মেধা আছে, কাজ কোথায়? বাংলা কীভাবে ৫০ হাজার কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছবে: রূপরেখা পাই–ঘোষের

পশ্চিমবঙ্গের আসল শক্তি তথা মেধা ও উৎকর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গাটাও বেশ মজবুত। আইআইটি খড়্গপুর, আইআইএসইআর কলকাতা, আইএসআই কলকাতা, আইআইইএসটি শিবপুর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক ভাবে সমাদৃত প্রতিষ্ঠান এই রাজ্যে রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান, গণিত, জৈবপ্রযুক্তি ও গবেষণায় তারা শক্ত ভিত তৈরি করেছে।

Oct 27, 2026 - 17:00
মেধা আছে, কাজ কোথায়? বাংলা কীভাবে ৫০ হাজার কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছবে: রূপরেখা পাই–ঘোষের

শুধু পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বৃদ্ধির ভরকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে তো ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব নয়। পূর্ব ভারতকেও সেই অগ্রযাত্রার শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে হবে। দিল্লির সরকারের ‘পূর্বমুখী’ বা ‘গো ইস্ট’ ভাবনায় ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব সেই প্রয়োজনেরই প্রতিফলন। পূর্ব ভারতের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান তাই এ ব্যাপারে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মেধা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, পণ্য পরিবহণ এবং উদ্ভাবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই রাজ্য। ভারতের বৌদ্ধিক, বৈজ্ঞানিক ও শিল্পভিত্তি নির্মাণে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরে আজ পশ্চিমবঙ্গের সামনে সুযোগ এসেছে—শুধু সেই ঐতিহ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের নয়, ভারতের পরবর্তী আর্থিক উত্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠারও।

বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর পরিবর্তন ঘটছে। উৎপাদনের চিরাচরিত কেন্দ্রগুলির বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে সরবরাহ ব্যবস্থা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দিচ্ছে শিল্পের কাজের ধরন। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খুলে দিচ্ছে বিনিয়োগের নতুন দরজা। পাশাপাশি, কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হয়ে উঠছে বঙ্গোপসাগরীয় এলাকা। এই পরিস্থিতিতে যে অঞ্চল বিশ্বমানের মেধা, উদ্ভাবনের ক্ষমতা এবং উদ্যোগ গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশকে এক জায়গায় আনতে পারবে, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বড় অংশই সেখানে যাবে। বাংলায় এই উপাদানগুলির অনেকটাই রয়েছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত সেগুলির পরিসর বাড়িয়ে সুযোগটি কাজে লাগানো।

পশ্চিমবঙ্গের আসল শক্তি তথা মেধা ও উৎকর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গাটাও বেশ মজবুত। আইআইটি খড়্গপুর, আইআইএসইআর কলকাতা, আইএসআই কলকাতা, আইআইইএসটি শিবপুর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক ভাবে সমাদৃত প্রতিষ্ঠান এই রাজ্যে রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান, গণিত, জৈবপ্রযুক্তি ও গবেষণায় তারা শক্ত ভিত তৈরি করেছে।

তবে এও ঠিক, উৎকর্ষের এই পরিসর মূলত কলকাতা ও খড়্গপুরকে ঘিরেই কেন্দ্রীভূত। উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-ইঞ্জিনিয়ারিং-গণিত বা স্টেম শিক্ষায় অংশগ্রহণ, ভবিষ্যতের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং গবেষণাকে ব্যবসায়িক প্রয়োগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য এখনও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ার উপযুক্ত স্তরে পৌঁছয়নি।

রাজ্যে বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ২৪.৫ লক্ষ। উচ্চশিক্ষায় সংশ্লিষ্ট বয়সের জনসংখ্যার অংশগ্রহণের অনুপাত বা গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিয়ো (জিইআর) ২৪.৬ শতাংশ। স্টেম শিক্ষায় (STEM অর্থাৎ Science, Technology, Engineering, and Mathematics) আসন রয়েছে প্রায় ৮১ হাজার। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও সাইবার নিরাপত্তায় চিহ্নিত আসন মাত্র প্রায় ৪,৬০০। ভারতের অগ্রণী উদ্ভাবনকেন্দ্রগুলির তুলনায় এই ঘাটতি যথেষ্ট বড়। তবে সমস্যাটি শুধু শিক্ষার আসনসংখ্যা নিয়ে নয়। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছে দিতে যে ক্ষেত্রগুলি নেতৃত্ব দেবে, সেগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী মানবসম্পদ গড়ে তোলাই আসল চ্যালেঞ্জ।

