
তথ্য-প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা: এই মুহূর্তে অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে রেখে জেরা না করা হলে, মামলার বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ নষ্ট বা উধাও হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
নির্যাতিতা নাবালিকা হওয়ায় এই মামলায় ইতিমধ্যেই পকসো (POCSO) ধারা যুক্ত করেছে পুলিশ। আর এই ধারা যুক্ত হওয়ার পরেই সোমবার বারুইপুর আদালতে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, পকসো আইনের ধারা যুক্ত হওয়ার পর এই মামলাটির শুনানি কি আর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM)-এর আদালতে হওয়া সম্ভব? নাকি এটি বিশেষ পকসো আদালতে স্থানান্তরিত করা হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার শুনানির সময় ধৃত প্রভাস মণ্ডল কিংবা দিবাকর সর্দারের পক্ষে সওয়াল করার জন্য কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দু'পক্ষের বক্তব্য শোনার পর (অভিযুক্তদের আইনজীবী না থাকায় মূলত সরকারি পক্ষের সওয়াল শেষে) দুই অভিযুক্তের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করা হবে কি না, সেই সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশ বা অর্ডার আপাতত সংরক্ষিত (Reserved) রেখেছে বারুইপুর আদালত।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)