রাষ্ট্রসংঘে ফের কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে খোঁচা, পাকিস্তানের হয়ে ব্যাটিং এরদোয়ানের, সরব দিল্লি

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুললেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে সওয়াল, কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি।

Sep 23, 2026 - 13:32
0 0

নিউইয়র্কে শুরু হওয়া রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ভাষণে বেশ কয়েকবার কাশ্মীর বিষয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সনদ মেনে কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার দাবি তুলেছেন এরদোয়ান।

তবে এবারই প্রথম নয়। ‌ সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার তিনি কাশ্মীর প্রসঙ্গ এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থাপন করেছেন। ভারতীয় সময় বুধবার ভোররাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কাশ্মীর প্রসঙ্গ ভাষণে উত্থাপন করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

ভাষণে এরদোয়ান বলেন, 'দক্ষিণ এশিয়ায় কাশ্মীর সমস্যাসহ সকল বিরোধ জাতিসংঘ সনদ ও প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনার কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।

লক্ষণীয় হল, ভারতের ধারাবাহিক আপত্তি সত্ত্বেও এরদোয়ান সাম্প্রতিক অতীতে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করতে বারবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চ ব্যবহার করছেন। কূটনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার কারণেই এরদোয়ান কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৌশলগতভাবে উত্থাপন করছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও একটি বিষয়ে উল্লেখ করছেন। একাংশের বক্তব্য কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে ভারতকে বিপাকে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে এখন অন্য দেশকে ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অন্যান্য কৌশলগত বোঝাপড়ার সুবাদে কাশ্মীর প্রসঙ্গ ওই দেশকে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থাপন করানো হচ্ছে।

কাশ্মীর ছাড়াও এরদোয়ান গাজা নিয়ে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের মর্যাদার পুনর্নবীকরণ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের কথা বলেছেন।

এরদোয়ান ভাষণে টানা দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রসংঘের এই অধিবেশনে যোগ দিতে না পারা প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, তুরস্ক প্যালেস্টাইনের জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে যাবে। গাজার পরিস্থিতির প্রসঙ্গে এরদোয়ান ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন এবং সেখানকার মানবিক পরিস্থিতিকে 'মর্মান্তিক' বলে বর্ণনা করেন।

তবে দীর্ঘ ভাষণে তাঁর কাশ্মীর প্রসঙ্গে মন্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে, ভারত ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পরপরই সরব হন তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান। ওই বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের ৭৪ তম সাধারণ অধিবেশনে এরদোয়ান বলেন, 'দুর্ভাগ্যবশত, ৮০ লাখ মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ এবং তারা কাশ্মীরের বাইরে পা রাখতে পারছেন না।' তিনি আরও বলেন, 'বিগত ৭২ বছর ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিরোধের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।'

এরদোয়ানের সেই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছিল নয়া দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার তুরস্ক সফর বাতিল করেন এবং দেশটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে শুরু করে নয়াদিল্লি। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে,  তুরস্কের উচিত অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা।

কিন্তু তাতে না দমে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে এরদোয়ান কাশ্মীর নিয়ে কথা বলা অব্যাহত রাখেন। ২০২১-এ তিনি কাশ্মীরকে '৭৪ বছরের চলমান সমস্যা' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং  'কাশ্মীরিদের আকাঙ্ক্ষা' প্রতিফলিত করে এমন একটি সমাধানের আহ্বান জানান। গত বছর অপারেশন সিঁদুরের পরও রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

এদিকে, ভারত ফের এরদোয়ানের
মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, এরদোয়ানের মন্তব্য 'ইতিহাস ও কূটনীতির কোনও বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়। নয়াদিল্লি আরও বলেছে, এ ধরনের হস্তক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত বলেছে, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাষ্ট্রসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন বিধি বহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছে নয়া দিল্লি। ভারতের বক্তব্য এটি নিছকই একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User