এই লক্ষ্যে পাঁচটি ক্ষেত্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ: উন্নত উৎপাদন ও ইন্ডাস্ট্রি ৪.০; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল পরিষেবা ও গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার বা জিসিসি; জীববিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য পরিষেবা; পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু প্রযুক্তি; এবং কৃষিপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পণ্য পরিবহণ। কলকাতা–নিউ টাউন, খড়্গপুর, দুর্গাপুর–আসানসোল, কল্যাণী, হলদিয়া এবং উত্তরবঙ্গে গড়ে ওঠা বর্ধিষ্ণু করিডরগুলি উদ্ভাবন, উৎপাদন ও রফতানির কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এই ক্ষেত্রগুলিতে প্রয়োজন হবে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার, এআই বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চিকিৎসক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, খাদ্যপ্রযুক্তিবিদ, সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনার বিশেষজ্ঞ এবং উন্নত প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত কর্মীর। অর্থাৎ বাংলার অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত হবে তার মানবসম্পদ।

এর জন্য শিক্ষাকে দেখার চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। গ্রহণ করতে হবে অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যে মানবসম্পদ গড়ার একটি সুসংহত মিশন।

২০৩৪ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় পড়ুয়ার সংখ্যা বর্তমানের ২৪.৫ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪২–৪৫ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা উচিত। একই সঙ্গে জিইআরকে এগিয়ে নিতে হবে ৫০ শতাংশের দিকে। ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের উপযোগী স্টেম শিক্ষায় আসনসংখ্যা বাড়িয়ে করতে হবে ১ লক্ষ ২৫ হাজার থেকে দেড় লক্ষ। আরও জরুরি হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত উৎপাদন এবং নতুন প্রযুক্তিকে কয়েকটি বিশেষায়িত পাঠক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমস্ত স্টেম পাঠক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা।

সাফল্যের জন্য স্টেম শিক্ষার সম্প্রসারণে দু’টি পথে একসঙ্গে হাঁটতে হবে। প্রথমত, চালু সরকারি ও বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্টেম প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো ও ক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাদের পাঠক্রম এবং পঠনপাঠনের পদ্ধতিকে ভবিষ্যতের প্রয়োজন অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এমন করিডরগুলিতে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র অনুযায়ী নতুন ক্যাম্পাস তৈরি করতে হবে—কোথাও এআই, কোথাও উন্নত উৎপাদন, জৈবপ্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বা কৃষিপ্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে।

সুনির্দিষ্ট রোড শো এবং বিনিয়োগে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের ও বিদেশের অগ্রণী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে রাজ্যে আনতে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বৃদ্ধির করিডরগুলির সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যৌথ কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।

তবে শুধু মেধাবী ও দক্ষ মানুষ তৈরি করলেই ৫০ হাজার কোটি ডলারের অর্থনীতি গড়ে উঠবে না। বাংলার আসল সাফল্য নির্ভর করবে জ্ঞানকে উদ্ভাবনে, উদ্ভাবনকে মেধাসম্পদে এবং সেই মেধাসম্পদকে উদ্যোগ ও কর্মসংস্থানে বদলে দেওয়ার ক্ষমতার উপর।

দেশের সেরা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণাকেন্দ্র বাংলায় থাকা সত্ত্বেও, এখানকার মেধার সম্ভাবনার তুলনায় পেটেন্ট, প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইসেন্স, গবেষণা থেকে তৈরি নতুন সংস্থা এবং বিনিয়োগপ্রাপ্ত মৌলিক প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপের সংখ্যা কম। উৎকৃষ্ট গবেষণা অনেক সময় পরীক্ষাগার ও গবেষণাপত্রেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। তা পণ্য, সংস্থা বা শিল্পের রূপ নেয় না।

তাই আগামী দশকে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক প্রয়োগে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

প্রতিটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রয়োজন হবে কোনও ধারণা বাস্তবে কাজ করে কি না, তা যাচাইয়ের প্রাথমিক অর্থায়ন, পেটেন্ট পেতে সহায়তা, উদ্ভাবনের অনুদান এবং বাজারে পৌঁছনোর স্পষ্ট পথ তৈরির। শিক্ষক ও গবেষকদের উৎসাহিত করতে হবে শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য নয়; পেটেন্ট, স্টার্টআপ তৈরি, প্রযুক্তির লাইসেন্স দেওয়া এবং শিল্পের সঙ্গে যৌথ কাজের জন্যও। আগামী দশকে বাংলায় পেটেন্ট, প্রয়োগমুখী গবেষণা, নতুন উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সাফল্য কয়েক গুণ বাড়ানোই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

এই রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বিশ্বমানের একটি বেঙ্গল এআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্স বা এআই উৎকর্ষকেন্দ্র।

এআই গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, শিল্পে উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রকে রাজ্যের প্রধান মঞ্চ হয়ে উঠতে হবে। দেশের এআই অ্যালায়েন্স, আর্টপার্ক ও Bharat1.AI-এর মতো উদ্যোগ এবং এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ব্রিটেনের অ্যালান টিউরিং ইনস্টিটিউট ও এআই সিঙ্গাপুরের মতো অগ্রণী আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এটি গড়ে উঠতে পারে। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো, গবেষকদের প্রশিক্ষণ, এআই-এর অগ্রবর্তী ক্ষেত্রে উদ্ভাবনে সহায়তা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো হবে এর কাজ।

উদ্যোগ গড়া এবং উদ্ভাবনকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা একটি মঞ্চও সমান জরুরি। সেই ভূমিকায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে ‘বেঙ্গল কম্বিনেটর’।

বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনকিউবেটরগুলি নতুন ধারণাকে লালন করে। ওয়াই কম্বিনেটরের আদলে গড়ে ওঠা বেঙ্গল কম্বিনেটর সেই উদ্ভাবনকে বড় ব্যবসায় পরিণত করার মাঝের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিউবেটরগুলির বাণিজ্যিক প্রয়োগের সহযোগী হিসেবে এটি নতুন উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতাদের সফল উদ্যোক্তা, শিল্পনেতা ও বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। দেশের ও বিদেশের বাজারে পৌঁছতে সাহায্য করতে পারে। বিনিয়োগের সঙ্গে স্টার্টআপগুলির সংযোগ ঘটাতে পারে। সর্বোপরি, পরীক্ষাগারের আবিষ্কার থেকে বাণিজ্যিক সাফল্যে পৌঁছনোর কঠিন পথে মৌলিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলির পাশে থাকতে পারে।

সিলিকন ভ্যালি ও বস্টন থেকে ইজরায়েল ও সিঙ্গাপুর—বিশ্বের সফল উদ্ভাবনকেন্দ্রগুলি এই ধারাবাহিক যোগসূত্রের উপরেই সমৃদ্ধি গড়েছে। বাংলাকেও তার নিজস্ব শক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোগের সম্ভাবনাকে ভিত্তি করে নিজের উপযোগী ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সফল বাঙালিদের সঙ্গে নিয়মিত ও সুসংগঠিত যোগাযোগের মঞ্চ গড়া প্রয়োজন। বিশিষ্ট শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও শিল্পনেতাদের আহ্বান জানাতে হবে—পরামর্শদাতা হিসেবে, অতিথি শিক্ষক হয়ে, যৌথ গবেষণায়, স্টার্টআপের পাশে দাঁড়িয়ে, জনহিতকর অনুদান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলার উন্নয়নে অংশ নিতে।

আগামী দশক বাংলার সামনে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সুযোগ এনে দিচ্ছে। বাংলা কি এমন মেধা তৈরি করেই যাবে, যার কাজের সুফল পাবে অন্য জায়গা? নাকি রাজ্যের ভিতরেই সেই মেধাকে ধরে রাখার, বিকশিত করার এবং তার জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে সফল উদ্যোগে রূপ দেওয়ার পরিবেশ গড়বে?

লক্ষ্যটি শুধু ২০৩৪ সালের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছনোর চেয়েও বড়।

লক্ষ্য হল, গবেষণা, উদ্ভাবন, উদ্যোগ এবং উচ্চদক্ষ মানবসম্পদের ক্ষেত্রে বাংলাকে পূর্ব ভারতের অগ্রণী কেন্দ্র হিসেবে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর ভিত নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা। এই পরিকল্পনা সফল ভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলার আগামী নবজাগরণ অতীতের গৌরবের স্মৃতিতে ভর করে আসবে না। তা আসবে ভবিষ্যৎ নির্মাণের মেধা, প্রযুক্তি ও উদ্যোগ তৈরি করার ক্ষমতা থেকে।

লেখক: মোহনদাস পাই চেয়ারম্যান, আরিন ক্যাপিটাল ও থ্রিওয়ানফোর ক্যাপিটাল এবং শোভা মিশ্র ঘোষ, প্রিন্সিপাল পার্টনার, ইনসাইট৮ কালেক্টিভ

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0